পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“তোমার বউদিদির সঙ্গে দেখা করবে না ? তিনি যে তেম্যয় ঐখানেই খেতে বলেছেন ।” সন্ধাংশ একটু ভাবিয়া বলিল—“ভাই, এটি মাফ করতে হবে। এ মুখ এখন তাঁকে দেখাব না। যদি ঈশ্বর কখনও দিন দেন—তা হলে আবার—” সন্ধাংশুর গলা ভারি হইয়া আসিয়াছিল। বাক্য শেষ করিতে পারল না। ফোঁটা দুই চোখের জল সেই অন্ধকারে তাহার গলা গড়াইয়া জামার অস্তিনে পতিত হইল। নীলমণি কোনও ক্ৰমে বাড়ী ফিরিয়া গেল । সে রাত্রি এই ভগ্নহৃদয় হতাশ্ববাস দম্পতীর কেমন করিয়া কাটিল তাহা যিনি অন্ধকারেও সমস্ত দেখিতে পান, তিনি দেখিয়াছেন। পরদিন প্রতে নীলমণি সধাংশর বাগলায় গিয়া তাহার সহিত স্টেশনে গেল। গাড়ীতে তাহাঁকে তুলিয়া দিয়া, মোটর লইয়া শান্যমনে বাঙ্গলায় ফিরিয়া আসিল । সরলা একটি পেনিফ্রক পরিয়া শুধ পায়ে বারাদার সম্মুখে খেলা করিতেছিল। তাহার মা সজানেরে রেলিং ধরিয়া দড়িাইয়া সবামীর আগমন প্রতীক্ষা করিতেছিলেন। তখন বেলা দশটা। সরলা ইতিমধ্যে কেমন করিয়া শনিয়াছিল, তাহার কাকা মোটরখানি তাহাদিগকে দিয়:ছন–কিন্তু সে কথা সে বিশ্বাস করে নাই। পিতাকে একাকী মোটর হইতে নামিতে দেখিয়া তাড়াতাড়ি তাহার কাছে গিয়া জিজ্ঞাসা করিল-“বাবা, থায়েব কাক, এ মোতলখানি আমাদেল দিয়েথেন ?” নীলমণি উদাসদটিতে কন্যার পানে চাহিয়া বলিল—“হ্যাঁ।” শনিবামার সরলা একমখ হাসিয়া, দই বাহ উদ্ধের তুলিয়া নাচিতে নাচিতে বারান্দায় উঠিল এবং চীৎকার করিয়া বলিতে লাগিল—“ওলে খোকা ওলে দিদি আয় থিগগিল আয়। থায়েব কাকা আমাদেল মোতুল-কলে দিয়েথেন, তলবি আয়। সরলার এবংবিধ আচরণ দেখিয়া, এত দুঃখেও তাহার পিতামাতার ওষ্ঠপ্রান্তে হাসি দেখা দিল । - এ দিকে সমস্ত বিলি ব্যবস্থা করিয়া, ধানবাদের বাস উঠাইয়া নীলমণি সপরিবারে কলিকতীয় গেল। তাহার সেই পরাতন অফিসের বড়বাবরে হাতে পায়ে ধাঁরয়া, বড়সাহেবের নিকট কাঁদকাটা রিয়া—আবার চাকরিটি পাইল কিন্তু দণ্ড স্বরপ সাহেব তাহার বেতন পাঁচটি টাকা কমাইয়া দিলেন । - মোটরকারখানি বিক্রয় করিয়া আড়াই হাজার টাকা পাওয়া গেল। তাহা হইতে দেড় হাজার খরচ করিয়া বৈশাখ মাসে কমলার বিবাহ হইল : বাকী হাজার টাকা সরলার বিবাহের জন্য পোল্ট অফিস ব্যাণ্ডেক জমা আছে। কাত্তিক, ১৩২০ ] যুগল সাহিত্যিক প্রথম পরিচ্ছেদ ॥ শাভসংবাদ সন্ধ্যার পর, কলিকতার কোনও একটি সুপ্রশস্ত ত্রিতল গ্রহের বৈঠকখানায় বসিয়া, চায়ের পেয়ালা সম্মখে লইয়া, তিনটি যবেক কথোপকথন করিতেছিল। যেটি গহেসবামী, তাহার নাম রাজেন্দ্রনাথ বসন । বয়স পঞ্চবিংশতি বষ, মাথার চলেগুলি বেশ বড় বড়, মাঝে চেরা সাঁথি, দিব্য নধর-কান্তি পর্য। দেশে জমিদারী আছে, কলিকাতায় আরও দুইখানি বাড়ী আছে, কোনও অভাব নাই, চাকরি বা কোনও ব্যবসায় অবলম্বন করিতে হয় নাই। আর দুইজন প্রতিবেশী বন্ধ, একজনের নাম অধরচন্দ্র, অপরের नाश भर्ताझन्झु । পাড়ার আরও ইনফ আসিয়া উপস্থি । পাশেবর কক্ষে চায়ের জন্য জল । Y - - ,