পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভবচরণ সংক্ষেপে ব্যাপারখানা রোহিণীকে বুঝাইয়া দিল। রোহিণী বলিল—“কি দেবে ?” "একটা ফোর ক্লাউন হইসিক ” “আরে রামঃ—গলা জলে। গ্রীন শীল।” “আচ্ছা তাই এস তবে ।” ” বেগমের পরিচ্ছদ পরিত্যাগ না করিয়া বাহিরে যাওয়া চলে না; অথচ ছাড়িলে, আবার পরিতে অনেক কট ও সময় নষ্ট হইবে সতরাং রোহিণী একখানা বিলাতী শালে আপাদ মস্তক আবত করিয়া, চাঁটজত পায়ে দিয়া ভবচরণের পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিল। ভবচরণ সবোধবাবকে দেখাইয়া বলিল—“এরি কথা বলছিলাম।” সবোধ কাডকেস হইতে নিজের একখানি কাড বাহির করিয়া রোহিণীর হাতে দিল । বলিল—“যদি কোনও ইংরেজবেশধারিণী বৎগমহিলাকে ভিতরে দেখেন, তবে এই কাড" দেখিয়ে অনুগ্রহ করে তাঁকে ডেকে আনবেন।” রোহিণী সবোধের পানে চাহিয়া একটা মচকি হাসি হাসিল। কাড়খানি লইয়া, সবোধ দাঁড়াইয়া অপেক্ষা করিতে লাগিল। পাঁচ মিনিট পরে রোহিণী কাড়খানি হাতে করিয়া নামিয়া আসিয়া বলিল—“ভিতরে ইংরেজবেশধারিণী আপনার কোনও মহিলা নেই। একজন আছেন তিনি আপনার তাত্মীয়তা অস্বীকার করলেন।” সবোধ কোন কথা না বলিয়া মলানমুখে সে সৰ্থান হইতে চলিয়া গেল। রোহিণী তাহার সঙ্গীকে বলিল, “আজ ভাল বিপদে ফেলেছিলে ভাই। একটা গ্রীণশীলের লোভে প্রাণটা গিয়েছিল আর কি ! খুজে খুজে ইংরেজবেশুধারিণী মহিলার কাছে উপস্থিত হয়ে বল্লাম—“আপনার স্বামী বাইরে অপেক্ষা করছেন, আপনি. শীঘ্ৰ আসন 1’ বলে কার্ড দেখলাম। মাগী কাড়খানা ছড়ে আমার গায়ে ফেলে দিলে। চটে লাল। আমাকে মারে আর কি ?” “তুমি কোন সাহসে বল্লে--"তোমার স্বামী বাইরে অপেক্ষা করছেন ? স্বামী কি অনা কেউ কি করে জানলে ?” “নিশ্চয় সবামী। দেখছ না, লোকঢ়া মণিহারা ফুণী হয়ে বেড়াচ্চে। স্বাধীনতাওয়ালা আলোকপ্রাপ্ত লোক । সত্ৰীটি হারিয়ে বসে আছেন। অমত বোসকে বলব এখন, ভারি একটা মজার নতুন প্রহসন হবে।” সবোধ অঙ্গনের বাহিরে গিয়া কিয়ৎক্ষণ দাঁড়াইয়া ভাবিল। এমন বিপদে সে ইহজন্মে আর কখনও পড়ে নাই। এক একবার মনে হইতে লাগিল—এ সকল কি সত্য, না সবগুন দেখিতেছি। যদি ইহা স্বপন হইয়া যায়, যদি ঘুম ভাঙ্গিয়া উঠিয়া দেখি যে এ সব কিছু নহে, সুনীতি আমার পাশেব শয়ন করিয়া নিদ্রা যাইতেছে, তাহা হইলে কি সুখ, কি আনন্দ হয় –সবোধের দুইটি চক্ষ জলপািণ হইল ; মনে মনে বলিল— সনীতি, কোথায় তুমি, কি অবসথায় রহিয়াছ, কোন দস্যহতে, কি মহাবিপদে তুমি গতিত হইয়াছ, আমি ত কিছুই জানিতে পারিতেছি না-হাওড়া টেশনের প্ল্যাটফমে সনীতির সেই লজারক্তিম মুখখানি কেবলই সবোধের মনে পড়িতে লাগিল। দীঘনিঃশ্বাস iফলিয়া ভাবিল, হায় হায় আমিই তোমার সববনাশ করিলাম! কিন্তু এমন ভাবে কালক্ষেপ করিয়া কি ফল হইবে সবোধ মনে করিল, আর একবার হাওড়ায় গিয়া অনুসন্ধান করি, যদি সে গাড়ীখানা এতক্ষণ ফিরিয়া আসিয়া থাকে। যে গাড়ী সবোধ হাওড়া হইতে ভাড়া করিয়া আসিয়াছিল, তাহা এতক্ষণ অপেক্ষা করিতেছিল। সবোধ তাহাতে আরোহণ করিয়া হাওড়ায় যাইতে কহিল। স্টেশনে পেপছিয়া সবোধ দেখিল, অঙ্গন বহয় শকটে পরিপর্ণ। পঞ্জাব ডাকগাড়ী 18