পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিবণ, চক্ষ বসিয়া গিয়াছে, মাথার চলগলা অবিন্যস্ত, উড়িতেছে। পশ্চাতের বারান্দায় টেবিলের নিকট একখানা চেয়ারে সে বসিয়া আছে--মস্তক করতলে রক্ষিত, নিনের ওঠে স্বতে দংশন করিয়া রহিয়াছে। তাহার ভাবভঙ্গি দেখিয়া শঙ্কান্বিত কণ্ঠে নীলমণি জিজ্ঞাসা করিল—“সাধাংশ তোমার কি হয়েছে ?” সাধাংশ এতদর বিমমা ছিল যে, নীলমণির প্রবেশের পদশব্দও শনিতে পায় নাই। চমকিয়া উঠিয়া বলিল—“নীলদা এসেছ ?—বস।” নীলমণি উপবেশন করিয়া তাহাব মুখের দিকে অবাক হইয়া চাহিয়া রহিল। সন্ধাংশকে নীরব দেখিয়া একটু অপেক্ষা করিয়া বলিল—“ব্যাপার কি? তোমার শরীর ভাল আছে ত?"শরীর ? ভাল আছে বইকি।” - “কি হয়েছে ?” "বড় মাসিকলে পড়েছি নীলদা। বাৎসরিক খাজনা দাখিল করবার সময় এসেছে— পচিদিনের মধ্যে পনেরো হাজার টাকার দরকার—দাখিল করতে না পারলে ইজারা রহিত হয়ে যাবে।” নীলমণি বলিল—“ত দাখিল করে দাও । ব্যাঙ্কের টাকা ত রয়েছে।" “ব্যাঙ্কে টাকা কোথা ? হাজারখানেক টাকা মাত্র আছে।" নীলমণি আকাশ হইতে পড়িয়া বলিল—“হাজারখানেক মাত্র।—আর সব টাকা কি হল :“টাকা আর কি হয় ? চিরকাল যা হয়ে থাকে-উড়ে গেছে।" “বল কি ? এত টাকা খরচ হয়ে গেছে ? এ বৎসর ত আন্দাজ ষোল হাজার টাকা “হয়েছে ত—কিন্তু টাকা ত নেই। খরচ করে ফেলেছি। লাভের টাকা, আমার নিজের যা কিছু ছিল—সবই খরচ হয়ে গেছে।” নীলমণি স্তম্ভিত হইয়া বসিয়া রহিল। তাহার দহজরও তবে গিয়াছে ? সাধাংশ ষে প্রতিবার কলিকাতায় গিয়া আমোদ-প্রমোদে, হোটেল-খরচে, জিনিষপত্র কেনায় অনেক টাকা উড়াইতেছে তাহা লীলমণি জানিত এবং মাঝে মাঝে এ জন্য তাহাকে ভৎসনাও করিত। সাধাংশ বলিত, “স্ত্রী নেই, ছেলেপিলে নেই, আমি অ্যর কার জন্যে টাকা জমাব ভাই —যা পাই ভাই খরচ করে--চিরকাল আমার এই দশা।”—কিন্তু সে যে এত টীকা নট করিয়াছে—লাভের সমস্ত টাকা এবং নিজের পর্বেসঞ্চিত সমস্ত মলধন উড়াইয়া দিয়াছে—তাহা নীলমণি বনেও জানিত না। পাট্রার কঠিন সত্ত—বংসর পর্ণে হইবার দুই সপ্তাহ পাবে বৎসরের দেয় খাজনার সমস্ত টাকা জমা না হইলে ইজারা রদ ও রহিত হইয়া যাইবে, তাহাও নীলমণি অবগত ছিল। সুতরাং অবস্থা যে কিরাপ গুরতর দাঁড়াইয়াছে, তাহা সে সম্যক উপলব্ধি করিতে পারিল। সাধাংশ বলিল—“এখন উপায় কি ? পাঁচ হাজার টাকা কতজ পাবার ভরসা আছে, ব্যাঙ্কে হাজার টাকা আছে—আমার নিজের কাছেও হাজারখানেক আছে-এখন আট হাজীর টাকার অস্থিত। তোমার কিছর আছে ?” “বড় জোর পাঁচশ।” “বউদিদির কাছে কিছ নেই?" "তার গহনাগুলো বেচলে আরও শ'পাঁচেক হতে পারে।" “বাকী থাকে সাত: হাজার।” - উভয়ে কিয়ৎক্ষণ নিস্তবধ হইয়া বসিয়া রহিল। রমে সন্ধ্যা হইয়া আসিল। অন্ধকার ধীরে ধীরে পথিবীকে গ্রাস করিয়া ফেলিতেছে। নীলমণি অকল পাথার চিন্তার মধ্যে পড়িয়া হাবড়বে, থাইতে লাগিল। তাহার মনে হইতে লাগিল—“হায় হায় এমন ব্যবসায়, এল আর বা আপনার অপবালকু স্থা লৈ লে। কি হইবে ම