পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিনকড়ি জানে, রাজেন্দ্রের ডাক প্রতিদিন ঠিকানা কাটিয়া সন্দেরগঞ্জে পাঠান হয, দই একদিনের মধ্যেই এই সংখ্যার “বঙ্গপ্রভা”খানি তাহার হস্তগত হইবে । সে তখন আবার একটি নতন আঘাত প্রাপ্ত হইবে। এই সময় আরও তিনখানি কাগজে তিনকড়ির পুস্তকের প্রশংসা বাহির হইয় গেল । তাহর মধ্যে কেবল একখানি কাগজ প্রসমাঞ্জলির উল্লেখ করিয়াছে; সমালোচনায় কেবলমাত্র লিখিয়াছে—“ইহা একখানি মামলী কবিতাপস্তক।" তিনকড়ি জনিত, রাজেন্দ্র এ কাগজখানির গ্রাহক নয়; তাই আশা করিতে লাগিল, ইহা রাজেন্দ্রের দটিতে পড়িবে না । কাগজের পর কাগজে অনুকল সমালোচনা বাহির হওয়াতে, তিনকড়ির একদল ভক্ত • জটিয়া গেল ; তাহারা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর তিনকড়ির বৈঠকখানায় আসিয়া তাহাকে ঘিরিয়া বসিত। পাঁচ ছয় দিন তন্তর তিনকড়ির এক টিন করিয়া চা ফরাইতে লাগিল । ইহার মধ্যে শরদিন্দই বাসতবিক সমজদার লোক ছিল। তাহার বয়স তিনকড়ি অপেক্ষা অলপ—কিন্তু এক একটি এমন কথা বলিত যে, তিনকড়ি আশ্চৰ্য্য হইয়। যাইত। ইংরেজি ও সংস্কৃত কাব্য সাহিত লোকটার বেশ পড়া ছিল। সে প্রায়ই আসিয়া জিজ্ঞাসা করিত—“তিনকড়িবাব-নতন কিছু লিখলেন নাকি ?” নুতন কোনও লেখা পাইলে তাহা আগ্রহের সহিত পাঠ করিত এবং প্রায়ই যথেষ্ট সংখ্যাতি করিত। এইটি তিনকড়ির চক্ষত্মোন ভক্ত। আর একটি ছিল, অন্ধ ভক্ত। তাহার নাম বিহারীলাল। সে পটলডাঙ্গার একটি ছাপাখানায় প্রিন্টারী কম করিত, কিন্তু বাঙ্গালা কাব্য তাহার বেশ পড়া ছিল। সে, তিনকড়ির কোনও রচনায় কিছলমাত্র দোষ দেখিতে পাইত না । কেহ কোন দোষ বাহির করিলে, তাহার সহিত বিহারী কোমর বাঁধিয়া তক আরম্ভ করিত। তিনকড়ির বাড়ীর অতি নিকটেই তাহার বাসা ছিল । গঞ্জেরণের প্রায় সমস্ত কবিতাই তাহার মুখস্থ। তাহার মতে, রবিবাবর পর বঙ্গদেশে একটি মাত্র কবি জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন–তিনি তিনকড়িবাব । একমাস কাটিয়া গেল, রাজেন্দের কোনও সংবাদ নাই। পাবেও সে মাঝে মাঝে জমিদারীতে যাইত বটে—কিন্তু এতদিন ধরিয়া সেখানে থাকিত না; দুই একদিন অন্তর তিনকড়িকে পরও লিখিত। কুমে তিনকড়ি একট দভাবনায় পড়িয়া গেল। নতন “আয"শক্তি” আসিয়াছে—এবার তিনকড়ির দইটি কবিতা ছাপা হইয়াছে। একটি ত একেবারে প্রথম পৃষ্ঠায়। সম্প্রতি আবার “বঙ্গপ্রভা" সম্পাদকও কবিতা চাহিয়া তিনকড়িকে পর লিখিয়াছেন। যশের আসবাদন পাইয়া, বন্ধবিচ্ছেদ-দঃখ তিনকড়ি অনেকটা ভুলিয়া রহিল। তাহার ভক্তগ্রণ ক্ৰমাগত তাহাকে আর একখানি বাঁহ প্রেসে দিবার জন্য উত্তেজিত করিতে লাগিল। অথর্ণভাবের অজুহাৎ দেখাইলে, বিহারী বলিল—“আপনি আমাদের প্রেসে ছাপতে দিন —যা বিল হবে, ম্যানেজারকে বলবো এখন, আমার মাইনে থেকে মাসে ১০ টাকা করে কেটে নিয়ে শোধ করবে। বই বিক্ৰী হলে তখন আপনি আমার টাকা শোধ করবেন।” তিনকড়ি বলিল—“তোমার ত চল্লিশটি টকা মাইনে—মাসে মাসে দশটি টকা কাটা গেলে তোমার সংসার চলবে কি করে ?” মহা উৎসাহের সহিত বিহারী বলিল—“সে আমি যেমন করে পারি চালিয়ে নেব।” এইরুপ কিছু দিন যায়। একদিন আফিসের একটি বাবর হতে নতন “রত্নাকর" মাসিকপত্ৰখানি দেখিয়া তিনকড়ি চাহিয়া লইল । পাতা উলটাইতে উলটাইতে, শেষদিকে দেখে—প্রসনাঞ্জলির সমালোচনা রহিয়াছে। বেশ অনকেল সমালোচনা; তবে তিনকড়ির মনে হইল-প্রশংসাটি একটা যেন মাত্রা ছাড়িয়া গিয়াছে। ভাবিল, তা হউক—উহাতে রাজেন্দ্রের বেদনাতুর হদয় কিয়ৎপরিমাণে সন্থ হইবে। - २०ट