পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নীলমণি আর সে নীলমণি নাই। "হইবে না কেন ? পাশ্চমে থাকে—জল হাওয়া ভাল—ঘি দুধ সস্তা—সে এখন মোটা হইয়াছে—তাহার রঙ ফসর্ণ হইয়াছে। তাহার স্মীরও আর সে চেহারা নাই। মন্ত বিশাধ বায়তে ভ্রমণ করিয়া, প্রতিদিন “নাই নাই” এই দুশ্চিন্তার কবল হইতে অব্যহতিলাভ করিয়া এখন তাঁহাঁর অকালবাঁধক তিরোহিত —দেহখানিতে যৌবনলাবণ্য ফিরিয়া আসিয়াছে। - একজন ভূত্য ঠেলাগাড়ীতে খোকাকে বেড়াইতে লইয়া গিয়াছে। কমলা কোমরে কাপড় জড়াইয়া একটি টিনের বারি লইয়া বরাদার প্রাতস্থিত ফলগাছের টবগলিতে জলসেক । করিতেছে। সরলা, ঝির সঙ্গে হেড কেরাণীবাবরে বাড়ীতে বেড়াইতে গিয়াছে। টবে জলসেক শেষ করিয়া কমলা তাহার জননীর কাছে আসিয়া দাঁড়াইল। এই সামান্য পরিশ্রমে এই শীতেও তাহার ললাট ঘামাক্ত হইয়া উঠিয়াছে। মা নিজ বস্ত্রাঞ্চলে তাঁহার ঘাম মছাইয়া দিয়া বলিলেন--"যাও মা, হাত-মুখ ধয়ে কাপড় ছেড়ে ফেলগে।" কমলা চলিয়া গেলে গহিণী বললেন—“হ্যাগা, মেয়ের বিয়ের কথা কিছ ভাবছ ? মেয়ে যে—বলতে নেই—বড় হয়ে উঠল।”—বাসতবিক কমলা বড় হইয়া উঠিয়াছে। এই এক বৎসরে সে যেন দুই বৎসরের বাড় বাড়িয়া লইয়াছে। পাতক হইতে চক্ষ উঠাইয়া নীলমণি বলিঙ্গ—“কি বলছ ?" “বলছি—মেয়ের বিয়ের জন্যে একটি পাঠ-টার ঠিক কর-মেয়ে যে ষেটের বড় হয়ে উঠল।" নীলমণি বলিল—”এ মাঠে পায় কোথা পাব বল ?” “একবার দিনকর্তকের জন্যে কলকাতায় গিয়ে একটু চেন্টা করলেই পাত্র পাওয়া যাবে। তা তুমি ত এখান থেকে নড়বে না।” "আমি নড়লে চলে কই বল! সাধাংশ যদি কলকাতায় যাওয়া কমিয়ে, এখানে কিছদিন স্থির হয়ে বসে—কাজে কক্ষো মন দেয়—তা হলে আমি যেতে পারি।” "এবার ঠাকুরপো কলকাতায় গিয়ে এতদিন দেরী করছেন কেন ? কবে আসবেন কিছ: খবর এসেছে ?” “আজই আসবার কথা আছে। টেশনে তার হাওয়াগাড়ী গেছে।" “তা হলে, তাঁকে একবার বলে কয়ে, কাজকৰ্ম্ম বুঝিয়ে দিয়ে–মাসখানেকের জন্যে আমাদের নিয়ে কলকাতায় চল। পার ঠিক হয়ে যাবেই।” “সে ত অনেক খরচ। যাতায়াতের খরচ, তারপর সেখানে একটা বাড়ীভাড়া করতে হবে—হাতে ত বেশী টাকা নেই। আর মাসখানেক হলেই আমাদের বাৎসরিক হিসেবটা হয়ে যায়। আমার প্রাপ্য টাকাটা পেলেই, কলকাতায় গিয়ে পায় অনুসন্ধান করি।" “হিসেব দেখেছ ? বছরের শেষে কত দাঁড়াল ?” “এ বছর আমাদের প্রায় ষোল হাজার টাকা লাভ হয়েছে। আমার অংশে চার হাজার হল—তার মধ্যে হাজার-দুই টাকা ত নিয়ে ফেলেছি।” গহিণী প্রযে়াগল ੋਚ করিয়া বলিলেন—“দহাজার কবে নিলে?" “কলকাতায় পাঁচশো—এখানে এই এক বছরে প্রায় দেড় হাজার। দহোজার টাকা মাত্র এখন আমার পাওনা। অন্য সব খরচ খরচ করে, দহাজারের মধ্যে যা থাকবে সে টাকায় কি মনের মত পায় মিলবে -একটা বস্থর অপেক্ষা করা যাক না—আসছে বছর ফাগন মাস নাগাদ হলে, মেয়ের বিয়েতে হাজার পাঁচেক টাকা খরচ করতে পারব।” “তা-আসছে বস্থর যদি এত লাভ না হয় ?” নীলমণি বিজ্ঞভাবে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসিয়া বলিল—“বেশী হবে—আরও বেশী হবে। প্রথম বছর খরচ অনেক বেশী হল—সব ব্যবসাতেই হয়; ভাই লাভের অঙ্গক কম দাঁড়াল। আসছে বছর অন্ততঃ চব্বিশ হাজার লাভ দাঁড়াবে—এটা খাব আঁশা করতে পারি।" “তা তুমি যা ভাল বোঝ তাই কর। কিন্তু শীঘ্র সেরে ফেললেই ভাল করতে।" এমন সময় ভিতরের কামরা হইতে “বাবা বাবা" ধবনি উত্থিত হইল—সরলার সোল্লাস }}}