পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাসিক-সমালোচনা পড়িতে লাগিল। দেখিল, গত মাসের আয"শক্তিতে প্রকাশিত তাহার একটি কবিতাকে সম্পাদক সমালোচনার তীক্ষ্য-ছরিকাঘাতে খণ্ড খণ্ড করিয়া, তাহার উপর বিদ্যুপের লবণ বর্ষণ করিয়াছেন। পাঠশেষে তিনকড়ি মুখ তুলিয়া দেখিল, রাজেন্দ্র ও অধরচন্দ্র পরপরের মুখাবলোকন করিয়া গোপনে অথপণ হাস্য করিতেছে। ধরা পড়িয়া, অধর একটু অপ্রতিভ হইয়া বলিল—“ওসব কি পড়ছেন, তিনকড়িবাব। এ সংখ্যায় রাজেন্দ্রবাবর ছিদ্র তরী বলে যে কবিতাটি বেরিয়েছে, সেইটি দেখন।" তিনকড়ি সেটি অন্বেষণ করিয়া মনে মনে পাঠ করিতে লাগিল। অধরচন্দ্র সমস্তক্ষণ সকৌতুকে তাহার মাখের পানে চাহিয়া রহিল। পাঠ শেষ হইলে বলিল—“কেমন লাগলো তিনকড়িবাব ?” তিনকড়ি বলিল—“বলি কি, বলন? আমি ত ওর অর্ধেক কথার মানেই বকতে অধর এবার প্রকাশ্যভাবেই রাজেন্দ্রের পানে চাহিয়া হাস্য করিল। তাহার পর আবার তিনকড়ির দিকে ফিরিয়া, মাথাটি নাড়িয়া নাড়িয়া বলিল—“অভিধান মুখপথ করন —অভিধান মুখস্থ করন। আজকালকার দিনে কি তার ফাঁকি দিয়ে কবি হওয়া যায়?” . নিজের কবিতার অন্যায় সমালোচনার বিষে তিনকড়ির মন তখনও জডজরিত। তথাপি ক্ষীণস্বরে বলিল—“বেশ হয়েছে !" অধর উত্তেজিতভাবে বলিল—“শুধ বললেন,—বেশ হয়েছে –সে কি তিনকড়িবাব ? —এই বুঝি আপনার বিচার-শক্তি ?—লা—অন্য কোনও গঢ় কারণ আছে ? আমি বলছি এ কবিতাটি কেবলমাত্র বেশ হয়নি—গত দশ বৎসরের মধ্যে এ রকম কবিতা একটিও : পড়িনি। আহা, কি বর্ণনার ছটা –কি শব্দের ঝৎকার!”—বলিয়া হাতমখ নাড়িয়া চক্ষ ঘরাইয়া, অধর মুখপথ বলিতে আরম্ভ করিল— “কুচ্চশেখর তুখাঞ্জন বিকীর্ণ চতুরঙ্গে, আয়তচ্ছদা সত্তনপরা অভ্রৎকষ-ভঙ্গে । ভোজনাকাঙক্ষ যতেক ধৰাঙক্ষ ইল্বল ধরি ভুঞ্জে, জিহ্মমোহন উল্লম্ফন করে বলবজপাঞ্জে। ঘটে ঘটে দিক্করীগণ শোভিছে ঘাটগাত্রী— জলজিঘক্ষ, কেহ পণিছে পলওকরক পারী।” —কবি তাঁর ছিদ্র তরীখানি বেয়ে নদী দিয়ে যাচ্ছেন-পথের দই তীরের এই বর্ণনা !— ভাষার কি জোর -ওঃ—গা যেন শিউরে উঠে ! কি তিনকড়িবাব-কথা কচ্চেন না যে ?” —বলিয়া উপহাসভরে স্বীয় ওঠে ও চক্ষয়গল যুগপৎ সঞ্চালিত করিতে করিতে অধর তিনকড়ির পানে চাহিতে লাগিল। তিনকড়ি অবনতমুখে চাপ করিয়া বসিয়া রহিল। অধর বলিতে লাগিল—“বিশেষ ঐখানটা বড় সুন্দর হয়েছে—“দিক্করীগণ শোভিছে ঘাটগাত্রী,–চোখের সামনে যেন ছবিখানি দেখতে পাচ্ছি!” - উপস্থিত একজন জিজ্ঞাসা করিল—“ দিক্করী" মানে কি, অধরবাব ?” অধর বলিল—“দিক্করী মনে জানেন না ?—অথাৎ কি না, যারা দিক করে—বিরক্ত করে;—কাপড় দাও, গহনা দাও, সাবান দাও,-এসেন্স দাও-এই সব বলে যারা নিত্য বাবটি জিজ্ঞাসা করিল—“স্ত্রীলোক ?” “হ্যাঁ—যবতী। তারা আমাদের বড় দিক করে কি না, তাই তাদের নাম দিক্করী।" রাজেন্দ্র বলিল—“আঃ—কি কর অধর ? ভাষা নিয়ে ওরকম ঠাটা ভাল নয়। উনি তোমার কথা সত্যি ভেবে নেবেন। না মশায়, অধরবাবর কথা আপনি শুনবেন না। দিক্করী शृन যাবতী বটে—কিন্তু ওটি খাঁটি সংস্কৃতশব্দ। অভিধান দেখলেই বন্ধতে পারবেন Reవె