পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছিল। কিন্তু সেগুলি সম্পাদকের পর সম্পাদক ধন্যবাদের সহিত ফেরৎ দিতে লাগিলেন। রাজেন্দ্র বলিল-মাসিকের সম্পাদকগণ কাব্যবিচার সম্বন্ধে নিতান্তই অপট-তাহাদের কবিতা পাঠান, বেণাবনে মন্ত ছড়ানর মতই নিবন্ধিতা—পরামর্শ হইয়া রহিল—যখন সময় আসিবে, উভয়েই পুস্তকাকারে কবিতাগুলি প্রকাশ করিয়া সাহিত্যজগৎকে একেবারে চমৎকৃত করিয়া দিবে। রাজেন্দ্র এতদিন কোন কালে তাহার কাব্য ছাপাইয়া উক্ত জগৎকে সতভিত করিয়া দিতে পারিত। কিন্তু তিনকড়ির অর্থাভাব—বহি ছাপাইবার সৎগতি তাহার ছিল না—সে রাজেন্দ্রের নিকট অথসাহায্য গ্রহণ করিতেও অসম্মত—সেজন্য বাধা হইয়, এতাবৎকাল সাহিত্য-জগৎকে বঞ্চিত রাখিতে হইয়ছে। চা-পান শেষ করিয়া, ভোজের পরামশ পাকাপাকি করিয়া, অভ্যাগতগণ একে একে বিদায় গ্রহণ করিল। রহিল কেবল তিনকড়ি। দহজনে একা হইলে রাজেন্দ্র বলিল—“যাক-এতদিন পরে তব একটু স্বচ্ছলতা হল । ততটা টানাটনি ত আর থাকবে না !" তিনকড়ি বলিল—“হ্যা ভাই। এমনি অবস্থা ছিল, কোনও মাসে একটি পয়সা রাখতে পারতাম না!–এবার একট নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচব।" রাজেন্দ্র বসিয়া কি ভাবিতে লাগিল। শেষে ফিক করিয়া একট: হাসিয়া ফেলিল। তিনকড়ি বলিল—“হাসলে যে ?” “একটা কথা ভাবছি।" “কি –বল না।” “মনে পড়ে ?—একদিন আমরা বলেছিলাম—বই ছাপিয়ে আমাদের কবিতা বের করব ?" “খবে মনে পড়ে। আর, আমার বই ছাপানোর ক্ষমতা ছিল না বলেই, তুমিও নিজের বই এতদিন ছাপাওনি—তাও আমি জানি।”—বলিয়া তিনকড়ি বন্ধর পানে স্নেহপণ" দটিপাত করিল। - রাজেন্দ্র বলিল—“না—না—তা নয়। আচ্ছা, বই ছাপাতে কত খরচ পড়ে ” কিরূপ ছাপাইতে কত খরচ, কিরাপ কাগজেরই বা কত দাম, তিনকড়ি অনেক দিন হইতেই এ সকল তথ্য সংগ্ৰহ করিয়া রাখিয়াছিল। রাজেন্দ্রকে সমস্ত হিসাব দিয়া বলল —“ছবি দেবে ? অামার ক্ষমতায় অবশ্য কুলোবে না—তোমার বইয়ে খানদই রঙীন, আর খানচারেক একবণের ছবি দিতে পার। আজকাল সকলেই বইয়ে ছবি দিচ্ছে?” ছবি দিতে হইলে কত খরচ তাহাও রাজেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল,—ছবি দিবার প্রলোভনটি তাহর মনে বিলক্ষণই ছিল। কিন্তু খরচের ফাঁদ শনিয়া রাজেন্দ্ৰ বুঝিতে পারিল, তিনকড়ির পক্ষে তাহা সাধ্যাতীত হইবে। সুতরাং সে প্রলোভন মনেই দমন করিয়া বলিল— "না,—ছবিতে কাজ নেই।—অমনিই ভাল।” সমস্তই ঠিক হইয়া গেল। একই প্রেসে, একই রকম কাগজে, দুইজনের বহি মাদ্রিত হইবে। - রাত্রি অধিক হইল দেখিয়া তিনকড়ি উঠিল। রাজেন্দ্র বলিল—“তা হলে আর দেরী কোরো না –পাণ্ডুলিপিটে শীগগির তৈরি করে ফেল।” তিনকড়ি বলিল—“হ্যাঁ-কাল সকালেই আমি সরে করে দেব।” झिज्रीग्न श्रृंर्गत्वाक्के । बफुच्चाइँ ७ प्रशझैसाइँ পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করিতে করতে তিনকড়ির মনে কিন্তু বড়ই বিধা উপস্থিত হইল। পুরাতন কবিতাগলি যতই সে পড়ে, ততই তাহার মনে হয়—ছি—ছি—এ ছাপাইয়া কি হইবে —দুই বৎসর পরে নিজের এই কবিতাগলি তাহার কাছে উচ্চদূরের বলিয়াই মনে হইত—এখন কিন্তু সেগুলি নিতান্তই বিশেষত্ববজিত ও সাধারণ বলিয়া তাহার বোধ হইতে লাগিল। - একদিন সন্ধ্যার পর রাজেন্দুের বাড়ী গিয়া সে ক্ষঃস্বরে বলিল—“ভাই, তুমি বই 33