পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাঁহাকে আমরা ডিটেবটিব বলিয়া সারাদিন ভ্ৰম করিয়াছিলাম, "এই যে ইনি” বুলিয়া অবিনাশ তাঁহাকেই দেখাইয়া দিল। এইটুকু বুঝিতে পারিলাম, মস্ত ভুল হইয়াছিল—ভয়ের কোনও কারণ নাই। আরামে চক্ষ মাদ্রিত করিলাম। ঘণ্টা, দই পরে সন্থ হইয়া জাগিয়া, তখন সকল কথাই শুনিলাম। অনাদিবাব আমার আযাশক্তির একজন প্রধান লেখক: ঢাকায় ওকালতি করেন, কিন্তু চক্ষুষ অয়লাপের সংযোগ কখনও হয় নাই। ইনিও ছটিতে পশ্চিম-ভ্রমণে বহির হইয়াছেন। কলিকাতায় আমাদের আপিসে গিয়া ম্যানেজারের নিকট শনিয়াছিলেন, আমি অমকে তারিখ হইতে অমুক তারিখ পর্যন্ত আগ্রায় তোতারামের হোটেলে থাকিব। তাণ্ডে ও এৎমাদে আমাকে দেখিয়া, আমিই যে মনতোষবাব, এ বিশ্বাস তাঁহার মনে জন্মিয়াছিল; কারণ, আমার উপহত একখানি ফোটোগ্রাফ তাঁহার গহে আছে। তথাপি সঙ্কোচবশতঃ আমায় জিজ্ঞাসা করিতে পারেন নাই। পরে তোতারামের হোটেলে গিয়া খাতায় আমার নাম দেখিয়া তিনি কৃতনিশ্চয় হন। আমি নিদ্রিত ছিলাম ভাবিয়াই আমাকে জাগাইতে নিষেধ করেন। পরদিন হোটেলে আসিয়া আমায় একট আশ্চৰ্য্য করিয়া দিবেন, এই উদ্দেশ্যে, তাঁহার কথা আমার নিকট প্রকাশ করিতে হোটেলওয়ালাকে নিষেধ করিয়াছিলেন । গলিস আপিসের হেডকেরাণী গঙ্গাধরবাব তাঁহার মাতুল—তাঁহারই বাসায় অবস্থিতি করিতেছেন। ক্যান্টনমেন্টে এক বন্ধর বাড়ী নিমন্ত্রণ ছিল, নিমন্ত্রণ খাইয়া সেই ষ্ট্ৰেণেই ফিরিতেছিলেন। তাঁহার মাতুলের বাসা সিটি স্টেশনের সন্নিকটেই। শেষবার একবার অবিনাশের বৃদ্ধির প্রশংসা করি। সে আমায় খাব বাঁচাইয়া দিয়াছে— আমার মাছার প্রকৃত কারণটি অনাদিবাব ঘৃণাক্ষরেও জানিতে পারেন নাই। অনাদিবাবকে লইয়া বড়ই আনন্দে আগ্ৰায় কয়েকদিন যাপন করা গেল। তাঁহার মাতুলের সপোরিশে ফোট দেখিবার পাসও পাওয়া গেল। আগ্রা হইতে মধ্যরা ও বন্দাবন, তথা হইতে দিল্লী দখল করিয়া কলিকাতার ফিরিয়া আসিলাম। { কাত্তিক, ১৩২o ] নীলা-দা প্রথম পরিচ্ছেদ নীলমণির অবশর একজন উচ্চপদস্থ রাজকমচারী ছিলেন। বিবাহ দিবার সময় তাহার পিতা ভাবিয়ছিলেন, “আমার ছেলের একজন মরবি হইল।” বাস্তবিক, যদি নীলমণি বি-এ পাস করিতে পারিত এবং তাহার বশর মহাশয় জীবিত থাকতেন—তাহা হইলে তিনি অনায়াসেই নীলমণিকে একটা ডেপটি করিয়া দিতে পারতেন। কিন্তু তাহার এমনই পোড়া অদন্ট-এ দইয়ের একটিও ঘটিল না। তাই নীলমণি আজ মাসিক পয়ষটি টাকা বেতনের কেরাণী । ** * * > ভীমদাসের লেনে একটি ক্ষুদ্র বাড়ীভাড়া করিয়া নীলমণি সপরিবারে বাস করে। তাহার দুইটি কন্যা, একটি পত্র। কন্যা দুইটিই বড়—কমলার বয়স এগার বৎসর, সরলা পাঁচ কংসরে পড়িয়াছে। পত্র সশীল সরলার অপেক্ষা দুই বৎসরের ছোট। এরপে অলপ বেতনে কলিকাতায় সপরিবারে বাস করা প্রাণান্তকর ব্যাপার কন্টের অবধি নাই। যে বাড়ীটিতে বাস করে, তাহার অবস্থা দেখিলে চোখে জল আসে। নীচের ঘরগলা যেমন অন্ধকার, তেমনিই স্যাংসে'তে। উপরেও এখানটা ভাঙ্গা, ওখানটা ফটো, কড়ি বরগাগলা"জীণশীণ, ছাদ কখন পড়িয়া যায় ঠিকানা নাই। সারাইয়া দিতে বলিলেই বাড়ীওয়ালা বলে ভাড়া বাড়াইয়া দিন, সারাইয়া দিতেছি। একটি ঝি আছে--সে মাসের মধ্যে অর্ধেক দিন কামাই করে। বাঁধা রেট অপেক্ষা কিছু অলপ বেতনে সে সন্তুষ্ট এবং SvR