পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাণ্ডুলিপিখানি পাঠিয়ে বলে দেব, সে নিজে যেন সেই কোম্পানির কাছে নিয়ে যায়।” “কে বিলেতে আছে ?” “কেন, আমাদের সবোধ। সে আমার ছেলেবেলাকার বন্ধ। দাও না, সে কোম্পানির নাম-ঠিকানা বলে দাও না।” শরদিন্দ প্রথমে মনে করিয়াছিলেন, বিহারী বঝি তামাসা করিতেছে। কিন্তু তাহার আগ্রহ দেখিয়া শেষে ভাবিলেন, হয় ত তিনকড়ির পন্তেক অনুবাদ করাইয়াছে, তাহাই পাঠাইবে, কৌশল করিয়া সে কথাটি গোপন রাখিতেছে। জিজ্ঞাসা করিলেন—“কি পাঠাবে বল না! তোমার বই নয় এ আমি শপথ করে বলতে পারি।” “যার বই-ই পাঠাই-তুমি ঠিকানা দাওনা বাপ।" শরদিন্দবাবা বলিলেন—“ঠিকানা ত তামার মনে নেই, তবে মাস ছয় হল, ম্যাকমিলানদের বাড়ী থেকে একখানা দম্প্রাপ্য বই আমি চেয়ে পাঠিয়েছিলাম, দেখি দাঁড়াও, তাদের চিঠিখানা যদি খাঁজে পাই।" কিয়ৎক্ষণ অন্বেষণের পর বলিলেন--"এই নাও পেয়েছি। এই চিঠিতে তাদের নাম ঠিকানা সবই আছে।” বিহারী চিঠিখানা লইয়া হাসিতে হাসিতে প্রসথান করিল। নবম পরিচ্ছেদ ॥ কবি সম্বন্ধনা সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাটিতে লাগিল, বিলাত হইতে কোনও উত্তর আসে না। রাজেন্দ্রনাথ ও তাহীর ভক্তগণ বড়ই উৎকণ্ঠিত হইয় পড়িল। যাহারা ভক্ত নয় অথচ এ সংবাদ অবগত ছিল, তাহারা বলিতে লাগিল—“ম্যাকমিলান কি আর পাগল হয়ে গেছে যে সেই রাবিশ ছাপবে ?” অবশেষে একদিন রাত্রি নয়টার সময় পত্র আসিল। সেদিন শনিবার, বিলাতী ডাক সন্ধ্যার পর বিলি হইবার সম্ভাবনা আছে ইহা রাজেন্দ্র সংবাদপত্রে পাঠ করিয়াছিল। ভক্তগণ পরিবত হইয়া সে সারা সন্ধ্যা কম্পিতহদয়ে প্রতীক্ষা করিয়া কাটাইল। নয়টার কয়েক মুকুল বলে অতি সমান আল মাসে ফল কাল গ রাখল। সকলে ঝাঁকিয়া দেখিল, বিলাতী পত্র বটে, বিলাতী টিকিট রহিয়াছে। কম্পিত-হস্তে বিবণ-মুখে রাজেন্দ্র পত্ৰখানি খলিল। ভক্তগণ অনিমেষ-নয়নে তাহার মুখের পানে চাহিয়া রহিল। পাঠান্তে “এই দেখ” বলিয়া সেখানি টেবিলের উপরে সকল ভক্তই হস্ত প্রসারণ করিল, কিন্তু অধর বিদ্যুদগতিতে সেখানি লইয়া পাঠ করিয়া, ভাবের প্রাবলো, “মেরে দিয়েছি—মেরে দিয়েছি” বলিয়া চীৎকার করিতে করিতে, কক্ষময় উন্মত্তবৎ নত্য করিয়া বেড়াইতে লাগিল। অপর ভক্তগণ তখন আনন্দকলসবরে পত্ৰখনি পাঠ করিতে লাগিল। রাজেন্দ্রনাথ চক্ষ খালিয়া বলিল—“অধর ও কি করছ ? বস—বস।” অধর বলিল—“না—আমি বসবো না!”—আমি নাচবো —বলিয়া সে পর্বেবং নত্য ধরিতে লাগিল। রাজেন্দ্র বলিল—“ওহে অধর, শোন।” নতা করিতে করিতে অধর বলিল—“কি ?” "এখনি যাও। একখান সেকেন-ক্লাস গাড়ীভাড়া করে—‘বেঙ্গলী' অফিসে যাও । এই চিঠি দেখিয়ে বলে এস, কাল সকালেই যেন একটা প্যারা বেরিয়ে যায়।” একজন ভক্ত বলিল—“শধে বঙ্গলী আফিসে কেন? ইংলিশম্যান, স্টেটসম্যান, ডেলিনিউজ, মিরর, অমৃতবাজার—সবাইকে খবর দেওয়া উচিত।” ইহা শনিয়া অধর স্থির হইয়া দাঁড়াইল। "আচ্ছা দাও”—বলিয়া চিঠিখানি লইয়া দতপদে বাহির হইয়া গেল। ૨88