পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ডাল দেবে, খানিকটে ঘি আগলে বেশ করে তাতিয়ে আমার ডালের বাটীতে ঢেলে দিও। তোমায় বরং মাসে মাসে আমি কিছ কিছ দেব। আপাততঃ এই দুটি টকা নাও।”— বামনে ঠাকুর হাসিয়া বলিল—“মা বাব, টাকা দিতে হবে না, টাকা রাখনে। আপনার এখন এই নতুন শরীর, বেশী গরপাক জিনিষ খেতে দিতে বাব বারণ করেছেন। আপনি আগে বেশ করে সেরে উঠন, তখন যা খেতে চাইবেন, দেব।” টাকা দুইটি হরিধনের নিজস্ব নহে। তিন চারি দিন পবে নিজের চাবি দিয়া ভূপালবাবরে বাক্স গোপনে খলিয়া এই টাকা দইটি সে অপহরণ করিয়াছিল। ভূপালবাবর একটি ভাল ফাউণ্টেন পেন ছিল। পাছে হারাইয়া যায়, এই ভয়ে তিনি এটি আফিসে লইয়া যাইতেন না। বাড়ীতে সৰব"দা এটি ব্যবহার করতেন। একদিন তিনি কাছারী গেলে নিজের চিঠি লিখিবার জন্য হরিধন তাঁহার টেবিলের নিকট বসিল । অন্য কলম থাকা সত্ত্বেও ফাউণ্টেন পেনটিই তুলিয়া লইল। কিন্তু ব্যবহার জনিত না। পোচ ঘরাইতে গিয়া কলমটি ভাঙ্গিয়া ফেলিল। কিয়ৎক্ষণ সেটি লইয়া নাড়াচাড়া করিয়া, ব্যবহার সম্বন্ধে হতাশ হইয়া অবশেষে একটি সাধারণ কলমেই পত্র লিখিল । ভূপালবাব কাছারী হইতে ফিরিয়া দেখিলেন, কলমটি ভাঙ্গা। বেহারাকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন। সে বলিল, হরিবাবকে এই ঘরে বসিয়া চিঠি লিখিতে দেখিয়াছে, কলমটিও নাড়াচাড়া করিতে দেখিয়াছে। ভূপালবাব তখন হরিধনকে ডাকিয়া পাঠাইলেন মনের রাগ মনের মধ্যে যথাসাধ্য ঢপিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন—“হাঁরধন, তামার কলমটি ভাংগলে কি করে ?” যেন কতই আশ্চৰ্য্য হইয়াছে এই ভাবে হরিধন বলিল, “কলম ? কোন কলম?” এই ন্যাকামি দেখিয়া ভূপালবাবর আরও রাগ হইল। পৰবাবৎ আত্মসংযত ভাবে বলিলেন—“আমার এই ফাউণ্টেন পেনটি ?” "কই, আমি ত ভাঙ্গিনি। আমি ত ও কলম ছ:ইওনি-বিন্দবিসর্গ কিছুই জানিনে।” ভূপালবাব একটু কঠোর সবরে বলিলেন, “তুমি আজ পেরেবেলা এ ঘরে বসে চিঠি লিখছিলে না ?” “চিঠি ! আমি ত তিন চারদিন কাউকে কোন চিঠিই লিখিনি।" "লেখনি –আচ্ছা, এ দিকে এস। দেখ এ কি ?”—বলিয়া ভূপালবাব টেবিলের প্লটিং-প্যাডের এক পথানে তাঙ্গলি পথাপন করিলেন। হরিধন ঝ:কিয়া দেখিল, খামে ঠিকানা লিখিয়া পাড়ের উপর চাপিয়া ধরিয়াছিল, তাহার উলটা ছাপটি পস্ট রহিয়াছে। নিবাক হইয়। ভূপালবাবর মুখপানে ফ্যাল ফ্যাল করিয়া চাহিয়া রহিল। ভূপালবাব তখন একট নরম হইয়া বলিলেন, “এই ত আরও সব কলম রয়েছে, তাই একটা নিয়ে লিখলেই হত। ও হল তানা রকম কলম-—তুমি আনাড়ি—জান না—খলতে গিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছ ” হরিধন একটু নিমন্তব্ধ থাকিয়া বলিল, “কলমটির দাম কত?" "কেন ?” “আপনার যখন সন্দেহ আমিই ভেঙেগছি, তখন ঐ কলম একটি বাজার থেকে আপনাকে কিনে এনে দেব।--দাদার বাক্স হইতে অপহৃত টাকা অারও কয়েকটি তাহার নিকট মজত ছিল ভূপালবাবর মনে হরিধনের প্রতি যে একট, ক্ষমার ভাব অসিতেছিল, এই উত্তর খানিবামায় তাহা তিরোহিত হইল। তাচ্ছিল্যের সহিত বলিলেন—“পাবে কোথা এ কলম ? এ মেকারের কলম এ দেশেই পাওয়া যায় না। কালেক্টর সাহেব বিলাত থেকে এনেছিলেন, আমায় একটি উপহার দিয়েছিলেন।" আরও কিছ দিন গেল। ভূপালবাব বেলা ১১টার সময় কাছারী তন। এক এক দিন ক্র্যহার रै३ -