পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছাপাও—আমি ছাপাব না।” - রাজেন্দ্র বিসিমত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল—“কেন ?—হঠাৎ আবার কি হল ?’ "আমার ও ছাই-পাস ছাপিয়ে কি হবে —শধ লোকের কাছে হাস্যাম্পদ হওয়া বই রাজেন্দ্রের মনে প্রথমাবধিই ধারণা, তাহার নিজের কবিতা তিনকড়ির অপেক্ষা অনেক উচ্চশ্রেণীর। আট বলিতে যাহা বুঝায়, তাহা নাকি তাহার কবিতায় আছে—তিনকড়ির কবিতায় নাই। তিনকড়ি, তাহার বন্ধর মনের এই ভাবটি অবগত ছিল; কিন্তু নেহবশতঃ কখনও ইহার প্রতিবাদ করে নাই। খোসামোদ করিবার অভিপ্রায়ে নয়, বন্ধর প্রীতিকামনা করিয়াই, সে বরং মাঝে মাঝে এ ভ্রান্ত বিশ্বাসটুকুর পোষকতাই করিত। রাজেন্দ্র বলিল—“না—ন-হাসাম্পদ হতে হবে কেন –পাণ্ডুলিপিটে শেষ হলে তুমি আমার কাছে দিও—আমি বেশ করে দেখে শুনে, যেখানে যা পরিবত্তান আবশ্যক. করে দড়ি করিয়ে দেব এখন।" - এই আশ্বাস তিনকড়ির কাছে সমধিক ভীতিপ্রদ বলিয়া মনে হইল। সে বলিল— · "জোড়া-তালি দিয়ে কি আর হয় ভাই —সে কাজ নেই।” রাজেন্দ্র কিয়ৎক্ষণ স্তব্ধ হইয়া রহিল; শেষে বলিল—“তুমি না ছাপালে আমারও ছাপানো হয় না "–তাহার বর ভারি নৈরাশাযুক্ত। তিনকড়ি বলিল-“তোমার ভাল কবিতা,—তুমি কেন ছাপাবে না ভাই —ছাপাও।” “না,—সে কিছুতেই হবে না।”—বলিয়া রাজেন্দ্র গম্ভীর হইয়া বসিয়া রহিল। তাহার অবস্থা দেখিয়া শেষে তিনকড়ি বলিল—“আচ্ছা, না হয় আমিও ছাপাব – কিন্তু বেশী বড় বই নয় ভাই। ওরই মধ্যে খুব বেছে গছে, অলপ গুটিকতক কবিতা দিয়ে একখানি বই ছাপাব।” রাজেন্দ্র বলিল-আমার বইখানি হবে বড়—তোমার খানি হবে ছোট ?” তিনকড়ি সেনহাদুর্কবরে বলিল—“আমিও যে ছোট। তোমার বইখানি হবে বড়ভাই, আমার খানি ছোটভাই। তোমার চেযে আমার বইখানি সকল বিষয়েই ছোট হবে; আকারেও ছোট-—কবিত্বেও ছোট।” শেষের কথাটিতে রাজেন্দ্রের ত কোন সন্দেহই ছিল না। হাসিয়া বলিল—“আচ্ছা, তাই হোক। এবার থেকে, বছে তিন, তুমি এক কাজ কোরো।-কোনও একটা কবিতা তোমার মাথায় এলেই, আমায় প্রথমে বোলো। ঠিক কি রকম ছাঁচে ফেললে সেটির বেশ খোলতাই হবে, আমি তোমায় বঝিয়ে দেব। তারপর, তুমি সেটি লিখবে। কিছ ভেব না তিন-আমি বেশ জানি, তোমার ভিতরে পদার্থ আছে। তোমার শধে একটা উপদেশ দরকার। আমি তোময় ঠিক তৈরি করে তুলব—তখন দুই ভাই দিগ্বিজয়ে גלן ולרי:"ולז' `ੇਸ਼ বলা যায় না—অনেক বিলম্বে, বিস্তর টালমাটাল করিয়া ছাপাখানা অবশেষে বহি দুইখানি শেষ করিয়া দিল। রাজেন্দ্রের পতকের নাম হইয়াছে “প্রসনাঞ্জলি", ঢুর পসেতকের নাম "গঞ্জেরণ" বহিগুলি আসিবামীর সর্বপ্রথমখণ্ড উভয়ে উভয়ের করকমলে অকৃত্রিম প্রণয়োপহারস্বরপ অপণ করিল। তাহার পর প্রথম কাৰ্য্য, প্রধান অপ্রধান সমস্ত সম্পাদককে এক এক খণ্ড বহি সমালোচনাথ প্রেরণ করা। সারাদিন এই কায্যে অতিবাহিত হইল। তিনকড়ি বলিল—“এবার সম্ভবতঃ মাসিক-সম্পাদকের কবিতার জন্যে তোমায় ধরে পড়বে।—তোমার উপর খুব জলম আরম্ভ হবে।” ; , রাজেন্দ্রনাথ উদারভাবে বলিল— নিতান্ত পীড়াপীড়ি করে, দেওয়া যাবে দ’একটা - তোমার খাতা থেকে বেছেও দুএকটা পাঠান যাবে।” তিনকড়ি বলল-আর বাম-অমুকু লেখা কেউ চাইবেও না, ছাপাবেও না ।” " : حندا حيخ ناة