পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- इज्रौग्न अब्रट्ष्झक् নীলমণির বাড়ীতে নীচের তলার ঘরগুলির অবসথা পাবেই বণিত হইয়াছে। কোনও ভদ্রলোক আসিলে সেখানে তাহাকে বসান যায় না। পরে দুইখানি শয়নঘর, তাহারই একখানি হইতে বিছানা মাদর সরাইয়া বালিকা দটির সাহায্যে নীলমণি পরিকার করিতে আরম্ভ করিল। একটা ঝাড় লাঠিতে বধিয়া, চারিদিকের দেওয়াল বেশ করিয়া ঝাড়িয়া ফেলিয়া, বালতি বালতি জল ঢালিয়া মেঝোঁট ধাইয়া ফেলিল। দেওয়ালে স্থানে স্থানে দাগ ছিল; পাণে খাইবার চণ জলে গলিয়া সে সমস্ত ঢাকিয়া দিল। বারান্দার এক কোণে একখানি ভাংগাচোরা ক্যাম্প টেবিল বহুদিন সঞ্চিত ধলায় আত্মগোপন করিয়া পড়িয়া ছিল। সেইখানিকে টানিয়া আনিয়া ধাইয়া মছিয়া ঘরের মেঝেতে পথাপনা করা হইল। সেখানির পদচতুস্টয় নিতান্ত নড়বড়ে হইয়া গিয়াছে, কাছে বসিয়া তাহার গাত্রে সামান্য ভর দেওয়া মাত্র ক্যাঁচ কাঁচ শব্দ করিয়া বিপরীত দিকে হেলিয়া পড়ে। স্থানে অস্থানে পেরেক ঠকিয়াও যখন বিশেষ ফল পাওয়া গেল না, নীলমণি তখন একটা দাঁড় লইয়া পায়াগলা ঘিরিয়া খুব করিয়া বধিয়া দিল। তাহাতে টেবিলখানি কতকটা স্থির হইল। দুইখানিমাত্র চেয়ার বাড়ীতে ছিল। একখানি বেতের ছাউনি, একখানি কাঠের। বেতেরখানিতে সাধাংশকে বসিতে দেওয়া হইবে, কাঠের খানিতে নীলমণি নিজে বসিবে এই মৎলবই রহিল। টেবিলের শোভার জন্য একখানি কাপড় আবশ্যক— বিশেষতঃ আচ্ছাদন না দিলে দড়িদড়াগলি ঢাকে না—তাই গহিণীর চেক র্যাপারখানি তাহার উপর বিছাইয়া দেওয়া হইল। এই সমস্ত আয়োজন করিতে চারিটা বাজিল। নীলমণি তখন গড়গড়াটি কাপড়ে ছাঁকা ছাই দিয়া উত্তমরূপে মাজিয়া, তাহার নলে গজ করিয়া, জল ফিরাইয়া রাখিল । হঠাৎ মনে হইল, সে সাহেব মানুষ, যদি তামাক না খায় ? সে যে চরট খায় তাহা নীলমণি দেখিয়াছে; সতরাং পয়সা লইয়া নীলমণি চরটের সন্ধানে বাহির হইল। কিন্তু পড়ার কোনও দোকানে ভাল চরট পাওয়া গেল না। পয়সায় দুইটা করিয়া গলায় লালসতা বাঁধা পাণের দোকানের সেই নিকৃষ্ট চরট—তাহা কেমন করিয়া সাধাংশুর হাতে দিবে ? দরে গিয়া ভাল দোকান হইতে চরট কিনিয়া আনার সময়ও নাই। পাড়ার একটি চরটসেবী উকীল ছিলেন, তাঁহার কাছে গিয়া নীলমণি পাঁচটা ভাল চরট চাহিয়া আনিল। সেগুলি এবং একটি দেশলাই চায়ের পিরিচে সাজাইয়া টেবিলের উপর রাখিয়া দিল। সন্ধ্যার পর পরিকার কাপড় জামা পরিয়া নীলমণি বন্ধর আগমন প্রতীক্ষায় বসিয়া রহিল। আটটা বাজিয়া গেল, সাড়ে আটটা বাজিল, নয়টা বাজে, কই এখনও ত সন্ধাংশর দশন নাই! ভুলিয়া গেল নাকি? নীলমণি ও তাহার স্মী উভয়েই উৎকণ্ঠিত হইয়া উঠিল। যদি না আসে—এত খরচপত্র করিয়া আয়োজন সবই ব্যথা হইবে। পল্লী বলিল —“তিনি বড়লোক—উইলসনের হোটেলে সে রাজভোগ ছেড়ে কি গরীবের বাড়ীতে খেতে আসবেন ?” নীলমণি বলিল—“সাধাংশ ত সে রকম প্রকৃতির লোক নয়—অন্ততঃ আগে ত ছিল বলিতে বলিতে, শব্দে ও আলোকে ক্ষুদ্র গলিটি সচকিত করিয়া একখানি মোটর গাড়ী আসিয়া নীলমণির ভাঙ্গাঘরের সম্মখে দাঁড়াইল। নীলমণি তাড়াতাড়ি বার খলিয়া বহির হইয়া দেখিল—সন্ধাংশ: নামিয়া রাস্তায় দাঁড়াইয়াছে, মোটরে উপবিষ্ট একজন ইংরাজের সহিত কথাবাত্ত কহিতেছে। দইচারিটা কথা কহিবার পর "গড়নাইট” বলিয়া সাধাংশ, তখন নীলমণির দিকে ফিরিয়া বলিল—“ভাই, বড়ই দেরী হয়ে গেছে! তোমরা বোধ হয় ভাবছিলে ?” নীলমণি বলিল—“ভাবছিলাম বইকি। মনে করলাম বঝি ভুলেই গেলে ।” Yorg ना ।