পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হবে না। সে সব হবে টবে না।” অনেক মিনতি, অনেক সাধাসাধি, অনেক মান অভিমানের পর সনীতি বলিল, “আচ্ছা ঘরে পরে দেখি কেমন দেখায়, তার পরে বলব।” আহারাদির পর সবোধ দইটা তোরঙ্গ শয়নকক্ষে আনাইয়া লইল। সে দইটার ভিতর সনীতি ও সবোধের দই সন্ট সাহেবী পরিচ্ছদ। সনীতি বলিল—“তুমি আগে সাহেব সাজ।” সবোধ বলিল—“আমার সাহেবী বেশ তুমি কখনও দেখনি নাকি ?” সনীতি বলিল—“না, তব সাজ। দেখে আমার ভরসা হোক।” সবোধ সাহেব সাজিল। এইবার সনীতির পালা। সনেীতি অনেক মেম দেখিয়াছিল বটে, এবং মেম শিক্ষয়িত্রীর কাছে কিছুদিন লেখাপড়াও শিখিয়াছিল, কিন্তু কোথায় কি পরিতে হয়, তাহা অত লক্ষ্য করে নাই। যাহা হউক তথাপি পাশের ঘরে গিয়া আন্দাজি এক রকম করিয়া পরিয়া আসিল। যা কিছু ভুলচক ছিল, সবোধও আন্দাজে সংশোধন করিয়া দিল । সনীতির সভজা সমপণ হইলে, সবোধ সসম্প্রমে তাহাকে বলিল—“গড় মণিং মেম সাহেব।” সনীতি হাসিয়া আকুল। সেও বলিল—“গড় মণিং সাহেব সাহেব।” তাহার পর দুইজনে দপণের সম্মুখে গিয়া দাঁড়াইল । সোণার হলকরা ফ্রেমে অটিা প্রশস্ত মকুর ভিত্তিগাত্রে লবিত ছিল। তাহাতে সনৌতির প্রতিবিম্ব দেখিয়া সবোধ হা হা করিয়া হাসিয়া উঠিল। সনীতিও হি হি করিয়া তাহার সহিত যোগ দিল । মানুষকে যেমন ভূতে পায়, আজ সকালে তেমনি এই দুইটা প্রাণীকে যেন হাসিতে পাইয়াছে। সনীতি হাসিয়া হাসিয়া বলিল—“এ বেশে আমি বাইরে যেতে পারব না, তুমি ঘাই বল । ঝি চাকুরেরাই বা কি মনে করবে !” সবোধ বলিল—“এক কাষ করা যাবে। বাড়ী থেকে শাড়ী পরে বেরবে। ট্রেণে পোষাক বদলে নিলেই হবে। একটা কামরা রিজাভ করে নেব এখন।” সনেীতি বলিল—“সে পরামশ মন্দ নয়। কিন্তু আমার ভারি লজা করচে। কায নেই আমার থিয়েটারে গিয়ে, যেমন আছি তেমনি থাকি।” সবোধ স্ত্রীর চিবুক ধরিয়া আদর করিয়া বলিল—“আমার এত দিনের সাধ তুমি পুণ’ করবে না ?” দই ঘণ্টা পর হুগলি টেশনে আসিয়া সনেীতি ও সবোধ রিজাভ করা সেকেণ্ড ক্লাস কক্ষে আরোহণ করিল। গাড়ী ছাড়িয়া দিল। সবোধ গহে হইতেই সাহেবী পোষাক পরিয়া আসিয়াছিল। গাড়ী ছাড়িবামাণ্ড গনীতিকে সে সবহস্তে বিবি সাজাইয়া দিল। কেবল জুতার লেস সনেীতি নিজে বধিল, সবোধকে কিছুতেই বাঁধিয়া দিতে দিল না। সনীতির শাড়ী ও বাহুল্য অলঙ্কারাদি তোয়ণ্ডেগ বন্ধ করিয়া রাখিল । সেখানা প্যাসেঞ্জার গাড়ী। প্রত্যেক টেশনে থামিয়া থামিয়া চলিতেছে। গাড়ী tাড়িয়া দিলে সনেীতি স্বামীর পাবে বসিয়া বাহিরের দশ্য অবলোকন করে, স্টেশনের শিকটবত্তী হইলেই পলাইয়া ও-কোণে গিয়া বসে, সবোধ কিছতেই তাহাকে ধরিয়া রাখতে পারে না। গাড়ীর ছাদে যেখানে লন্ঠনের গহবর সেখানে চারিপাশে চারিখানা আশির hকরা অটিা আছে, সেই আশিতে সনেীতি নিজের প্রতিবিম্ব দেখে আর সবোধের পানে bাহিয়া ফিক ফিক করিয়া হাসে। এক একবার বলে—“খুব সঙ সাজালে যা হোক *-Hাগো-মাগো ! এতও তোমার আসে :” যখন হাওড়ায় আসিয়া গাড়ী থামিল, তখন ঠিক সন্ধা হইয়াছে । আধ ঘণ্টার মধ্যে uিtাটার আরম্ভ হইবে। * Y