পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—এখন উপায় কি ? সন্ধাংশ ত অবিবাহিত—যেখানে থাকিবে, করিয়া খাইতে পারবে । আমার এখন উপায় কী –সন্ত্ৰী পত্র কন্যা লইয়া আমি এখন দাঁড়াই কোথা ?—অদহট আমার সঙ্গে এ কি ভীষণ খেলা খেলিল! চাকরিটি গেল—তারার কলিকাতায় গিয়া চাকরির উমেদারী করিতে হইবে। সমবল মাত্র পাঁচশত টাকা—তাহা আর কতদিন খাইল । কমলার বিবাহেরই বা উপায় কি হইবে ?" - কক্ষের মধ্যে ভৃত্য বাতি জালিয়া দিল। সুধাংশ হঠাৎ কি ভাবিয়া উঠিয় ভিতরে গেল। টেবিলের নিকট বসিয়া একখানা চিঠির কাগজে কি কতগলা লিখিতে লাগিল। প্রায় কুড়ি মিনিট পরে বাহিরে আসিয়া দেখিল, নীলমণি সেই অন্ধকার বারান্দায় তখনও মাথায় হাত দিয়া বসিয়া ভাবিতেছে। সাধাংশ বলিল—“নীলদা, এই কাগজখানা রাখ।" নীলমণি বলিল—“কি কাগজ ?” “আমার উইল।” কথাটা শুনিয়া নীলমণির বকের ভিতর ছনাং করিয়া উঠিল। তাহার আশঙ্কা হইল, হয়ত রত্রে সুধাংশ আত্মহতা বরিবে। কি সব্বনাশ !—তাঁরবেগে দাঁড়াইয়া উঠিয়া বলিল —“উইল কি রকম ? তোমার মংলবখানা কি ?” সন্ধাংশ তাহার মনের ভাব ববিয়া হাসিল। বলিল—“ভয় কি নীলদা—এ সে রকম উইল নয়। আমি হঠাৎ মরছিনে—তেমন ছেলেই নই। বস বস; আমার যা মৎলব, সব বলছি " ੇਸੋ উপবেশন করিল। সন্ধাংশ বলিতে লাগিল—“টাকার উপায় যখন হল না, তখন এ ব্যবসা গদটাতে হল। আমি অন্য একটা ব্যবসার ফন্দি করছি—কলকাতায় এ কদিন শুধ যে টাকা ধার পাবার চেস্টাতেই ঘরে বেড়িয়েছি তা নয়। যদি টকা না যোগাড় হয়, তা হলেই বা কি করব, কোথা যাব—সমস্ত ঠিকঠাক করে এসেছি। সিলনে খুব বড় বড় জঙ্গল আছে—প্রচার নারিকেল ফলে। একটা বড় দেখে জঙ্গল ঠিকা নিয়ে নারিকেল পাড়িয়ে পাড়িয়ে, কতক অসত আর কতক তেল তৈরী করিয়ৈ কনেস্তারাবন্দী করে ভারতবষে চালান দেব-কতক চিনির রসে ডবিয়ে শিশিবন্দি করে কোকোনট ড্রপস লেবেল এ’টে বিলাতে পাঠাব—সেখানকার ছেলেপিলে খুব খাবে। ব্যাঙ্কের হাজার টাকা, নিজের কাছে যে হাজার টাকা আছে তা আর ঘোড়া দটাে বিক্ৰী করলে হাজার দুই পাব —এই চার হাজার মাত্র এবার হল আমার মুলধন। জাহাজে ডেক-প্যাসেঞ্জার হয়ে যাচ্ছি –এবার আর নবাবী নয়। ব্যয়-সংক্ষেপে যতদর করতে হয়। সুন্দর ব্যবসাটি মাটি হল ভাই। তুমি আসবার আগে, পাহাড়টার পানে আমি চেয়ে দেখছিলাম, আর আমার বকে ফেটে বাচ্ছিল। যাক। - যায় এবং আসে—এই হল সংসারের নিয়ম। হ্যাঁ—তার পর আমার উইলের কথা। এ ব্যবসা থেকে আমার কাছে তোমার দুহাজার টাকা প্রাপ্য রয়েছে। তার বদলে, আমি তোমায় আমার মোটরকারখানি দিয়ে যাচ্ছি। কলকাতায় নিয়ে গিয়ে ওখানি তুমি বিক্ৰী কোরো। আর এই বাঙ্গলায় আমার যা আসবাবপত্র আছে সেগুলি তুমি বিক্ৰী করবে। ওতেও হাজারখানেক টাকা হবে। ক'মাস ধরে আমার নিজের চাকর-বাকর, খনির কেরাণী, জমাদার প্রভৃতি মাইনে পায়নি—ঐ টাকা থেকে মাইনেপত্তর চকিয়ে দিও। কে কত পাবে তার একটা তালিকা আমি তোমায় দিয়ে যাব। চাকরি ছাড়িয়ে তোমায় নিয়ে এলাম—বড় আশা করেই এনেছিলাম—কিন্তু সে আশা সফল হল না। যাক। তুমি এখন কলকাতায় চাকরির চেষ্টা করবে বোধ হয় ?—আমার পরামর্শ যদি শোন—তবে চাকরি না করে একটা কোনও ব্যবসা ফে’দ –আর ঈশ্ববরের ইচ্ছায় যদি সিলনে নারিকেলের কাজে আমার সুবিধা হয়—আর, তুমি যদি আসতে ইচ্ছা কর—এস।” অনেকক্ষণ ধরিয়া উভয়ে নীরবে বসিয়া রহিল। তাহার পর নীলমণি বলিল—“কবে সিলনে যাচ্ছ?" wলল সকলের গড়াঁতেই কলকাতা না হব। সেখানে তিন চার দিন থেকে জাহাজে