পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রথম দুইতিন পাঠা খলিয়া কিরণ বললেন—“প্রণয়োপহার—প্রিয়বন্ধবরেষু—এ সব কিছ এবার লিখে দেন নি ?" অশ্ররধ-কণ্ঠে তিনকড়ি বলিল—“মা।" গত চাবি পাঁচ দিন তিনকড়ি রাজেন্দ্রর বাড়ীতে যায় নাই। বিকালে বটি থামিয়া গিয়া আকাশও পরিকার হইয়া গেল। এক একবার তাহার ইচ্ছা হইতে লাগিল—যাই। —আবার ভাবিল—গিয়া কি হইবে ? সন্ধ্যার পর তাহার নিজন বৈঠকখানা গহে আলো জালিয়া বসিয়া “নবগতি পড়িতে লাগিল!—প্রায় সমস্ত কবিতাই পাবে তাহার পড়া ছিল। সেকালে,-যখন দুইজনে প্রণয়ভঙ্গ হয় নাই--তখন রাজেন্মের খাতাতেই অনেকগলি পড়িয়াছিল; বাকিগালি রত্নাকরে দেখিয়ছে। গোটকতক নতন কবিতাও 可夜目 পতকখানি, দুইজনের মত বন্ধত্বের সসজিত সমাধির মত তাহার মনে হইতে লাগিল। কিয়ৎক্ষণ পরে বিহারীলাল প্রবেশ করিয়া বলিল—“একা বসে কি করছেন ?" “এস —রাজেনের নব-গীত পড়ছিলাম।”—বলিয়া তিনকড়ি বহিখানি নামাইয়া রাখিল । বিহারী তক্তপোষের উপর বসিয়া বলিল—“হ্যাঁ-রাস্তায় প্ল্যাকাড দেখছিলাম। রাজেনবাব বই ছাপতে দিয়েছেন, আপনি ত আমায় একদিনও বলেন নি। "আমিই জানতাম না।” “আপনিও জানতেন না –বলেন কি ? আপনাদের দুজনে এত ভাব !” তিনকড়ি একটু বিষাদের হাসি হাসিল। বহিখানি তুলিয়া লইয়া মলাট উলটাইয়া বিহারী বলিল—“কই ?—লিখে দেননি ?" "এ বই উপহার নয় –কিনে এনেছি।" বিহারী আশ্চৰ্য্য হইয়া তিনকড়ির মুখের পানে চাহিয়া বলিল—“কিনে এনেছেন – কি রকম - “ তিনকড়ি একটা বিরক্তির সবারই যেন বলিল—“দোকান থেকে কিনে এনেছি, আর কি রকম ?” বিহারী কিয়ৎক্ষণ অবাক হইয়া তিনকড়ির পানে চাহিয়া রহিল । শেষে বলিল— “ওঃ, বুঝেছি।” . . শরদিন্দবাব এই সময় প্রবেশ করিয়া বলিলেন—"তিনকড়িবাব আছেন নাকি ?—এই যে বিহারীও এসেছ।” তিনকড়ি বলিল—“আসন শরদিন্দবাব, বসন।” শরদিন্দবাব বসিয়া বলিলেন—“নব-গীতি এসেছে দেখছি। বাঃ বেশ বাঁধাইটি করেছ ত !" বিহারী বলিল—“ঐ পয্যন্ত। ভিতরে কেবল রাবিশ ভরা।” শরদিন্দবাব বলিলেন—“ন হে, তিনকড়িবাবর সামনে একথা বোলো না—উনি রাগ “চা হল কি না দেখি”—বলিয়া তিনকড়ি উঠিয়া ভিতরে গেল । বিহারী বলিল—“শরদিন্দ, আজকাল রাজেন্দ্রবাবর সঙ্গে তিনকড়িবাবরে কি সেরকম ভাবটি নেই ?” "কেন ? তুমি কি তা আজ জানলে ?” "হ্যাঁ, আমি ত কই আগে কিছু শুনিনি।” “দেখ না, আগে তিনকড়িবাব রোজ সন্ধ্যাবেলা রাজেনের ওখানে যেতেন। এখন কালে-ভদ্রে যান। আমি ত রাজেনের ওখানে প্রায়ই যাই কিনা—আগেও যেতাম, আজকালও যাই। আগে তিনকড়ির প্রশংসা রাজেনের মাখে ধরত না; আজকাল গিয়ে শনি, প্রায়ই তিনকড়ির লেখা নিয়ে অধরবাবতে রাজেন্দ্রবাবতে ঠাট্টা বিদ্যুপ চলছে।” ३४ X