পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছাড়িবার সময় উপস্থিত। হতবুদ্ধির মত সকল গাড়ীগুলির কাছে এক একবার দাঁড়াইল, কেমন করিয়া সে গাড়ী চিনিয়া বাহির করিবে । ডাকগাড়ী ছাড়িয়া গেল। সবোধ একটা মৎলব স্থির করিয়াছে। টেশন মাটারের কাছে গিয়া বলিল—“মহাশয়, আপনার সমস্ত কুলীকে যদি দয়া করিয়া একত্র করেন, তবে অত্যন্ত উপকৃত হই। বৈকালের ট্রেণে যে ব্যক্তি আমার তোরঙ্গ নামাইয়াছিল, তাহাকে আমার বিশেষ প্রয়োজন।” টেশন মাটার গভীরমত্তি ধারণ করিয়া বলিলেন–“মহাশয়, জি-আর-পলিসকে আবেদন করন।” চলিল সবোধ রেলওয়ে পলিসের দ্বারোগার সন্ধানে। দারোগ্য সাহেব মুসলমান. চারপাই পাতিয়া নিদ্রার আয়োজন করিতেছিলেন। তাঁহার সমীপে সবোধ উপস্থিত রইয়া আপনার “আবেদন" জানাইল। প্রথমে ত দারোগা সাহেব কথা কাণেই তোলেন না। অবস্থা বঝিয়া, প্রাণের দায়ে, সবোধ তাঁহাকে কিঞ্চিৎ দক্ষিণান্ত করিল। তখন দারোগা সাহেব সতেজে উঠিয়া বসিলেন। রাইটার কনেটবলকে হুকুম দিলেন —“বোলাও সব শালা কুলী লোগকো ।” পলিসের হাঁকডাকে স্টেশন প্রকম্পিত হইয়া উঠিল। দলে দলে বহন কুলী আসিয়া সবোধের সম্মুখে দাঁড়াইল। ক্রমে যে ব্যক্তি সবোধের তোরঙ্গ নামাইয়াছিল, সে উপস্থিত হইল। সবোধ তাহাকে চিনিল। জিজ্ঞাসা করিল—“বিকালের ট্রেণে নামিয়া, যে গাড়ী ত্যামি ভাড়া করিয়াছিলাম, সে গাড়ীর গাড়োয়ানকে তুমি,চেন কি ?” সে ব্যক্তি বলিল—“চিনি বইকি হজর, তার নাম রহিমবক্স।” “যোড়াসাঁকো ।” “সেখানে আমাকে লইয়া যাইতে পার ? ভাল করিয়া বখশিশ দিব।” বখশিশের নাম শুনিয়া কুলিপগব অত্যন্ত উল্লসিত হইয়া বলিল—“চলন না হজের । এখনই যাইতেছি।” কুলী সবোধের সঙ্গে চলিল। পলিসের সেই রাইটার কনেটবল অর্থাৎ “মন্সীজি” স,বোধের সমুখে দাঁড়াইয়া, তাহার মুখের পানে সহাস্য কটাক্ষপাত করিয়া বলিল--"বাবাসাহেব।” সবোধ বলিল—“বখশিশ ?” সে ব্যক্তি গৰিবত ভাবে বলিল--”বাবুজি, আমি চাপরাশি না দারোয়ান যে বখশিশ দিনে ? তবে পাণ খাইবার জন্য যদি কিছ দেন ত আলবৎ লইতে পারি।” সবোধ মনে মনে বলিল—“বাধিত করিতে পার।” সবোধের মন তখন অত্যন্ত উদভ্ৰান্ত। টাকার প্রতি মায়া মমতা সম্পর্ণেভাবে তিরোহিত হইয়াছিল। ঠন করিয়া একটা টাকা ফেলিয়া দিল। টাকাটা কুড়াইয়া লইয়া মুন্সী বলিল—“বন্দিগি বাব সাহেব । ” কুলীকে সঙ্গে লইয়া গাড়ী করিয়া সবোধ যোড়াসাঁকোর এক অন্ধকার গলিতে উপস্থিত হইল। পথে বরাবর শঙ্কা করিতে করিতে আসিয়াছিল, হয়ত গাড়োয়ানের দেখা পাওয়া যাইবে না। কিন্তু সে আশঙ্কা অমলেক হইল। গাড়ী আছে। গাড়োয়ান পাবে খাটিয়ায় শ্যইয়া ঘুমাইতেছে। - কুলী তাহাকে জাগাইল—“রহিম—ও রহিম—ওঠ ওঠ ।” রহিম ঘুমের ঘোরে বলিল --"আজ আর আমি ভাড়া যাব না। আজ দাঁও মেরে নিয়েছি।” | সবোধের মনটা ছনাৎ করিয়া উঠিল। ভাবিল কি অমঙ্গলের কথাই শনিব ন। হাiান ! * &