পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—“লোকটি বেশ অমায়িক-না ?” রাজেন্দ্র কাঠহাস্যের সহিত বলিল—“হ্যাঁ ৷” "মাসিকপত্রে লেখা ছাপান সম্বন্ধে উনি যা বললেন, সেটা কিন্তু খুব ঠিক বলে মনে হয়। অলপসময়ের মধ্যে অনেক দর পয্যন্ত লেখাটা ছড়িয়ে পড়ে।” রাজেন্দ্র অন্যদিকে চাহিয়া বলিল, “হ্যাঁ।” “দেখ ভাই, আমরা অাগে যা মনে করতাম যে মাসিকপত্র সম্পাদকেরা কাব্যবিচার সম্বন্ধে এক একটি আসত গোর, তা কিন্তু নয়। কি বল ?” রাজেন্দ্র শুধু বলিল—“হ্যাঁ।” “আয"শক্তিখানা আজকাল বেশ নাম করে নিয়েছে। আর ঠিক পয়লা তারিখে বেরোয় --এইটেই ওর খব বাহাদরী, নয় ?” রাজেন্দ্র কন্টেসটে বলিল,—“হ্যাঁ।” এমন সময় শব্দ শনা গেল, “কায়স্থ মশায়েরা বৈদ্য মশায়েরা অনুগ্রহ করে গা তুলন।” রাজেন্দ্র ও তিনকড়ি তখন “গা তুলিয়া” সকলের সঙ্গে ভোজন-পথান অভিমুখে চলিল। চতুর্থ পরিচ্ছেদ ॥ মেঘোদয় দইজনের বন্ধত্বের নিম্মল আকাশে এইরুপে একটখনি মেঘের সঞ্চার হইল। তিনকড়ি বঝিতে পারিল, রাজেন্দ্রের মনে একটু ভাবান্তর উপস্থিত হইয়াছে। প্রকাশ্যে কোনও কথা হইল না, তিনকড়ি মনে মনেই বলিল—“এ ত বড় জলম আমার লেখা যদি লোকে ভাল বলে—তাহাতে উহার এত অসন্তোষ কেন ? উহার লেখা যদি পাঁচজনে ভাল, বলে, তাহাতে আমার ত আহাদই হইবে।” - প্রতিদিন 'वेनि পর তিনকড়ি যেমন রাজেন্দ্রের বাড়ীতে যাইত, সেইরপেই যাইতে লাগিল। যেমন গল্পগুজব চলিত, সেইরাপই চলিতে লাগিল। কিন্তু তথাপি পর্বের মত সেরুপ প্রাণ-খোলা হাসি-কথা অমর যেন দুইজনে হয় না। তিনকড়ি মনে মনে আশা করিতে লাগিল, যদি আৰ্য্যশক্তিতে দুইজনের পশতকেরই অনুকল সমালোচনা প্রকাশিত হয়, তাহা হইলে রাজেন্দ্রের মনে আর কোনও দুঃখ থাকিবে না, মেঘ কাটিয়া যাইবে । সেও ত তার বিলম্ব নাই ; আজ বাঙ্গালা মাসের ২৮শে, আর তিনটি দিন মাত্র অপেক্ষ। ২রা তারিখে বেল ৯টার ডাকে আৰ্য্যশক্তি আসিল। মোড়ক খুলিয়া তিনকড়ি দেখিল, সৎবনাশ হইয়াছে। শেষের দিকে তাহার একটি কবিতা মুদ্রিত হইয়াছে, গঞ্জরণের প্রায় এক কলমব্যাপী সমালোচনা রহিয়াছে; আর প্রসনাঞ্জলির সমালোচনায় কেবলমাত্র লেখা "এই প্রসনগুলির না আছে রূপ না আছে গন্ধ !” পড়িয়া তিনকড়ি মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িল । ভাবিতে লাগিল—”ইহা দেখিয়া রাজেন্দ্র একেবারে ম্যমাহত হইয়া পড়িবে। তাহার যেরপ মনের গতি, সে ত আমাকে কিছুতেই আর ক্ষমা করিতে পারবে না। একি হইল ! ইহা অপেক্ষা, যদি উভরের পতকেরই প্রতিকল সমালোচনা বাহির হইত, সে যে ছিল ভাল !” - গঞ্জেরণের সমালোচনাটি তিনকড়ি দ্বিতীয়বার পাঠ করিল। বিবাহসভায় সম্পাদক মহাশয় মৌখিক যে প্রশংসা-বাক্য কহিয়াছিলেন—লেখায় তাহার অনেক অধিক রহিয়াছে। কয়েকটি স্থান উদ্ধত করিয়া ভাবের সৌন্দয্য দেখাইয়াছেন । সমালোচনাটি পড়তে পড়িতে তাহার অঙ্গে যেন পাপ-বটি হইতে লাগিল—কিন্তু সে যেন কণটকে ক্ষতবিক্ষতঅঙ্গে পল্প-বাটি। পত্রিকাখনি হাতে করিয়া, মহাবিট নয়নে তিনকড়ি ভাবিতে লাগিল। কিছুক্ষণ এইভাবে অতীত হইলে তাহার স্ত্ৰী আসিয়া বারের নিকটে দাঁড়াইয়া বললেন—“হ্যাগা २०७ "