পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তোমার দুইখানি পর পাইয়াছিলাম, আজ একখানি পত্র ও মাঘের রত্নাকর পাইলাম .. —তজন্য বহু ধন্যবাদ। নানা কাজের ভিড়ে পত্রাদি লিখিবার క్గా যাহা - - * - *... l - হউক, আগামী বধবারে কলিকাতায় ফিরিব—সাক্ষাতে সমস্ত ༢་ དྲྭ་ཨཱཿ পেনহের রাজেন দিন গণিয়া গণিয়া অবশেষে বুধবার আসিল। অফিস হইতে ফিরিয়া তাড়াতাড়ি হাতমখ ধইয়া, কাপড় বদলাইয়া তিনকড়ি বহির হইতে চাহিল। কিরণ বলিল—“চায়ের জল চড়িয়াছে।” “চা আমি সেখানে খাব।” "ঝি জলখাবার আনতে গেছে, এখনি এল বলে। অন্ততঃ খাবারটা খেয়ে যাও।” “না, আমি সেইখানেই খাব।”—বলিয়া তিনকড়ি বাহির হইয়া গেল। রাজেন্দ্রের গহে পেপছিয়া দেখিল, দবারের নিকট তাহার গাড়ী যোতা প্রস্তুত। উপরে উঠিয়া দেখিল—বৈঠকখানা শনা। দই এক মিনিট পরে সাজ-সজা করিয়া রাজেন্দ্র বৈঠকখানায় আসিল । তিনকড়ি বলিল--"কি হে—কোথাও বেরন্থ নাকি ?” “হ্যাঁ —কেমন আছ ?” “ভাল আছি।—কোথা চললে ?” “এক জায়গায় নেমন্তশ্ন আছে।” "কোথা ?” রাজেন্দ্র একটা ইতস্ততঃ করিয়া বলিল—“কৃষ্ণবিহারীবাবরে বাড়ী।” “কৃষ্ণবিহারীবাব কে?" রাজেন্দ্র এই সময় নিজের পকেট হইতে ঘড়ি ও চেন বাহির করিয়া দিয়া বলিল— "ওরে, সোনার ঘড়ি আর গাড়াচেনটা নিয়ে আয়।" তিনকড়ি আবার জিজ্ঞাসা করিল—“কোন কৃষ্ণবিহারীবাব ?” রাজেন্দ্র অন্যমনে বলিল—“অ্যাঁ ?—ঐ যে—কি বলে ‘রত্নাকর কাগজের সম্পাদক . কৃষ্ণবিহারীবাব।" উভয়ের পরিচিত বন্ধবেগের নাম উভয়ে বিলক্ষণ অবগত ছিল। তাই তিনকড়ি জিজ্ঞাসা করিল—“তাঁর সঙ্গে কবে আলাপ হল ?” রাজেন্দ্র একটা যেন বিরক্ত হইয়া বলিল—“বেশী দিন নয়।” এই সময় খানসামা সোণার ঘড়ি ও গাড়াচেন আনিয়া দিল ।--তাহা গলায় ধারণ করিয়া রাজেন্দ্র একটু ইতস্ততঃ করিতে লাগিল।" তিনকড়ি বলিল—“একটু পরেই ষেও না-হয়। এই ত মোটে সাড়ে-সাতটা; এরই মধ্যে তোমার পোলাও সেখানে ঠাণড়া হয়ে যাবে না ! বস।” "বসব ?–আচ্ছা”—বলিয়া রাজেন্দ্র উপবেশন করিল। এক মিনিট—দই মিনিট-তিন মিনিট-দুজনেই নীরব ! তিনকড়ি মাঝে মাঝে বন্ধর দিকে দটি করিতেছে—সে দটিতে বিষাদ এবং আমোদ সমভাবেই মিশ্রিত। রাজেন্দ্রের ভাবটা অন্যরাপ, সে ক্রমাগত উসখসে করিতে লাগিল । তাহার ভাব দেখিয়া তিনকড়ি বলিল—“আচ্ছা, এখন তা হলে উঠি। আর তোমার দেরী করে দেব না।” রাজেন্দ্ৰ যেন বাঁচল। তিনকড়ি উঠবার পর্বেই সে উঠিয়া পড়িল। বলিল—“উঠলে ? আচ্ছা, কাল আবার দেখা হবে।”—বলিয়া উভয়ে সিড়ি দিয়া নামিয়া গেল। রাজেন্দ্র আর বাক্যব্যয়মাত্র না করিয়া গাড়ীতে উঠিল। १०१