পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাঠ করিতে লাগিল। এই সামান্য কয়েকটি প্রশংসাবাক্যেই তাহার অন্তরপ্রদেশে পালকের হিল্লোল বহিতে আরম্ভ হইয়াছে। সহসা রাজেন্দ্র একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিল— তাহা শুনিয়া তিনকড়ি যেন চমকিয়া, একট লজিত হইয়া উঠিল। কে যেন তাহার অন্তরে কষাঘাত করিয়া কহিল—সবাথপয় ! তিনকড়ি বলিল—“আমার ত বোধ হয়, গ,ঞ্জরণকেই যখন এ কথা বলেছে, তখন প্রসনাঞ্জলি'র আরও ভাল সমালোচনা করবে।: রাজেন্দ্র বলিল--- দেখা যাক—কি বলে !" চা আসিল। পান করিতে করিতে দুইজনে গল্পগজব করিতে লাগিল। কিয়ৎক্ষণ পরে অধরচন্দ্ৰ আসিল । রাজেন্দ্র তাহাকে সমালোচনাটি পড়িতে দিল। সে পড়িয়া বলিল—”এই দৃশ লাইন সমালোচনা না করলেই নয় —যদি কল্লি বাপ, ত একটা বড় তিনকড়ি বলিল--"যে যেমন বই তার তেমনি সমালোচনা হবে ত। ভাল বইয়ের সমালোচনা বেশ বড় করেছে,—দেখ না।” প্রসনাঞ্জলির সমালোচনা নাই শনিয়া অধর মত প্রকাশ করিল—“সেখানার সমালোচনা বোধ হয় একটা বড় করেই লিখবে হয়ত, এ মাসে পথানাভাব হয়েছিল।” তিনকড়ি বলিল—“আমারও ত তাই মনে হয় ।” উঠিবার সময়, তিনকড়ির ইচ্ছা হইল সীকে দেখাইবার জন্য কাগজখানি চাহিয়া লইয়া যায়,–কিন্তু বলি বলি করিয়া বলতে পারিল না। রাজেন্দ্রের সেই দীর্ঘ-নিঃশ্বাস তাহার মনে পড়িতে লাগিল। ভাবিল, যদি দইখানি বহিরই সমালোচনা থাকিত—সে কেমন আনন্দ হইত ! না—এই আধখানা আনন্দে কোনও সুখ নাই।’ তিনকড়ি প্রস্থান করিবার মিনিট কুড়ি পরে রাজেন্দ্ৰ আহারাথ অন্তঃপুরে প্রবেশ করিল। দেখিল, ভোজনকক্ষের বারান্দায় তিনকড়ির বাড়ীর ঝি বসিয়া আছে। ভোজনকক্ষে প্রবেশ করিতেই তক্তার সল্লী বলিলেন—“হ্যাঁগা তোমার কাছে এ মাসের বঙ্গপ্রভা আছে ?” কেন ?” - “কিরণ আমায় চিঠি লিখে চেয়ে পাঠিয়েছে~-বলেছে কাল সকালেই আবার ফিরে পাঠ বে।”—কিরণবালা তিনকড়ির সন্ত্রীর নাম । BBB BB BBBB BBBBBBBS BB BB BBB BBBBB BBBBBS BB BBB কুরিয়া মহত্তকাল কি চিন্তা করিল। তাহার পর জুতা পায়ে দিয়া খটমট করিতে করতে বাহির হইয়া গৈল: “বংগপ্রভা”খানি আনিয়া সন্ত্রীর পায়ের কাছে ছড়িয়া ফেলিয়া দিল । - স্ত্রী, অবাক হইয়া স্বামীর মুখের পানে কয়েক মহত্তে চাহিয়া রহিলেন। তাহার পর কাগজখানি কুড়াইয়া, বাহির হইয়া, বিকে দিলেন। - ঝি শকিতস্বরে বলিল—“হ্যাঁ বডমা-বাব কি রাগ করেছেন ?”—বারান্দায় বসিয়া সে মুক্ত-বীরপথে সমস্তই দেখিতে পাইয়াছিল । গহিণী বলিলেন—“না, রাগ করবেন কেন ?” - কির কিন্তু সে কথা বিধাস হইল না। সে একটু চিন্তায্যক্ত হইয়াই বাড়ী ফিরিল। যাহ। কিছু দেখিয়ছিল এবং শনিয়াছিল, সমস্তই গিয়া বর্ণনা করিল। এ দিকে রাজেন্দ্র মাথাটি নীচ করিয়া কোনও মতে ভোজন শেষ করিয়া উঠিয়া পড়িল । মনে মনে সে ক্রমাগত বলিতেছিল, “অকৃতজ্ঞ –সবাথপির। এক মিনিট দেরি সইল না ? বাড়ী গিয়েই স্ত্রীর কাছে গলপ করেছ ? আনন্দে এতই উন্মত্ত হয়েছ ?” পরদিন কিন্তু মনে মনে রাজেন্দের বড় লজাবোধ হইল। ভাবিল, “কাল অনর্থক আমি তিনকড়ির উপর রাগ করেছিলাম। নিজের বইয়ের ভাল সমালোচনা হয়েছে, স্টার কাছে তা গল্প করে সে এমনই কি অন্যায় কায্য করেছে ? আর, স্বামীর প্রশংসা পড়বার ३००