পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাবটিকে তিনকড়ি জিজ্ঞাসা করিল—“মশায় এ কাগজখানি কবে পেলেন ?” “আজকেই। আফিসে আসবার পথে, ওদের আফিসে গিয়া হাতে করে নিয়ে এলাম।” “এ কাগজখানি অনুগ্রহ করে আমায় দিন—আমার বিশেষ প্রয়োজন আছে। আমি কাল আপনাকে আর একখানি এনে দেব।" “আচ্ছা বেশ।" তিনকড়ি ভাবিল—“আজ রত্নাকর পোস্ট হইয়া, কাল প্রাতে রাজেন্দ্রের কলিকাতার বাড়ীতে পেপছিবে। কাল ঠিকানা কাটিয়া পাঠাইলে, পরশ জমিদারীতে উহার হস্তগত হইবে। এ কাগজখানি আমি আজই তাহাকে পাঠাইয়া দিই—একদিন পবে সে পাইবে। আমার জন্যই বিক্ষত হাদয়ে সে আজ গহত্যাগী—শগ্রষাটুকুও আমার হাত দিয়া সে প্রাপ্ত হউক —এই মনে করিয়া, উচ্ছসিত ভাষায় আনন্দ প্রকাশ করিয়া তিনকড়ি তাহার বন্ধকে একখানি পর লিখিল—“রত্নাকরখানিও পাঠাইয়া দিল। সন্ধ্যার সময় আফিস হইতে বাহির হইয়া, সেই বাবটির জন্য একসংখ্যা কাগজ কিনিবার অভিপ্রায়ে, বাড়ী ফিরিবার পথে তিনকড়ি “রত্নাকর আফিসে গেল। ম্যানেজার তখন সমুদয় কাগজ ডেসপ্যাচ শেষ করিয়া, শ্রান্তদেহ চেয়ারে এলাইয়া দিয়া, সখে ধমপান করিতেছেন। তিনকড়ি গিয়া এক সংখ্যা কাগজ চাহিল। ম্যানেজার বলিলেন—“বসন মশাই—দিচ্ছি।” নিকটস্থ বেচিতে তিনকড়ি উপবেশন করিল। ম্যানেজার জিজ্ঞাসা করিল—“মশায়ের নাম ?” "আমার নাম শ্রীতিনকড়ি দাস বিশ্বাস।” এমন সময় একটি বাব ভিতরদিকের দরজায় মুখ দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন— “ম্যানেজারবাব সুন্দরগঞ্জে কাগজগুলো পাঠালেন ?—দেখবেন যেন ভুল না হয়।” ম্যানেজার বলিলেন—“পাঠিয়েছি। ভুলিনি।” সুন্দরগঞ্জের নাম শনিয়া তিনকড়ি কিছতেই কৌতুহল দমন করিতে পারিল না; ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করিল—“আমি সন্দেরগঞ্জ জানি, সেখানে আপনাদের কে কে গ্রাহক আছেন মশায় ?” ম্যানেজার বলিলেন—“গ্রাহক ?—গ্রাহক সেখানে কেউ নেই।” “তবে—ঐ যে উনি সন্দেরগঞ্জে কাগজ পাঠাবার কথা জিজ্ঞাসা করলেন ?” ম্যানেজার চরটে লম্বা টান দিয়া বলিলেন—“সেখানে খোদ কত্তাই যে রয়েছেন— সম্পাদক মশায়।” তিনকড়ি বেশ বুঝিতেছিল, এ সকল কথা জিজ্ঞাসাবাদ তাহার পক্ষে একান্তই অনধিকারচচ্চা; কিন্তু তাহর দনিবার কৌতুহল, কৰ্ত্তব্যবধিকে বিপৰ্য্যস্ত করিয়া ফেলিল। তা সে আবার জিজ্ঞাসা করিল—“সম্পাদক মশায় সেখানে কি করছেন মহাশয় ?” “হাওয়া বদলাচ্ছেন ! পদ্মার উপরেই, সেখানকার জমিদার রাজেন্দুবাবর সন্দের একটি কাছারী বাড়ী আছে, সেখানে রয়েছেন।” “আর কার নামে কাগজ পাঠালেন :” "সম্পাদক মশায়ের ভাইপো—করণাবাব। তিনি সম্প্রতি সেখানে নায়েবী কমে' বাহাল হয়েছেন। আর একখানা গেল রাজেন্দ্রবাবার নামে।” ম্যানেজার মহাশয়ের চরট শেষ হইল। উঠিয়া, আলমারি হইতে একখানি "রক্ষাকর" বাহির করিয়া তিনকড়ির হাতে দিয়া বলিলেন—“এই নিন—ছ'আনা দাম।” ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ ॥ কবিতার নমনা সপ্তাহপরে তিনকড়ি বহ-অকাঙ্গিত পত্ৰখনি পাইল। পোস্টকর্ডে অতি সংক্ষিপ্ত - وان هج