পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মখে এই প্রশংসাবাদ শুনিয়া, তিনকড়ির দেহু রোমাঞ্চিত হইয়া উঠিল। রুদ্ধ কণ্ঠে সে বলিল—“আমার সামান্য কবিতা আপনার ভাল লেগেছে শুনে বড় আহমাদ হল।” মনতোষবাব বললেন—“আসছে মাসের আযীশক্তিতে সমালোচনা দেখবেন।” তিনকড়ি সহসা রাজেন্দ্রের পানে চাহিয়া দেখিল, তাহার মুখ পাংশবের্ণ ধারণ করিয়াছে। একটু ইতস্ততঃ করিয়া তিনকড়ি বলিল—“মনতোষবাব, আপনি রাজেন্দ্রবাবর বইখানিও পড়েছেন বোধ হয় ? সেখানিও আপনার কাছে সমালোচনার জন্যে গেছে।” “কোন রাজেন্দ্রবাবর বই ? এর বই ?” “হ্যাঁ । ইনিও প্রসনাঞ্জলি বলে একখানি কবিতার বই ছাপিয়েছেন।” মনতেষবাব একটু ভাবিয়া বলিলেন-–“কি জানি মনে ত পড়ছে না। আচ্ছা দেখব এখন | তিনকড়ি বলিল--"আমার কবিতার চেয়ে এর কবিতা ঢের ভাল।—এর দেখেই এক রকম আমার লিখতে শেখা।" “বটে !—বলেন কি ?—আচ্ছা আমি দেখব।—কি বই বললেন-কুসুমাঞ্জলি ?” “আজ্ঞে না—প্রসনাঞ্জলি।" “আচ্ছা—বেশ। তা তিনকড়িবাবা-কোনও মাসিকপত্রিকায় ত আপনার কবিতা দেখতে পাইনে!" তিনকড়ি বলিল—“ন-মাসিকে লিখিনে।” "কেন লেখেন না ?—লেখা উচিত –মাসিকে লেখা বেরলে, অতি অলপসময়ের মধ্যেই বহু লোকে তা পড়ে ফেলে। আমার আযর্ণশক্তিতে যদি আপনার একটি কবিতা ছাপা হয়, এক সপ্তাহের মধ্যে অন্ততঃ দশ হাজার লোকের চোখে সেটা পড়বে। আর আপনি যদি বই ছাপিয়ে বের করেন—সে বই দশ হাজার লোকের চোখে পড়তে কত বছর লাগবে বলন দেখি ?” তিনকড়ি হাসিয়া বলিল—“দতিন পরেষের কম ত নয়—যদি ততদিন আমার বই বচে থাকে।” সম্পাদক বলিলেন—“তবে ?—আপনি আমার আর্য্যশক্তিতে লিখন।—বেশ ভাল দেখে গাটা দশ বারো কবিতা—বেশ বাছা বাছা, বুঝেছেন—পাঠাতে পারবেন —আপনার কতগলে প্রকাশিত কবিতা মজত আছে ?” “বিস্তর কবিতা মজত আছে।—আপনার তিন মাসের আযশক্তির আগাগোড়া, মায় বিজ্ঞাপনের পাতা সদ্ধে, ভরিয়ে দিতে পারি।”—বলিয়া তিনকড়ি হাস্য করিতে লাগিল। “তা বেশ–পাঠাবেন। বেশী নয়, গোটা দশ বারো। সবগুলোই যে একমাসে ছাপাব তা নয়—কোনও মাসে একটি কোনও মাসে দটি—বঝেছেন ?—পাঠাবেন ত ?” “পাঠিয়ে দেব।” “আগামী সংখ্যা আয"শক্তি এখনও দ ফ’মা ছাপা হতে বাকী আছে। যদি কাল কি পরশ পাঠান, তবে এই মাসেই দই একটা কবিতা যেতে পারে।—পাঠাবেন ?” “বেশ —কালই আপনাকে এক ডজন কবিতা আমি পাঠিয়ে দেব।” “আপনি কি আয"শক্তির গ্রাহক ?” “আন্দ্রে না ।” "আচ্ছা—আপনার নাম, লেখকের তলিকায় আমরা চড়িয়ে নেব এখন। কবিতাগলি পাঠাবার সময়—আপনার ঠিকানাটিও অনুগ্রহ করে লিখে দেবেন।” “বেশ-লিখে দেব।” এই সময় শব্দ শুনা গেল—“ব্রাহ্মণ মশায়েরা—গা তুলন।” মনতোষবাব উঠিয়া বলিলেন—“আচ্ছা, ঐ, কথা রইল তা হলে।”—বলিয়া নিজ জনতা অন্বেষণে ব্যাপ্ত হইলেন। তিনি নয়নপথের অন্তরাল হইলে তিনকড়ি রাজেন্দুকে বলিল २०२