পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সবোধ সনীতির হাত ধরিয়া চলিল, একটা কুলী তোরঙ্গটা মাথায় লইয়া অগ্রসর হইল। সমবোধ সনেীতির পানে চাহে আর হাসে। সনৌতির কপালে ঘৰ্ম্ম; মুখ লাল হইয়া উঠিয়াছে। ছেলেবেলায় য। জতা পায়ে দিয়াছিল, জুতা পায়ে দিয়া চলিতে পরিবে কেন ? দই পা তিন পা চলিয়াই হোঁচট খাইয়া পড়িবার উপক্ৰম করিতেছে। সবোধ গাড়ী ভাড়া করিল। গাড়োয়ান জিজ্ঞাসা করিল, “কোথায় যাইতে হইবে ?” সবোধ বলিল, “টিার থিয়েটার, হাতিবাগান।” সুনীতিকে গাড়ীতে তুলিয়া দিয়া, সবোধ বাহিরে দাঁড়াইয়াই তাহাকে বলিল— “তোরঙ্গটা সঙ্গে নিয়ে গিয়ে আর কি হবে, থিয়েটারের বাইরে গাড়ীতে পড়ে থাকবে, যদি কেউ উঠিয়ে নিয়ে যায়, কিংবা গাড়োয়ানটাও নিয়ে চম্পট দিতে পারে, ভিতরে ঢের জিনিষ রয়েছে, স্টেশন মাস্টারের জিমায় রেখে আসি।” সনীতি সম্মতিসচক ঘাড় নীড়িল। সবোধ কুলটাকে লইয়া প্রস্থান করিল। সবোধকে চলিয়া যাইতে দেখিয়া গাড়োয়ান হাঁকিয়া জিজ্ঞাসা করিল-“কাঁহা জানে হোগা হজের ?” সবোধ মুখ ফিরাইয়া বলিল—“হাতিবাগান-কটার থিয়েটার।" সবোধ গয়া স্টেশন মাস্টারের সন্ধান করিল, স্টেশন মান্টার নাই। কিয়ৎক্ষণ অপেক্ষা করিতেই স্টেশন মাস্টার আসিল। সে বলিল—“প্যাসেঞ্জারগণের জিনিষপত্র আমি রাখি না, সুতরাং সবোধ হেড পাশেল ক্লাকের সন্ধানে চলিল। অনেক কটে তবে তাহাকে আবিকার করিতে সমর্থ হইল। তিনি একটি বাঙ্গালী বাবা-চক্ষ দেখিলে মনে হয় বিলক্ষণ অহিফেন সেবন করা অভ্যাস আছে। অত্যন্ত ধীরভাবে সে ব্যক্তি সবোধের প্রস্তাব শ্রবণ করিল। শেষে বলিল—“চারি আনা লাগিবে ? এই বলিয়া রাঁসদের বহি বাহির করিল। পেন্সিলটা খুজিতে কিয়ৎক্ষণ গেল । পেন্সিল যদি মিলিল, তবে কাববাণ কাগজ আর পাওয়া যায় না। - এ দেরাজ সে দেরাজ, এ আলমারি সে অালমারি বহন অনুসন্ধানেও যখন কাবণ কাগজ পাওয়া গেল না, তখন সবোধ বলিল—“মহাশয়! আমার সময় নাই, না হয় হাতেই লিখিয়া দেন না ?” - সবোধের অঙ্গে ইংরাজ-বেশ ছিল, সতরাং অনুরোধটা উপেক্ষিত হইল না। রসিদ লইয়া কুলীকে বিদায় দিয়া, সবোধ তাড়াতাড়ি গাড়ীর কাছে ছটিয়া গেল। গিয়া দেখিল, যেখানে সনীতির গাড়ী ছিল, সেখানে নাই। মহমত্তের মধ্যে পথিবীখানা বিদ্যুন্মড়িত বলিয়া মনে হইল। কিন্তু সবোধ তুৎক্ষণাৎ আত্মসম্বরণ করিয়া ভাবিল, এইখানে কোথাও গাড়ী নিশ্চয়ই সরিয়া গিয়া দাঁড়াই- . য়াছে। ষ্টেশনের অঙ্গনে তখনও বহুসংখ্যক গাড়ী দন্ডায়মান। সবোধ প্রত্যক গাড়ীর কাছে গিয়া উকি মারিয়া দেখিতে লাগিল। সেই গাড়ীর নম্বরটা কেন দেখিয়া রা" নাই, কেন এমন মুখতা করিল, এই ভাবিয়া নিজ বন্ধিকে অত্যন্ত ধিক্কার দিতে লাগিল। কিন্তু অনুশোচনার সময় নাই। ক্রমেই অন্ধকার বাড়িতেছে। একে একে গাড়ী- , গুলিও বাহির হইয়া যাইতেছে। সহসা একটা কথা সবোধের মনে হইল। যখন গাড়োয়ান জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, কোথায় যাইতে হইবে, তখন সে বলিয়াছিল টার থিয়েটার । গাড়োয়ান সুনীতিকে লইয়া যদি টারে উপস্থিত হইয়া থাকে ? এই কথাটা মনে হইবামাত্ৰ সবোধ একখানা গাড়ী ভাড়া করিয়া টার থিয়েটারে ছটিল। গাড়ীতে বসিয়া ভাবিতে লাগিল, নিশ্চয়ই তাহাই হইয়াছে। সে যখন কুলী সঙ্গে করিয়া স্টেশন মাস্টারের নিকট বাক্স রাখিতে গেল, তখন ত গাড়োয়ানকে অপেক্ষা করিতে বলিয়া যায় নাই। মেমসাহেবেরা একাকীও ভ্রমণ করিয়া থাকেন, গাড়োয়ান কোনও সংশয় না করিয়া আপন মনে হাঁকাইয়া গিয়াছে আর কি। সনেীতি কি আর মুখ বাড়াইয়া চীৎকার করিয়া তাহকে নিষেধ করিতে পারিয়াছে ! এই ঘটনায় সে ভয়ে বিসময়ে ভ্যাবাগঙ্গারাম १२