পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজেন্দ্র ভাবিল, কথাটা মিথ্যা নহে। কিন্তু অনুবাদ করিবে কে ?—তাহার নিজের ইংরেজি-বিদ্যায় ত কুলাইবে না ! অবশেষে, অনেক পরামর্শ করিয়া, কোনও বে-সরকারী কলেজের খ্যাতনামা অধ্যাপকের বারায় অনুবাদ করানই সিথর হইল। অধ্যাপক মহাশয়, প্রচার দক্ষিণা লোভে এই কাৰ্য্যটি করিয়া দিতে স্বীকৃত হইলেন। শনৈঃ শনৈঃ অনুবাদ অগ্রসর হইতে লাগিল। উচ্চ মল্যের পাচমেন্ট কাগজে, ইংরেজের কারখানায়, পাণ্ডুলিপি টাইপরাইট করান আরম্ভ হইল। শেষ হইলে রাজেন্দ্র সেগুলি রেজিষ্ট্ৰী ডকে ম্যাকমিলান কোম্পানির নামে পত্রসহ প্রেরণ করিল। "নব-গীতি” প্রকাশের পর হইতে, আর তিনকড়ি রাজেন্দ্রের বাড়ীতে যায় নাই। যদি, রাজেন্দ্র স্বয়ং তিনকড়ির বাড়ী আসিয়া তাহাকে একখানি "নব-গীতি" উপহার প্রদান করিত, তাহা হইলেও মিটমাট হইয়া যাইতে পারিত—কিন্তু রাজেন্দ্র সে পরিশ্রম স্বীকার করে নাই। তিনকড়ি বাঁচিয়া আছে কি মরিয়াছে, সে সংবাদও কোনও দিন সে লয় নাই । তিনকড়ি যায় নাই বটে—কিন্তু "নব-গীতি” অনুবাদ, বিলাতে পাঠান প্রভৃতি সকল কথাই সে অবগত ছিল; শরদিন্দবাব আসিয়া গল্প করিয়াছেন। ইহার ফলে যে কি হয়, জানিবার জন্য তিনকড়ির যে কিছুমার আগ্রহ জন্মে নাই এমন নহে । এই সময় “রত্নাকরে” “নব-গতির” এক সুদীঘ সচিত্র সমালোচনা বাহির হইল। চিত্রখানি ফটোগ্রাফ হইতে প্রস্তুত, নিম্নে মাদ্রিত—“বঙ্গের প্রতিভাশালী সুকবি শ্রীযুক্ত রাজেন্দ্রনাথ বস" সমালোচনাটি আগাগোড়া রাজেন্দ্র ও নব-গীতির একটি মতব-বিশেষ। রবীন্দ্রবাবর নিনেই অত্যপে ব্যবধানে ইহাকে স্থান দেওয়া হইয়াছে। তিনকড়ি প্রভৃতি অন্যান্য নব্য-কবিগণ অপেক্ষা রাজেন্দ্ৰবাব যে কত উচ্চে অবস্থিত, তাহা দেখাইবার অভিপ্রায়ে দভাগ্য প্রথমোক্তগণের কাব্য হইতেও কিছু কিছু উদ্ধত ও সমালোচিত হইয়াছে। তিনকড়ির উপরেই সমালোচকের যেন আক্লোশটা বেশী বেশী। বাজারে গজব, সমালোচনাটি সম্পাদক মহাশয়েরই রচিত—তবে স্থানে থানে অধরচন্দ্রবাবরে হাতও যথেষ্ট আছে। এই সমালোচনা পাঠ করিয়া বিহারীলাল ত একেবারে ক্ষিপ্তপ্রায় হইয়া উঠিল। সে বলিল—“লাঠি মেরে আমি সমপাদকের মাথা ফাটিয়ে দেব। তারপর যা থাকে তামার কপালে।” - শরদিন্দ বলিল—“তিনকড়িরাবর বিরুদ্ধে ঐ অংশটা, ওটা সম্পাদকের লেখা নয়। ওটা শুনেছি রাজেন্দ্রের বৈঠকখানাতেই জন্মগ্রহণ করেছে; অধর লিখেছে।” বিহারী বলিল—“তবে ঐ রাজেন্দ্রেরই মাথা ফাটিয়ে দেব।” বিহারী দই তিন দিন পথে পথে লাঠি লইয়া ঘুরিয়া বেড়াইল ।—তিনকড়ি ইহা শুনিয়া তাহাকে যথেস্ট ভৎসনা করতে তবে সে নিরস্ত হয়। পরদিন শরদিন্দর বাসায় বিহারী উপস্থিত হইয়া বলিল—“আমি একখানি বই লিখেছি יין - “বল কি ! তুমিও গ্রন্থকার হলে ?” “রামা শ্যামা সবাই যখন গ্রন্থকার হল, আমিই বা বাকি থাকি কেন ?” “বেশ ত—ছাপিয়ে ফেল।” "ক্ষেপেছ ? এ দেশে ছাপাব না। এদেশে গণের আদর নেই।" “তবে ?? "একেবারে বিলাতে।” শরদিন্দবাব হাসিয়া বলিলেন—“দর পাগল ” বিহারী বলিল—“সত্যি, অনুবাদও হয়ে গেছে। সেই কি কোম্পানি বললেন, তাদের লাম ঠিকানাটা বলে দাও তু। আমার একটি জানা লোক বিলাতে আছে, তার কাছে ২১৩