পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুলী তাহাকে আশবাস দিল—“ওঠ ভাড়া যেতে হবে না। শীঘ্ৰ ওঠ i” রহিম কোন মতে উঠিল। মাখে ভয়ানক মদের গন্ধ। বিড় বিড় করিয়ু কি বকিতে লাগিল কিছই বোঝা গেল না। বকিতে বকিতে আবার ধপাস করিয়া খাটিয়ায় বসিয়া পড়িল । কুলী তখন গাড়ীর জলন্ত লণ্ঠনটা খলিয়া আনিয়া সবোধের মখে আলোক ধরিল। জিজ্ঞাসা করিল—“একে চিনতে পারিস ?” সবোধকে দেখিবামাত্র গাড়োয়ান উঠিয়া দাঁড়াইল। হাত দুইটি যোড় করিয়া অত্যন্ত করণস্বরে বলিল—“হজর, আপনার মেমসাহেব আজ আমাকে দশ টাকা বখশিশ দিয়েছেন।” ಥ್ರ! যেন হাতে সবগ পাইল । জিজ্ঞাসা করিল—“আমার মেমসাহেবকে কোথায় রেখে এসেছিস ?” গাড়োয়ানের মাথার ঠিক ছিল না। একে মদ্যের প্রভাব, তাহার উপর একদমে দশ টকা লাভ করিয়াছে! কিয়ৎক্ষণ ভাবিল। ভাবিয়া, পৰববিৎ করণস্বরে বলিল-“হােজর, ভবানীপুর।” “কোন সথান ?” সবোধের দেহে প্রাণ আসিল। ভবানীপর চকুবেড়িয়ায় সবোধের ভায়রাভাই অবিনাশচন্দ্রের বাড়ী। সনীতি নিশ্চয়ই সেখানে গিয়াছে। আর কোনও ভাবনা নাই। তব সবোধ জিজ্ঞাসা করিল—“কত নম্বর ?” “লম্বর ত মনে নাই হজের।” বারবার এই কথা বলিতে বলিতে লোকটা হাউ হাউ করিয়া কাঁদিতে লাগিল। তাহার কান্না দেখিয়া সবোধ অত্যন্ত বিস্মিত হইল। কুলীকে জিজ্ঞাসা করিল— “এ কাঁদে কেন ?” কুলী জিজ্ঞাসা করিল—“রহিম । কাঁদিস কেন রে ? ভয় কি তোর ?” রহিম কাঁদিতে কাঁদিতে উত্তর করিল—“ভয় আবার কি ? বেশী দার পিলেই আমার কান্না পায়। মনে হয় যেন আমার বিবি মরে গেছে।” শনিয়া সবোধ মনে মনে হাসিল। বিবির বিরহে মানুষের অন্তরে যে কি ভাব উপস্থিত হয়, তাহা সে এতক্ষণ হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিয়াছিল। সবোধ পকেট হইতে একখানা দশ টাকার নোট বাহির করিয়া দিয়া বলিল—“তোমরা দজনে এই পাঁচ পাঁচ টাকা বখশিশ নাও।” পর মহমত্তেই সবোধের গাড়ী ভবানীপুর অভিমুখে ধাবিত হইল। রাত্রি তখন এগারোটা। শীতল নৈশ বায় তাহার ললাটের ঘন্ম অপনোদন করিয়া দিল। সবোধ মনে এক প্রকার অভূতপবে লম্বতা অনুভব করিল। বারবার অসফটস্বরে বলিতে লাগিল —“এ কি মঞ্জি, এ কি পবিত্ৰাণ কি আনন্দ হাদয় মাঝরে!” চকুবেড়িয়া রোডে অবিনাশচন্দ্রের বাড়ীর সম্মখে সবোধের গাড়ী দাঁড়াইল। তাড়াতাড়ি গাড়োয়ানকে বিদায় করিয়া, মুক্ত দয়ারে বাটীর ভিতর প্রবেশ করিল। একেবারে অবিনাশচন্দ্রের শয়নকক্ষে গিয়া উপস্থিত। কেরোসিনের ল্যাম্প মিট মিট করিয়া জলিতেছে। অবিনাশচন্দ্র বিছানায় আড় হইয়া শ্যইয়া। তাঁহাকে দেখিবামাত্ৰ সবোধ রন্ধশ্বাসে জিজ্ঞাসা করিল—“সনীতি ?” - অবিনাশচন্দ্র হাই তুলিয়া বলিলেন—“সনীতি কি ?” “সনেীতি এসেছে ?” অবিনাশচন্দ্র আবার হাই তুলিয়া ধীরে ধীরে বলিলেন—“কোথা থেকে নেশা করে এলে : বভুল পকচ যে হে!" - সবোধ হতাশ হইয়া নিকটস্থ চেয়ারে বসিয়া পড়িল । ৭৬