পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজেন্দ্র বলিল—“কি !—ছাপাবে না ?—তাদের ঘড়ি ছাপবে!—তোমার লেখাও ছাপতে হবে, এই কড়ারে তবে আমি লেখা দেব। যে সম্পাদক তোমার কবিতা ছাপতে ন্যরাজ —তিনি আমার লেখাও পাবেন না-মাথা কুটে মরলেও না "—তিনকড়ির পিঠ ঠকিয়া রাজেন্দ্র আবার বলিল—“আমরা দই ভাই।-বড়ভাই যেখানে, ছোটভাই সেখানে —ছোটভাইটিকে যিনি আদর না করবেন, বড়ভাইকেও তিনি পাবেন না।” নেহে আনন্দে তিনকড়ির চক্ষু সজল হইয়া আসিল। হায়, হতভাগ্যগণ -কি কুক্ষণেই তোমরা বই ছাপাইয়াছিলে ! সম্পাদকগণের নামে বহি পাঠান শেষ হইলে, অন্যান্য সকলকে উপহার দিবার ধর্ম পড়িল। রাজেন্দ্রের বহি তাহার শ্বশুরবাড়ীতেই প্রায় ত্রিশখন খরচ হইয়া গেল। এমন কি. উক্ত ‘মধুপরীতে, সামান্য বাঙ্গালা লেখা-পড়া জানা খানসামা ছিল, সেও একখণড জামাইবাবরে বহি বখশিস পাইল। রাজেন্দ্রের বৈঠকখানা-বিহারী সন্ধ্য চা-পায়িগণ প্রত্যেকে উভয়গ্ৰন্থই পাইল। পাড়ার মাতবর ব্যক্তিগণের অন্যান্য বন্ধবেগের করকমলও বঞ্চিত রহিল না। যে সকল আত্মীয়-বন্ধ বিদেশে থাকিতেন, সকলের নামেই এক একখানি বহি গেল। বঙ্গের খ্যাতনামা সুধিবন্দ, প্রধান প্রধান সাহিত্যিকগণ—সকলেরই নামে ডাকযোগে বহি প্রেরিত হইল। তাহার পর কিছুদিন ধরিয়া দুইজনে দেখা হইলেই —কাহাকেও বহি পাঠাইতে ভুল হইয়া গিয়াছে কিনা, তাহারই আলোচনা হইত। “ওহে --তামুককে ত আমি এখনও বই পাঠাইনি—তুমি পাঠিয়েছ ?”—“ন: ভাই, আমারও ভুল হয়ে গেছে। ছি—ছ কি মনে করবেন বল দেখি ?"-ইত্যাদি প্রকার কথাবাত্তা প্রায়ই হইতে লাগিল। দুটি সংশোধনে তিলমাত্র বিলম্ব হইত না। বিক্রয়াথ, পুস্তকের দেকানে দোকানেও বহি পাঠান হইল। তবে দোকাদারেরা অধিক সংখ্যক বহি একসঙ্গে লইতে চাহিল না—বলিল, আমাদের গদ্যমে স্থানাভাব । রাজেন্দ্র অনেকগুলি মাসিকপত্রের গাহক ছিল। সমালোচনা কবে বাহির হইবে কবে বাহির হইবে—করিয়া দুইজনে অস্থির হইয়া উঠিত, এবং মাসিকপত্র আসিলেই খালিয়া তাগে সমালোচনার পাঠাগুলি দেখিত। সেদিন সন্ধাবেলায় তিনকড়ি আসিয়া দেখিল, রাজেন্দ্র কিছু বিমষ বসিয়া জিজ্ঞাসা করিল—“কি হয়েছে ?” রাজেন্দ্র কোনও, উত্তর না দিয়া, দেরাজ খলিয়া একখানি মতন মাসিকপত্র বাহির সরল | - তিনকড়ি উৎকণ্ঠিত হইয়া বলিল—“বঙ্গপ্রভা নাকি ? সমালোচনা বেরিয়েছে ?— দেখি দেখি।” রাজেন্দ্র একটা পথান খলিয়া তিনকড়ির হাতে কাগজখানি দিল। তিনকড়ি দেখিল, প্রাপ্ত-পুস্তকের সংক্ষিপ্ত সমালোচনার স্তভে তাহার গঞ্জেরণের সমালোচনা। রুদ্ধশ্বাসে সেটি পাঠ করিল। শবেশী কিছ নয়—বজাইস অক্ষরে বারো চৌদ্দ লাইন মাত্র। গ্রন্থ ও গ্রন্থকারের নাম, গ্রন্থের আকার, পঠা-সংখ্যা, প্রেস, প্রকাশক কে, মল্যে কত ইত্যাদি সুংবাদেই চারিপাঁচ ছত্র বায় হইয়া গিয়াছে—বাকি কয় ছত্র সমালোচনা। তা, বহিখানিকে ভালই বলিয়াছে। লিখিয়াছে—”এই নবা-কবির ভাযায় ঝঙ্কার আছে, ভাবে নতনতা ও গভীরতা আছে, তাঁহার ভবিষ্যৎ আশাপ্রদ। সাহিত্যের আসরে তিনকড়িবাবকে আমরা সাদরে বরণ করিয়া লইতেছি।” পড়িয়া তিনকড়ি নিঃশ্বাস ফ্রেলিয়া বলিল—“বাঁচা গেল । নন্দা করেনি।” রাজেন্দ্র বলিল—‘নিন্দা কেন করবে ? বেশ সংখ্যাতিই ত করেছে।” কাগজখানি উলিয়া পাল্টিয়া তিনকড়ি বলিল—“প্রসনাঞ্জলির সমালোচনা ত নেই! কেন বল দেখি, ” রাজেন্দ্র নিরাশভাবে বলিল—“কি করে জানব ভাই ?” - - "তাই ত!”—বলিয়াই গঞ্জেরণের সমালোচনাটি অভিনিবেশ সহকারে সে দ্বিতীয়বার - Xసిసి -