পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিনকড়ি বকের ভিতর একটা ভারী বোঝা লইয়া, এক পা এক পা করিয়া বাড়ী ফিরিয়া গেল। সে যে জলখাবার খাইয়া আসে নাই, চা খায় নাই, সে কথা সন্ত্রীকে বলিতে পারিল না। পরদিন সন্ধ্যাবেলা তিনকড়ির গহে ভক্ত-সমাগম হইল। তাহদের সঙ্গে বসিয়া সে গল্পগজব করিতে লাগিল।—পবে কোনও দিন সন্ধাবেলা রাজেন্দ্রের বাড়ী যাইতে বিলম্ব হইলে, রাজেন্দ্র বারবান পাঠাইয়। দিত। তিনকড়ির মনে-সম্পণ না হউক—একট ক্ষীণ আশা জাগিতেছিল, হয়ত এখনি রাজেন্দ্রের বারবান ডাকিতে আসিবে।-রান্ত্রি নয়টা বাজিয়া গেল, কেহই ডাকিতে আসিল না। পরদিন সন্ধ্যার পর, উপযাচক হইয়া তিনকড়ি রাজেন্দ্রনাথের গহে গেল। রাজেন্দ্র তখন একা বসিয়া, সংবাদপত্র পাঠ করিতেছিল। তিনকড়িকে দেখিয়া বলিল-“এস—কাল আসীন যে ?” তিনকড়ি বসিয়া বলিল—“কাল কয়েকটি লোক এসেছিলেন—তাঁরা প্রায় রাত্রি সাড়েন'টা অবধি বসে রইলেন; তাই আর আসা হল না।” “ওঃ !”—বলিয়া রাজেন্দ্র আবার খবরের কাগজে মন দিল। কিয়ৎক্ষণ পরে কাগজ ফেলিয়া রাজেন্দ্র বলিল—“রামধনিয়া, দ্য পেয়ালা চা লাও তিনকড়ি বলিল—“তারপর, সেদিন কৃষ্ণবিহারীবাবর বাড়ী আর কে কে নিমন্ত্রিত ছিলেন ?” "অনেকেই ছিলেন। ঔপন্যাসিক গোবধানবাব, কবি শ্যামাকান্ত, তারপর তোমার ‘আৰ্য্যশক্তির সম্পাদক মনতোষবাবু, বগপ্রভার গৌরীনাথবাব-আরও অনেকে ছিলেন।” “তা হলে বেশ দিবি সাহিত্যিকের মজলিসটি জমেছিল বল !" “হ্যাঁ।” তিনকড়ি অনেক চেষ্টা করিল, কিন্তু কথাবাত" আর তেমন জমিল না। চা পান করিয়া কিয়ৎক্ষণ বসিয়া থাকিয়া, তিনকড়ি বিদায় গ্রহণ করিল। . এখন হইতে আর তিনকড়ি প্রত্যহ রাজেন্দ্রের বাড়ী য়ায় না। দুই চারিদিন অন্তর একদিন যায়। উভয়ের মধ্যে মৌখিক শিষ্টাচারটুকু মাত্র রহিল, সে প্রাণখোলা বন্ধুত্ব এখন আর নাই । - তিনকড়ি দেখিল, রাজেন্দ্রেরও জনকয়েক ভক্ত জটিয়া গিয়াছে। তাহারা প্রায়ই তাহার বৈঠকখানায় বসিয়া, প্রসনাঞ্জলির এবং ‘রত্নাকরে প্রকাশিত তাহার নব নব কবিতার অজস্রপ্রশংসাবাদ করে। একদিন গিয়া দেখিল, তাহার প্রধান ভক্ত অধরচন্দ্র বসিয়া আছে। উভয়ের মধ্যে কি কথোপকথন হইতেছিল, তিনকড়িকে দেখিয়া তাহা বন্ধ হইয়া গেল । আর একদিন দেখিল, অধরের সঙ্গে বসিয়া রাজেন্দ্র কি কতকগলা কাগজপত্র দেখিতেছিল, তিনকড়ি প্রবেশ করিতেই রাজেন্দ্র সেগলা দেরাজের মধ্যে বন্ধ করিয়া ফেলিল। এই রকম দেখিয়া শুনিয়া, তিনকড়ি তাহার যাতায়াত আরও কমাইয়া দিল। কোনও সপ্তাহে দুই একবার যায়—কোনও সপ্তাহে মোটেই যায় না। একদিন রবিবার প্রাতে ৮টার সময় তিনকড়ি গিয়া দেখিল, অধরচন্দ্র ও অন্যান্য ভক্তগণ রাজেন্দ্রকে ঘিরিয়া বসিয়া আছে। তিনকড়িকে দেখিয়াই অধরবাব বললেন—“আসন ! —আজকাল যে আর আপনার দশনই পাওয়া যায় না!” তিনকড়ি বসিয়া দেখিল—টেবিলের উপর টাটকা “রত্নাকর” পড়িয়া রহিয়াছে। বলিল ="এ মাসের নাকি ?”—বলিয়া কাগজখানি উঠাইয়া লইল। "রত্নাকর" পত্রে প্রতিমাসে মাসিকপত্রের সমালোচনা প্রকাশিত হয়। সেই সমালোচনা গলি ছোটবড় অনেক লেখকেরই বিভীষিকা। তিনকড়ি কাগজখানি খলিয়া প্রথমেই م۰w ډ