পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বায় পরিবত্তন প্রথম পরিচ্ছেদ “হরিধন—ও হরিধন—বাবা, জবরটা ছাড়ল কি ?” কপিতে কপিতে লেপের ভিতর হইতে হরিধন উত্তর করিল—হঃ–ছাড়ল –একেবারে ছাড়বে।” মা বললেন, “ষাট ষাট-ষেটের বাছ ষষ্ঠীর দাস : ও কথা কি বলতে আছে রে ?” হরিধনের কম্প আরও যেন বাড়িয়া উঠিল। - “বড় শীত করছে কি বাবা ?” “হ হ হ হ ।” “মাথাটা কামড়াচ্ছে ?" “খসে যাচ্ছে। খসে যাচ্ছে ।" “আমার ত এখন বিছানা ছোঁবার যো নাই ; বউমাকে পাঠিয়ে দেব, মাথায় একটা হাত বলিয়ে দেবে ?” “যা হয় কর । হ হ হ হ ।” আশচয্য এই যে, মা নিম্ফ্রান্ত হইবামাত্র হরিধনের কাঁপুনি বন্ধ হইয়া গেল, তাহার কাতরানিও আর শোনা গেল না। প্রথমে মুখটি, তাহার পর একখানি অস্থিসার হস্তের অগ্রভাগ, লেপের ভিতর হইতে বাহির হইয়া আসিল । খোলা জানালাপথে অপরাষ্ট্র রৌদ্র প্রবেশ করিয়া, শষ্যার একটা পথান উত্তজবল করিয়া তুলিয়াছিল, ভ্র কৃশ্চিত করিলা অপ্রসন্নভাবে হরিধন সেই দিকে চাহিয়া রহিল : - সে এই বিধবার একমাত্র পত্র। বয়স প্রায় বাইশ তেইশ হইবে, কিন্তু গোঁফদাড়ি এখনও ভাল করিয়া দেখা দেয় নাই। দই তিন বৎসর হইতে হরিধনকে ম্যালেরিয়ায় ধরিয়াছে। যখন ভাল থাকে, খাইয়া খেলিয়া বেড়ায়, তখন ইহাকে দেখিলে উনিশ কুড়ির অধিক মনে হয় না। দেহখানি পোড়া কাঠের মত, চক্ষ দুইটি কোটরগত, উদরটি ডাগর, পা দুখানি সরু সর। - এই গ্রামের নাম বলরামপুর। পর্বে হরিধনদের অবস্থা পল্লীগ্রামের পক্ষে বেশ স্বচ্ছলই ছিল বলিতে হইবে। তাহার পিতা বংশীধর চট্টোপাধ্যায় নিজ বন্ধিবলে অনেক জমি-জিরাং করিয়াছিলেন, মেটে বাড়ী ভাগিয়া দালান কোঠা তুলিয়াছিলেন। জ্ঞাতিভ্রাতা ভৈরব চট্টোপাধ্যায়ের বৈবাহিক (জ্যেষ্ঠা কন্যার শ্বশর) কোনও রাজসরকারে কম করিতেন, মহারাণীর জুবিলী উপলক্ষে রাজার সহিত গোপনে তিনি বিলাত গিয়াছিলেন, এই কথা রাণী হইবামাত্র বংশীধর ভৈরবকে একঘরে করিয়া গ্রামে একটা দলের দলপতি হইয়া উঠিলেন। শধে ভৈরব চট্টোপাধ্যায়ের জাতি মারিয়া ক্ষান্ত হইলেন না। তাঁহার সহিত অনেকগুলি মামলা মোকদ্দমাও পাকাইয়া তুলিলেন। প্রথম কয়েক বৎসর বংশীধর দোদণ্ডপ্রতাপে সমাজশাসন ও মোকদ্দমাচালন করিয়াছিলেন, কিন্তু তাহার পর কাব্য হইয়া পড়িলেন। ভৈরব চট্টোপাধ্যায়ের পত্র ভূপালচন্দ্র ডেপুটী ম্যাজিষ্ট্ৰেটী চাকরী পাইতেই, গ্রামের লোক আর বংশীধরের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হইল না—এবং একে একে তাঁহার দলকে পরিত্যাগ করিয়া ভৈরবচন্দ্রের দলে গিয়া ভিড়িতে সাগিল । বংশীধরের কিন্তু রেখ চাপিয়া গিয়াছিল, আরও কয়েক বৎসর মোকদ্দমা চালাইয়া একপ্রকার সব্বসবান্ত হইয়া, অবশেষে পরলোক গমন করিলেন। তাই হরিধন আজ দরিদ্র—পৈত্রিক সমপত্তির সামান্য যাহা অবশিষ্ট ছিল, তাহাতেই কস্টে জীবন যাত্রা নিববাহ করে। সংসারটি বহং নহে, তাই রক্ষা। . গহে মা, স্ত্রী, পিসিমা ও একটি পিসতুতো ভাই ছাড়া আর কৈহই নাই। অদ্যাবধি তাহার সন্তানাদি হয় নাই। ག[**** ཎི་ཀ་ཨརྒྷཾ ཨཀཏྭཱ ཀཏཝཊྚཏི། ཝཊྚཏཱི ཛཱཏིཀྐམཱཡ པཱཙམཾ ཨམཏསྶ ཨདཏྭཱ ཙཱ ཏིཨཱད། "לצ