পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জন্যে আগ্রহ তার স্ত্রীর পক্ষে ত নিতান্তই স্বাভাবিক। অবশ্য যদি আমার বইয়ের কোনও নিন্দা ঐ সংখ্যায় বেরত, তা সত্ত্বেও তিন যদি ওরপ আচরণ করতো, তবে আমার রাগ বা অভিমান করবার কারণ ছিল বটে। ঝি গিয়ে যদি বলে থাকে, না জানি তিনকড়ি কি মনে করছে !” ওদিকে তিনকড়িও যখন শুনিল, কিরণ তাহার অজ্ঞাতসারে “বঙ্গপ্রভা” আনিতে রাজেন্দ্রের বাড়ী ঝি পঠাইয়াছে, তখন সে মনে মনে একট সংকুচিত হইল। তাহার পর ঝি বখন আসিয়া সকল কথা বলিল, তখন সে লজায় ক্ষোভে এতটুকু হইয় গেল। দীর উপর রাগও হইল। তিনকড়ি ভাবিতে লাগিল, ‘ছি ছি বড় অন্যায় হয়ে গেছে। রাজেন্দ্র আমাকে অতি সবাথপর হদয়শন ভাবছে! এই চিন্তায় রাত্রে তাহার ভাল ঘমে হইল না; পরদিন আপিসেও মনটা বড় খারাপ রহিল। সন্ধ্যাবেলা তিনকড়ি আসিলে হাস্যমুখে রাজেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল—“কি হে, গিন্নী কাল রাত্রে সমালোচনা পড়ে কি বললেন ?" তিনকড়ি লজ্জিতভাবে বলিল—“কি আর বলবে? বললে বেশ লিখেছে।” “কিছ অতিরিক্ত পরকার-টুরস্কার দিলেন না ? দুটাে বেশী করে পাণ-টান— কি-অন্য কিছু ?”—বলিয়া রাজেন্দ্র বক্‌-হাসি হাসিল । এইরুপ হাস্য-পরিহাসে উভয়ের হদয় আবার স্বাভাবিক সন্থেতা-লাভ করিল। তৃতীয় পরিচ্ছেদ ॥ বিবাহ-সভা দইদিন পরে চোরাবাগানের কালী মিত্রের বাড়ী উভয়েরই বিবাহের নিমন্ত্রণ ছিল। সন্ধ্যার পর তিনকড়ি সাজসজ্জা করিয়া আসিল। রাজেন্দ্রের সঙ্গে, তাহার গাড়ীতেই চোরবাগান যাত্রা করিল। বিবাহ-সভায় বসিয়া গল্প-গজেব চলিতেছে, এমন সময় একজন প্রৌঢ়-বয়স্ক ব্যক্তি আসিয়া উপস্থিত হইলেন। অমনি চারিদিক হইতে “আসনে আসন" রব উত্থিত হইল । তাঁহাকে স্থান করিয়া দিবার জন্য অনেকেই সসম্প্রমে সরিয়া বসিতে লাগিল। “থকথাক, আপনারা কট করবেন না, আমি এইখানেই বসছি”—বলিয়া তিনি তিনকড়ি ও রাজেন্দ্রের সান্নিধ্যেই উপবেশন করিলেন। তিনকড়ি নিকটস্থ একজন পরিচিত ব্যক্তির কাণে কাণে জিজ্ঞাসা করিল—“ইনি কে ?” "চেনেন না ? ইনি মনতোষবাব, ‘আৰ্য্যশক্তির সম্পাদক। আচ্ছা আমি আলাপ করিয়ে দিচ্ছি”—বলিয়া তিনি ডাকিলেন, "মনতোষবাব ও মনতোষবাব-এদিকে একটু সরে আসন না। এই ইনি আপনার সঙ্গে আলাপ করতে চাচ্চেন। এর নাম তিনকড়ি বিশ্বাস, বেংগল আপিসে চাকরি করেন; আর, একজন কবি। এর নাম রাজেন্দ্রবাবরাজেন্দ্রনাথ বস। ইনি মস্তলোকের ছেলে, শ্যামপুকুরের বিজয়কৃষ্ণ বস মহাশয়ের নাম শুনেছেন ত? ইনি তাঁরই পত্র।" .9% - মনতোষবাব বললেন—“বেশ বেশ। আপনাদের সঙ্গে আলাপ হয়ে ভারি সখী হলাম। . তা, তিনকড়িবাক আপনি কবি ?" “আজ্ঞে না”—বলিয়া তিনকড়ি হাসিতে লাগিল । “আপনিই কি গঞ্জেরণ বলে বই লিখেছেন ?" তিনকড়ি একটু সলজভাবে বলিল—“সেটা অস্বীকার করতে পারিনে।” মনতোষবাব —“অস্বীকার করলে চলবে কেন ? আমাকে সমালোচনার জন্যে পাঠিয়েছেন। আমি আপনার বই পড়েছি। বইখানি আমার বেশ লেগেছে, তিনকড়িবাবা। আজকাল যাঁরা সব কবিতা লিখছেন, কেবল শবদাড়শবরই বেশীর ভাগ, ভাবের সাড়া বড় পাওয়া যায় না। তা, আপনার কবিতায় ভাব আছে—বেশ ভাব আছে।" - এই প্রকাশ্য সভায়, সহস্ৰ লোকের মাঝখানে, সবিখ্যাত ‘আযীশক্তির প্রবীণ সম্পাদকের R• A - -