পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সন্ধাংশ প্রথম কথা কহিল। একটু পরে বলিল, “ও সব এখন ভাল লাগছে না। সে সব কথা পরে বলব ভাই। তোমার অবস্থা দেখে আমার মন ভারি খারাপ হয়ে গেছে সত্যি ! আচ্ছা, ও আপিসে তোমার উন্নতির আশা কি রকম?" নীলমণি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিল—“মরবার সময় নাগাদ, শখানেক টাকার গেড়ে পৌছতে পারি। “বস ?” সাধাংশ কিছুক্ষণ চক্ষ বজিয়া চিৎ হইয়া পীড়য়া রহিল। পরে উঠিয়া বসিয়া নীলমণির হাতটি ধরিয়া বলিল—“নীলদা—চাকরি ছেড়ে দাও। আমার সঙ্গে চল।” “কোথায় ?” “চাকরি ছেড়ে দাও। চাকরিতে কিছু নেই দাদা—কিছু নেই। ঐ কোনও রকম পেটভাতায় কেটে যায়। লক্ষেীয়ে আমি দশো টাকা মাইনে পেতাম। সঙ্গে সঙ্গে একটা । কারবারও আমার ছিল—গোপনে। হঠাৎ একটা দাঁও এসে পড়ল, কারবারটা থেকে হাজার পাঁচশেক টাকা পেয়ে গেলাম। চাকরি ছেড়ে দিয়ে, সেই টাকাটা নিয়ে আমি ব্যবসা করতে এসেছি। এখন, ব্যবসার একটা প্রধান জিনিষ হচ্ছে—অন্ততঃ একজন সহকারী লোক চাই, যে সম্পণে বিশ্ববাসী। অন্যায় করে, ব্যবসার ক্ষতি করে, একটি পয়সা পেলে তাও নেবে না—আবার লক্ষ টাকা পেলে তাও নেবে না। আমি এই রকম একজন লোক চাই। তোমায় ছেলেবেলা থেকে জানি—তুমিই সেই লোক। তুমি এস আমার সঙ্গে।" নীলমণি একটু ভাবিয়া বলিল—“তা, কি ব্যবসা করছ?” “অভ্রের ব্যবসা i একটা পাহাড় নিয়েছি, তাতেই অভ্রের খনি আছে।” “কোথা ?” “ধানবাদের কাছে। ঐ যে সাহেবটি দেখলে, ওদেরই কাছে নিয়েছি। ওরাই ইজারাদার—ছোটনাগপুরের এক অসভ্য বনো রাজার পাহাড়—তার কাছ থেকে ওরা ইজারা নিয়েছিল। বছর দুই কাজও করেছিল। এখন ওরা পাঁচ বছরের মেয়াদে আমায় দরইজারা দিয়েছে। বছরে পনেরো হাজার টাকা করে খাজনা। লেখাপড়া হয়ে গেছে । প্রতি বছর আগাম খাজনা দিতে হবে। প্রথম বছরের খাজনা আমি জমা দিয়েছি।”—বলিয়া সন্ধাংশ কোটের ভিতরদিককার বকপকেট হইতে একটি চামড়ার কেস বাহির করিয়া নীলমণির হাতে দিল। বলিল,-“খলে দেখ, ওর মধ্যে রসিদ আছে।" নীলমণি পকেটকেসটি খলিয়া দেখিল, তাহার মধ্যে পনের হাজার টাকার রসিদখানি রহিয়াছে। আর রহিয়াছে একগোছা নোট—প্রত্যেকখানি ৫০০ টাকা করিয়া। নীলমণি সেগুলি গণিয়া হাসিতে হাসিতে বলিল—“ভাই তোমার এই একরত্তি পকেটকেসে নগদ যা রয়েছে—তাতে আমার দটো মেয়েরই বিয়ে হয়ে যাবে।” সন্ধাংশ বলিল—“তা যায়। কিন্তু ওগলি আমি চাকরি করে রোজগার করিনি ডাই—ব্যবসা থেকে পেয়েছি। চাকরির মখে মার ঝাড় । ছেড়ে দাও।” নীলমণি বুলিল—“অভ্রের খনি নিয়েছ—কেমন খান ? ভাল ?” “উঃ-চমৎকার। আমি একজন বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে তিন চারদিন ধরে তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা করিয়েছি। সে বলেছে, বারমাসে বিনা ওজরে পাঁচ বারোং ষাট হাজার টাকার অভ্র উঠবে—যদি ছটে বাদ দিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকারই কম ধরা যায়, তাহলে খরচা পনের হাজার, আর ভাড়া পনের হাজার বাদ দিয়ে, বিশ হাজার টাকা লাভ খুব হবে ।” নীলমণি ক্ষুদ্রপ্রাণী গরীব গহন্থ—অত বড় বড় টাকার অঙ্ক শুনিয়া তাহার মাথা ঘরিয়া গেল। সাধাংশ বলিল—“কি বল নীলদা—আসবে ?" সংশয়জড়িত স্বরে নীলমণি বলি-দুঃবে ?”