পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাজারের পয়সা চরি করে না—এই দুইটি গণের জন্য নীলমণি তাহাকে ছাড়াইতে পারে না। একটু দধ-তা নীলমণির ছেলে-মেয়েগুলি চোখে দেখিতে পায় না। দই একটা সন্দেশ রসগোল্লা-তাহাও কালভদ্রে তাহদের আদলেট জটে। গলির মোড়ের দোকান হইতে এক এক পয়সার মড়ি কিনিয়া আনিয়া তাহারা জল খায়। নীলমণিরা পীপরাষ দুইবেলা ডাল ভাত খাইয়াই জীবন-ধারণ করে। অথচ নীলমণি লোকটি এক সময় বেশ সোঁখীন ছিল । একদিন ছিল, যখন সে সমতা কাপড় কিনিত না, সন্তা জামা জতা—এ সকল ব্যবহার করা অপমানজনক মনে করত। পিয়াস" অথবা ভিনোলিয়া ছাড়। অন্য সাবান মাখিত না, গামছায় গা মাছিত না,—তোয়ালে কিনিত। তাহার সীও বাল্যকালে ধনী পিতার গহে প্রতিপালিত। তাহার অন্যান্য ভগিনীগণ অবস্থাপন্ন লোকেদের হাতেই পড়িয়ছে—সে বেচারীর কন্ট সহজেই অনাময়। মখেটি বজিয়া সংসারের কাজকর্মগুলি করে; কিন্তু যখন নিতান্ত অসহ্য হয়, তখন স্বামীকে গঞ্জনা দেয় না; নিজেই বসিয়া কাঁদে । তাহাতে নীলমণির কন্টের কিছুমাত্র - না। ಇನ್ಜ আজ বকরিদের ছয়টির জন্য আপিস বন্ধ। বেলা এগারটার সময় আহারাদি করিয়া নীলমণি বাজারে বাহির হইবার জন্য প্রস্তুত হইল। কমলার জন্য একটি ফ্ল্যানেলের বডি কিনিতে হইবে এবং খোকার জন্য এটি গলাবন্ধ ও দুইজোড়া রঙীন সতি মোজা। গহিণী বাক্স খালিয়া চারটি টাকা আনিয়া স্বামীর হাতে দিলেন। নীলমণি বলিল—“আর একটি টাকা দিতে পারবে ?” "কেন ?” "সরলার জন্যে একটি মেমপন্তুল কিনে আনতাম।” কিছুদিন পরে পাড়ায় একটি বালিকার হাতে পোষাক পরা মেমপুতুল দেখিয়া, বাড়ী আসিয়া সরলা ভারি বাহানা লইয়াছিল। নীলমণি তখন বলিয়াছিল—“আচ্ছা কাঁদিসনে—মাইনে পেলে কিনে দেব।" গহিণী বলিলেন—“এক টাকা দামের একটি পর্তুল কিনে দিতে পারি, এমন কি আমাদের অবস্থা ? কোথা পাব ?” নীলমণি বলিল— একটি টাকা বই ত নয়--পার যদি ত দাও। আহা বেচার বড় কোঁদেছিল।” কাঁদকাঁদ হইয়া গহিণী পলিলেন—“কোঁদেছিল তাও সত্যি বটে—আর একটি টাক বেশী কিছ নয় তাও ঠিক। মেয়েকে খেলানা কিনে দিতে কোন বাপ-মার অসাধ? কিন্তু আমাদের কি তেমনি কপাল ?”—বলিয়া গাহিণী চক্ষে অঞ্চল দিলেন। একটি দীঘনিঃশবাস ত্যাগ করিয়া, টাকা চারিটি পকেটে ফেলিয়া, নীলমণি বাহির হইয়া গেল। * - সদর রামতায় পৌছিয়া ট্রামের অপেক্ষায় মোড়ে দাঁড়াইয়া আছে, এমন সময় একখানা চলন্ত সেকেণ্ড ক্লাস গড় তাহার সম্মখে দিয়া ছটিয়া গেল পরমহত্তেই আরোহী মাখ বাড়াইয়া চীৎকার করিতে লাগিল—“গাড়োয়ান, গাড়োয়ান—খাড়া করো।”—গাড়ী থামিলে দরজা খালিয়া এক ব্যক্তি লাফাইয়া পড়িয়া হন হন করিয়া নীলমণির নিকট আসিয়া বলিল —“নীলদা !” নীলমণি লোকটির মাখের পানে চাহিয়া, চিনিতে পারিল না। তাহার অঙ্গে ইংরাজি বেশ, মস্তকে হ্যাট, হাতে মল্যবান ছড়ি, মথে চরােট। বয়স আন্দাজ বত্রিশ, দিব্য মোটাসোটা গোলগাল চেহারা, রঙ বেশ ফসর্ণ। চিনিতে না পারিয়া নীলমণি তাহার পানে ফ্যালফ্যাল করিয়া চাহিয়া রহিল। অন্ধ-মিনিট এইভাবে কাটিলে, লোকটি সকৌতুকে বলিল—“কি নীলদা—চিনতে পারলে না?—খব লোক ত তুমি –বড়মানুষ হয়েছ নাকি হৈ ?—কি হয়েছ ? হাকিম-টাকিম কিছু হয়েছ বুঝি ?”—বলিয়া সে হা হা করিয়া হাসিতে লাগিল। মাথা দলাইয়া দলাইয় তাহার সেই হাস্য দেখিয়া, নীলমণির লক্ট্রপতি যেন ফিরিয়া ՖԵ9