পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—এখনও সমান করলে না, আপিসের বেলা হল যে !" সে শব্দে চকিত হইয়া তিনকড়ি বলিল—“অ্যাঁ-কি বলছ ?” কক্ষমধ্যে অগ্রসর হইয়া কিরণ বলিলেন—“বসে বসে কি ভাবা হচ্ছিল ?—হাতে ওখনি কি ?” -আযাশক্‌ ি৷” “এসেছে ?—সমালোচনা আছে ?—দেখি দেখি”—বলিয়া তিনি কাগজখানি স্বামীর নিকট হইতে একপ্রকার কাড়িয়াই লইলেন। দেখ।”—বলিয়া তিনকড়ি সনান করিতে গেল । তিনকড়ি আহারে বসিলে, পাখার বাতাস করিতে করিতে কিরণ বলিলেন—“তা এতে রাগ করলে চলবে কেন বাপ –ও সমালোচনা তুমি ত আর লেখনি। তাদের যে বইখানা ভাল লেগেছে, সেখানা তারা ভাল বলেছে : যেখান মন্দ লেগেছে, সেখান মন্দ বলেছে। এতে তোমার দোষ কি ?” তিনকড়ি বিষন্নভাবে বলিল—“সে কথা যদি সে বুঝবে তাহলে আর ভাবনা কি ছিল ?” তাপিসে সারাটা দিন তিনকড়ির মনটা খারাপ হইয়া রহিল। সন্ধ্যাবেলা রাজেন্দ্রের নিকট যাইয়া কেমন করিয়া সে দাঁড়াইবে, কি বলিয়া তাহাকে সালভূনা দিবে ? মনে মনে সিথর করিয়া রাখিল, বলিবে—“মাসিকপত্রের সমপাদকগণ কাব্যবিচারে সম্পণ অসমর্থ –এই দুইটি সমালোচনাই তাহার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। আর, উহাদের অনকল বা প্রতিকল সমালোচনায় কিছুই যায় আসে না। ভাল জিনিসের আদর সব্বসাধারণে করিবেই করিরে—মাসিকের সমালোচনায় তাহারা কখনই ভুলিবে না!”— ইত্যাদি ইত্যাদি –কিছুতেই কিন্তু তিনকড়ি মনে উৎসাহ পাইল না। কথায় চিড়া ভিজিবার সম্ভাবনা সদর-গরহত বলিয়াই তাহার মনে হইতে লাগিল । সন্ধ্যার সময় বাড়ী ফিরিয়া, হস্তমখাদি প্রক্ষালন করিয়া, কিঞ্চিৎ জলযোগেন্তে ভারাকাত হদয়ে তিনকড়ি ধীরে ধীরে রাজেন্দুের বাটী অভিমুখে অগ্রসর হইল। পেপছিয়া বারবনের নিকট শুনিল, বাব আজ দুইটার প্যাসেঞ্জার গাড়ীতে সন্দরগঞ্জে তাঁহার জমিদারীতে চলিয়া গিয়াছেন । কবে ফিরিবেন, কিছুই বলিয়া যান নাই। তিনকড়ি, বন্ধর এই সহস্য-অন্তদ্ধানের কারণ বঝিল— বঝিয়া একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া ধীরে ধীরে গহে ফিরিয়া চপ করিয়া শয্যার উপর পড়িয়া রহিল। - সত্ৰী নিকটে আসিলে বলিল, রান্তে সে কিছই খাইবে না—তাহার মাথাটা বড় ধরিয়াছে। পঞ্চম পৰিচ্ছেদ ॥ সমালোচনা ও সম্পাদক এক সপ্তাহ কাটিয়া গেল--রাজেন্দ্রের কোনও খোঁজ খবর নাই। তিনকড়ি তাহাদের বাড়ীতে গিয়া মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করে-বাক কবে ফিরিবেন, কিছু সংবাদ আসিয়াছে কি ?—উত্তর পায়—কোনও সংবাদ অাসে নাই।’ রাজেন্দ্রের ফিরিতে বখন এতই বিলম্ব হইতেছে--তখন তাহাকে একখানা চিঠি লেখা প্রয়োজন। এই ভাবিয়া তিনকড়ি কাগজ-কলম লইয়া চিঠি লিখিতে বসিল। প্রথমে অন্যান্য কথা লিখিয়া নাম-স্বাক্ষর করিয়া শেষে পুনশ্চ দিয়া বলিল—“আৰ্য্যশক্তির সে সমালোচনা দেখিয়াছ বোধ হয় । সে সমালোচনা নিতান্তই অবব চীনের মত লেখা, তাহার । কোনও মাল্য নাই।” আবার সপ্তাহ কাটিল—কিন্তু কোনও উত্তর আসিল না। একদিন সন্ধ্যার সময় আপিস হইতে ফিরিয়া তিনকড়ি দেখিল, “বঙ্গপ্রভা” ত্যাসিয়াছে। প্রসনাগুলির কি সমালোচনা হইল দেখিবার জন্য আগ্রহের সহিত মোড়ক খলিল; অনেক , প-সতকের সমালোচনা রহিয়াছে—কই স্ট্রাপলির নামোল্লেখ পৰ্য্যন্ত নাই। * - ২০ - -