পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিহারী জুবলিয়া উঠিয়া বলিল—“তাই নাকি ?” "হ্যাঁ! ‘রত্নাকরে তিনকড়ির কবিতার সেই সমালোচনাটা, সে ত ঐ অধরেরই লেখা। অধর আজকাল রাজেনের মহা ভক্ত হয়ে উঠেছে কিনা। রাজেনকে খসী করবার জন্যে তিনকড়িকে কি রকম করে অপদস্থ করবে ভেবে পাচ্ছে না।” বিহারী দন্তে ঘষণ করিয়া পলিল—“উঃ কি নাচ-প্রবত্তি। কিন্তু দেখ, আজ পয্যন্ত তিনকড়িবাব রাজেনের বিরুদ্ধে, কিংবা তার কবিতার নিন্দ করে, ভুলেও একটি কথা বলেন নি।” "চটে যান—চটে যান। রাজেনের নিন্দা করলে তিনকড়িবাব এখনও চটে যান।” ”অথচ তিনকড়িবাবরে লেখা রাজেনের চেয়ে ঢের ভাল।” "তার আর সন্দেহ আছে ? তিনকড়িবাবরে লেখায় রীতিমত কবিত্ব আছে, খাঁটি কবিত্ব Iাকে বলে। রাজেনের কবিতা কি ?—কেবল কতকগলা দুবোধ শব্দ-সাজিয়ে দেওয়া।" | "বাসতবিকই তাই। দেখ, বই বেরিয়েছে, রাজেন একখানি তিনকড়িবাবকে উপহারও দেয়নি ! উনি দোকান থেকে এক টাকা খরচ করে কিনে এনেছেন । আচ্ছা, কেন বল দেখি ? দুজনের এত ভাব ছিল, হঠাৎ এ রকম হয়ে গেল কেন ?” “ঐ যে তিনকড়িবাবার কেতাবের ভাল সমালোচনা হতে লাগল, ওর কেতাবকে কেউ পােছলেও না। কাজেই ঈষার আগন জনলে উঠল।” "কেন, রত্নাকরে ত প্রসনাঞ্জলির বেশ ভাল সমালোচনাই শেষে বেরিয়েছিল।” শরদিন্দবাব হাসিতে হাসিতে চক্ষ মিটি মিটি করিয়া বলিলেন—“সে কি অমনি অমনি বেরিয়েছিল ? রাজেন জমিদারীতে যাচ্ছিল, টীমারে ‘রত্নাকর-সম্পাদকের সঙ্গে তালাপ হয়। নিজের কাছারিতে তাঁকে নিয়ে গিয়ে, বিস্তর তোয়াজ করে, তাঁকে পোলাও কালিয়া খাইয়ে, বিনা-জামিনে তাঁর ভাইপোকে নায়েনী চাকরি দিয়ে, তবে সমালোচনাটি হাঁসিল করেছিল। এখনও সম্পাদক মশায়ের জন্যে সন্দরগঞ্জ থেকে কানেস্তারা কানেস্তারা খি আসছে,—বসন্তা বস্তা গোবিন্দভোগ চাল আসছে, কত কি আসছে—তবে ঐ সব ট্র্যাশ মাসে মাসে ‘রত্নাকরে ছাপা হচ্ছে—অমনি ?” এই সময়ে তিনকড়ি স্বহস্তে দই পেয়ালা চা আনিয়া দুইজনকে দিল। শরদিন্দযাব বললেন—“আহা, আপনি নিজে কষ্ট করলেন তিনকড়িবাব ?" তিনকড়ি বলিল—”কট কি ? আপনারা খাবেন, এ আমার কােট না সখি ? ঝির জদর হয়েছে।” "আপনার চা কই ?” "এই যে আনছি”—বলিয়া তিনকড়ি আবার অন্তঃপরে প্রবেশ করিল। বিহারী চা-পান করিতে করিতে বলিল—“আমার যে লেখা আসে না। নইলে এই ময-গীতির এসা এক সমালোচনা আমি লিখতাম—যে বাছাধন টের পেয়ে যেতেন। তুমি লেখমা, শরদিন্দ।" "আরে রামচন্দ্র ? অামাব কি আর খেয়ে খেয়ে কাজ নেই ?” তিনকড়ি নিজের চা ও পাণের ডিবা হাতে করিয়া বাহিরে আসিল। কিয়ৎক্ষণ গল্পগজেবের পর সেদিনকার মত সভাভঙ্গ হইল। অস্টম পরিচ্ছেদ ॥ ভক্তের আবদার ইতিমধ্যে বিলাতে রবীন্দ্রবাবর বিজয়-দন্দভি বাজিয়া উঠিল। বিলাত হইতে তারের খবর আসিতে লাগিল, তথাকার সাধিবন্দ বংগীয় কবিবরের মস্তকে প্রশংসার পম্পেচন্দন এবং প্রকাশকগণ তাঁহার চরণে সবর্ণবটি আরম্ভ করিয়াছেন। রাজেন্দ্রের ভক্তগণ তাহাকে ধরিয়া বসিল—“আপনি রবিবাবর চেয়ে কিসে কম ? আপনার নব-গতিখানি অনুবাদ করে যদি বিলাতে পাঠিয়ে দেন তবে আপনারও জয়জাকায় পড়ে যায়.।” ২১২