পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এলাম i* শনিয়া বকটা একেবারে হালকা হইয়া গেল। অবিনাশের বন্ধিকৌশলকে মনে মনে শত ধন্যবাদ দিলাম। এত খসোঁ হইলাম—আজ যদি সে অবিবাহিত থাকিত, আমি তাহাকে নিজ জামাতা করিবার প্রস্তাব করতাম। সে উপায় না থাকায়, রাত্রে খাইবার জন্য তাহাকে নিমন্ত্ৰণ করিলাম—এবং অন্তঃপরে প্রবেশ করিয়া পোলাও রাঁধাইবার বন্দোবস্ত করিয়া আসিলাম । - বসিয়া বসিয়া দুইজনে নানা বিষয়ে কথাবাত্ত হইতে লাগিল। পশ্চিমভ্রমণ সম্বন্ধে তাহার সাহায্যে একটি প্রোগ্রামও পিথর করিয়া ফেলিলাম। দেখিলাম, তাহারও ষোল অ্যানা ইচ্ছা—আমার সঙ্গে যায়। বলিলাম “তুমিও যাবে?” সে বলিল-“যাবার ত খুবই ইচ্ছে। কিন্তু পাথেয় নাস্তি।” আমি উৎসাহের সহিত বলিলাম—“কুছ পরোয়া নেই। খরচ আমার। তুমি চল।” পরদিন বম্বে মেলে যাত্রা করিব, পিথর রহিল। তৃতীয় পরিচ্ছেদ - যাত্রা কারবার সময় ছোট খকেী হচিল। আমি আবার বসিয়া, নিঃশেষিত হংকাটি মখে দিয়া টানিতে লাগিলাম। ব্রাহ্মণী বলিলেন—“ও কিছ নয়—সদির হচি।” আপিসের সম্মখে গাড়ী দাঁড়াইয়া আছে। জিনিসপত্র উঠিয়াছে। আমি আবার যাত্রা করিয়া বাহির হইলাম। সিড়ি নামিবার সময় ছাতার বাঁটটা গেল কপাটের আংটায় আটকাইয়া! আবার ফিরিয়া গিয়া বসিলাম। এক গেলাস জল খাইলাম। দুইটা পাণ মুখে দিলাম। দিয়া, দগণ দাগ বলিয়া সাবধানে বাহির হইয়া, গাড়ীতে চড়িলাম। আমার পাচক চক্ৰবৰ্ত্তী ঠাকুর বৃহৎ এক ক্যাবিসের ব্যাগ হাতে করিয়া কোচবক্সে গিয়া বসিল। གླུ་ཨ་ལ་ ཨ་ལ་ཝ་ཛིའ། অবিনাশ বাড়ী হইতে সোজা স্টেশনে গিয়া যটিবে, পরামর্শ } টিকিট পাবেই কেনা ছিল। মধ্যম শ্রেণীতে গিয়া আরোহণ করিলাম। অবিনাশ উপরের বাকে উঠিয়া নিদার আয়োজন করিল। আমি নীচের বেষ্টিতে মলনেমুখে বসিয়া রছিলাম। মনটা বড় জল ছিল না। এক ত গহ ছাড়িয়া কোথাও যাইতে হইলেই বাঙ্গালীর মন খারাপ হইয়া যায়। তাহার উপর যাত্রাকালে দুই-দুই বার বাধা পড়িল। ভাবিতে লাগিলাম—কি অদটে আছে, ভববানই জানেন। হয়ত নতেন তালিকায় আমার নাম উঠিয়াছে—সেই বিদেশ হইতেই ছোঁ মারিয়া আমায় তুলিয়া লইয়া যাইবে। বেণীমাধববাব হয়ত অবিনাশের সঙ্গে ছলনা করিয়াছেন—আমার ও আমার কাগজ সম্বন্ধে যে অজ্ঞতার পরিচয় দিয়াছেন—তাহা অভি কিংবা হয় ত বড়সাহেব স্বয়ং স্বহস্তে গোপনে এ সকল বিষয় লেখালিখি করিতেছেন-বড়বাবকে জানিতে দেন নাই। তাহাই যদি না হইবে, তবে খাকীই বা হাঁচিবে কেন—এবং ছাতা আটকাইয়া যাইবারই বা কারণ কি ? ভাবিয়াই বা ফুল কি ? অদৃষ্ট ছাড়া ত পথ নাই—অদস্টে যাহা আছে, তাহাই হইবে। এই বলিয়া মনকে বুঝাইতে চেষ্টা করিলাম। কিন্তু দুশ্চিন্তা কিছুতেই ছাড়িল না। পরদিন প্রাতে গয়ায় নামিলাম। সেখানে দুই দিন থাকিয়া, পিতৃকাৰ্য্য সম্পন্ন করিয়া এলাহাবাদ যায়া করিলাম। এলাহাবাদে বেণীঘাটে নান করিয়া, অক্ষয়বট দেখিয়া, সহর প্রদক্ষিণ করিয়া, তৃতীয় দিন স্বিপ্রহরের পাঞ্জাব মেলে কাণপরে যাত্রা করিলাম। কাণপরে দই তিন দিন থাকিয়া আগ্রায় যাইব। এলাহাবাদে একজন অগ্রায় তোতারামের হোটেলের কথা আমাকে বলিয়া দিয়াছিল। ছাড়িবার পবে কলিকাতায় আমার ম্যানেজারকে লিখিয়া দিলাম—জুয়ারি চিঠিপত্র যেন অগ্ৰায় তোতারামের হোটেলের ঠিকানায় পাঠাইয়া দেয়— সেখানে তিন চাাঁর দিন অবস্থান করিব। - 4רצ