পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করেছি। পলিস-ক্যাপের দাগ। ওদের সরকারী টপোগলো ভারি টাইট হয় !” என்" নিমন্তব্ধ হইয়া রহিলাম। একট পরে বলিলাম—“আমাকেই ধরতে এসেছে - ייה “হতে পারে-নাও হতে পারে। পলিসের লোক কি আর পশ্চিমে বেড়াতে আসে না ?--তাজমহল দেখে না ?” আমি মনকে বুঝাইবার ছলে বলিলাম—“বেড়াতেই এসেছে বোধ হয়—কি বল অবিনাশ ?” সে গভীরভাবে বলিল “আশ্চয্য কি !” সঙ্গে সঙ্গে দেখিলাম—লোকটা আবার বাগানে গিয়াছে। অবিনাশের গা টিপিয়া ইসারা করিরা তাহাকে দেখাইলাম । লোকটা এক পথানে দাঁড়াইয়া একদটে তাজমহলের দিকে চাহিয়া রহিল। পরে দটি উদ্ধের আরও উদ্ধের তুলিয়া, একে একে মিনারেটের মস্তকগুলি নিরীক্ষণ করিতে লাগিল । ক্রমে পকেট হইতে বাইনকুলার দরবীণ বাহির করিয়া আমাদের প্রতিই লক্ষ্যস্থাপন করিল। তাহার এই আচরণে আমি শিহরিয়া উঠিলাম। অবিনাশ বলিল—“গতিক ভাল নয়।” গতিক যে ভাল হইবে না—যখন খুকী হাঁচিয়াছিল, আমি তখনই জানিতে পারিয়া क्किळश ! আমার যেন কান্না পাইতে লাগিল —“কি করা যায় হে ?”—বলিয়া আমি অবিনাশের হাত চাপিয়া ধরিলাম। “এখানে বসে থাকি আসন। ও লোকটা চলে গেলে তখন আমরা নামব।” লোকটা বেশীক্ষণ রহিল না। মিনিট দশ পনেরো ঘরিয়া ফিরিয়া বেড়াইয়া, ফটক দিয়া বাহির হইয়া গেল। আমরা অন্ধ ঘণ্টা কাল অপেক্ষা করিয়া, নামিলাম। ফটকের বাহির হইয়া গাড়ীর নিকটে গিয়া দেখি, কোচম্যান কোচবাক্সে হেলান দিয়া ঘামাইয়া পড়িয়াছে। তাহাকে জাগাইয়া, এৎমাদ যাইতে আজ্ঞা দিয়া আমি গাড়ীতে উঠিতেছি—এমন সময় দেখি, নিকটস্থ ছবির দোকান হইতে খানকতক ছবি হাতে করিয়া লোকটী বাহির হইল। গাড়ী ছটিল। মনে মনে আশা করিতে লাগিলাম, ও বোধ হয় তামাদের দেখিতে পায় নাই। অবিনাশকে অন্যমনস্ক দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম “কি ভাবছ হে ?” সে বলিল—“কপালে দাগ আছে বলেই যে পলিসের লোক—এমন কিছু স্থিরতা নেই। যারা ইংরাজি কোট প্যান্টালনে পরে, শক্ত হ্যাট মাথায় দেয়, তাদেরও কপালে ও রকম দাগ হয়ে যায় ! সেই কথা তামি ভাবছিলাম।” “তবে বাইনকুলার কষে আমাদের দেখছিল কেন ?” “আমাদের দেখছিল কি তাজমহলের শোভা দেখছিল, তাই বা কে জানে ?” “হতে পারে।”—বলিয়া আমিও গম্ভীর হইযা বসিয়া রহিলাম। অন্ধ ঘণটা পরে এৎমাদে পেপছিয়া, দেখিয়া বেড়াইতেছি—এমন সময় পশ্চাতে জনতার শব্দ পাইয়া ফিরিয়া দেখিলাম—সেই মত্তি। বকটা ধড়াস করিয়া উঠিল। এবার লক্ষ্য করিলাম—অবিনাশ যাহা বলিয়াছে, তাহাই-কপালের উদ্ধাদেশে একটি পরিকার লাল গোল দাগ রহিয়াছে। অবিনাশের পর্যারেক্ষণ শক্তিতে চমৎকৃত হইলাম। সরিয়া সরিয়া লোকটার নিকট হইতে দরে চলিয়া গেলাম। এৎমাদের গঠন-সৌন্দৰ্য্য, কারকোষ", কিছই আর ভাল লাগিল না। অবিনাশকে বললাম—“চল হে বাসায় যাই।” “চলন।”—বলিয়া অবিনাশ আমার পশ্চাবত্তী হইল। যখন ফটক পার হইতেছি, তখন একবার পিছ ফিরিয়া চাহিলাম-দেখিলাম, লোকটা এৎমাদের বারান্দায় দাঁড়াইয়া আমাদের পানে একদম্পেট চাহিয়া আছে। গা টিপিয়া অবিনাশকে বলিলাম—“কি হে কিসের শৈাভা দেখছে ?” »ፃፃ