পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ত ? আমরা পালাচ্ছি ভেবে ও যদি তাকে খবর দেয় ?” অবিনাশ বলিল—“সন্দেহ স্বতে না হয় তার উপায় আমি করছি। ব্যাগটা আমার হাতে দিন”—বলিয়া বার খালিয়া বাহির হইল। হোটেলওয়ালাকে ডাকিয়া হিন্দীতে বলিল--"ওহে, ক্ষুধায় যে নাড়ী আমাদের চেী চোঁ করিতেছে। এই ব্যাগটায় ভরিয়া কিছ: লচোঁটচাঁ কিনিয়া আনিব ভাবিতেছি—তা অত রাত্রে খাবারের দোকান খোলা পাওয়া যাইবে কি ?” হোটেলওয়ালা বলিল—“হাঁ বাব পাইবেন বইকি।” “আচ্ছা, যাই দুজনে গিয়ে খাবার কিনিয়া আনি। তোমাদের দরজা কখন বন্ধ হয় ?” “রাত্রি এগারোটার গাড়ীতে কোনও যাত্রী আসে কি না দেখিয়া তবে আমরা দরজা বন্ধ করি।” "আচ্ছা—তার অনেক আগেই আমরা আসিব। দেখিও বাপন—আমরা ফিরিবার পর্বে যেন দরজাটি বন্ধ করিয়া দিও না। বিদেশ বিভূ-ই-বিঘোরে যেন মারা না যাই।” “না বাব-আপনারা নিশ্চিত থাকুন। এগারোটর আগে দরজা বন্ধ হইবে না।" বাহির হইয়া, মোড়ে পেপছিয়া, এক্কা ভাড়া করিয়া সিটি টেশনে উপস্থিত হইলাম । টিকিট কিনিয়া প্লাটফমে ঢাকতেই গাড়ী আসিয়া দাঁড়াইল। অবিনাশ বলিল—“ভয় মধ্যম শ্রেণীর গাড়ীটা একটু দরে গিয পড়িয়াছিল। আমি অগ্রে, অবিনাশ পশ্চাতে, সেই দিকে পদচালনা করিলাম। কাছাকাছি দেখি, লন্ঠনের নিrেন দাঁড়াইয়া, সেই ভীষণ ਸ਼ੈ। সে আমার দিকে কটমট করিয়া একবার চাহিয়া, নিমেষের মধ্যে আমার কাছে আসিয়া বলিল “মাফ করবেন—আপনিই কি মনতোষবাবা ?” অস্বীকার করিবার উপায় নাই। আজ প্রভাত হইতে বেলা বিপ্রহর পর্যন্ত আমার ভাল করিয়াই চিনিয়া লইয়াছে। ভাবিলাম পাছে পালাই—তাই ট্রেণের সময়েও প্ল্যাটফমে" পাহারা দিতেছে! পশ্চাৎ ফিরিয়া দেখিলাম--অবিনাশ অদশ্য। হায়. এই নরাধমের উপর আমি আমার মন্ত্রী পত্র কন্যার ভার অপর্ণ করিয়াছিলাম । আমায় নিরক্তর দেখিয়া লোকটা পনবার বলিল-“আপনিই কি মনতোষবাবাআয"শক্তির সম্পাদক ?” আমি তাহার মখের পানে শনাদটিতে চাহিয়া বলিলাম—“হ্যাঁ।”—আমার মাথা বন বন করিয়া ঘুরিতে লাগিল—দেহ অবশ হইয়া আসিল। তাহার পর লোকটি কি বলিল, বুলিতে পারলাম না। চোখে অন্ধকার দেখিয়া সংজ্ঞাশন্য হইলাম। > - জ্ঞান হইলে দেখিলাম, ওয়েটিং রমের টেবিলের উপর শইয়া রহিয়াছি, আমার দেহ জলে ভিজিয়া গিয়াছে। এক দিকে অবিনাশ, অপর দিকে সেই লোকটি, দড়িাইয়া আমায় গাখা করিতেছে। অদরে, ঔষধের বাক্স খলিয়া এক ডাক্তার বসিয়া আছে। আমি চক্ষ খলিতেই অবিনাশ বলিল,—“কেমন বোধ হচ্ছে মনতোষবাব ? সেই কালেই আমি বলেছিলাম—আপনার শরীর দাবল—আজ রাত্রে ট্রেণে উঠে কাজ নেই।–ভাগিাস আমাদের অনাদিবাব ছিলেন—এই ষে অনাদিবাবকে চিনতে পারছেন না? আমাদের আৰ্য্যশক্তির লেখক অনাদিবাবু-আপনি মচ্ছিত হয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন, উনি ধরে ফেললেন --নইলে আপনার ভারি অীঘাত লাগত।” আমার কথা তখনও পরিকার হয় নাই। ক্ষীণস্বরে বলিলাম—“অনাদিবাব ? কোথায় उर्ध्वान् ?” 3 ציל