পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


থোকার কাপড় - প্রথম পরিচ্ছেদ কাত্তিক মাসের নতন হিম লাগিয়া হরসন্দরবাবর যে কাসিটির সত্রপাত হইয়াছিল তাহা আজিও ভাল হইল না, বরং উত্তরোত্বর বাড়িয়াই চলিয়াছে। অবস্থা এখন এরপ দাঁড়াইয়াছে যে, সারারাত্র নিদ্রা নাই, সন্ত্ৰণ পঙ্কজিনীর শাশ্রষার গণে যদি একটু বা ঘাম আসিল, দশ মিনিট যাইতে না যাইতেই হরসুন্দরবাব খক খ্যক করিয়া কাসিতে কাসিতে একেবারে উঠিয়া বসেন। দেড়মাস কলে অনেক প্রকার ঔষধপত্র হইয়াছে কিন্তু কিছই ফল পাওয়া যায় নাই। কাসি আর বার না হয় ?—তবে ভাবনার কথা এই যে বাধিটা কৌলিক—হরসুন্দরবাবর পিতার ইহা ছিল, এবং তাঁহার দুইটি সহোদর অলপ বয়সেই এই রোগে প্রাণত্যাগ করিয়াছেন। এই কারণে হরসুন্দরবাব একটু ভীত হইয়া পড়িয়াছেন। দুইটি কোম্পানীতে দশ হাজার টাকায় তাঁহার জীবন বীমা করা ছিল, পলিসি দইখানি এবং রসিদগলি সেদিন বাহির করিয়া, স্ত্রীর জিমা করিয়া দিয়াছেন। একখানি কোম্পানির কাগজ ছিল, সেখানিও পশুকীজনীর সাক্ষাতে তাহার নামে এনডোস" করিয়া রাখিয়াছেন। হরসন্দরবাবর বয়ঃক্ৰম পয়ত্রিশ বৎসরের কাছাকাছি। পঙ্কজিনী ইহার অপেক্ষা দশ বৎসরের ছোট। বিবাহের দই তিন বৎসর পরেই হরসুন্দরবাব ব্রাহ্মধৰ্ম্মে দীক্ষা গ্রহণ করিয়াছিলেন, এবং সেই অবধি তিনি নববিধান সমাজের একজন বিশেষ উৎসাহশীল সভ্য। এম-এ উপাধি গ্রহণের পর আইন পরীক্ষাতেও পাস করিয়াছিলেন, কিন্তু ওকালতী ব্যবসায়ে মিথ্যা কথা কহিতে হয় শনিয়া, সে পন্থা পরিত্যাগ করিয়া স্কুল-মাস্টারি কাযে প্রবেশ করেন। বিগত পাঁচ বৎসর হইতে কোনও বে-সরকারী কলেজে তিনি অধ্যাপকের কম্মের্শ প্রবত্ত আছেন। রামদয়াল মল্লিকের লেনে একটি দ্বিতল বাড়ী ভাড়া করিয়া বাস করেন। বাড়ীতে তাঁহার সন্ত্রী, তিন বৎসর বয়স্ক একটি পত্র—তাহার নাম সত্যসন্দর অথবা খোকা —রামটহল নামক একজন পশ্চিমী ভূতা এবং পিয়ারী নাম্নী একজন কাহার-কুলোভবা ঝি আছে, কিন্তু সচরাচর তাহকে আয়া বলিয়া সম্বোধন করু হয়। সেদিন সন্ধ্যার পর হরসন্দেরবাব পালকের উপর শয়ন করিয়া ছিলেন, পংকীজনী বসিয়া তাঁহার পায়ে হাত বলাইয়া দিতেছিল। পালঙ্ক হইতে দরে একটি কোণে টেবিলের উপ ল্যাম্প জলিতেছিল--আলো খুব কমানে ছিল-সেই সমান্য আলোকও পাছে হরসন্দরবাবার চোখে আসিয়া লাগে তাই একখানি সঞ্জীবনী সেই ল্যাম্পের গায়ে হেলাইয়া আড়াল করা হইয়াছে। আয় খোকাকে লইয়া কক্ষান্তরে ঘমে পড়াইবার চেষ্টা করিতে‘ছল, বাড়ীটি নিমন্তব্ধ। পৃৎকীজনী স্বামীর পায়ে হাত বলাইতে বলাইতে মনে মনে, মা কালী, মা দগণ প্রভৃতি ব্রাহ্মধ্যম-বাঁহভূত নিষিদ্ধ দেবতাগণকে ডাকিয়া সজল নয়নে প্লাগানা করিতেছিল, যেন তাঁহারা কৃপা করিয়া উপায়বিহীনার স্বামীটিকে সম্বর আরোগদান করেন । - এরপ একজন পরোদস্তুর ব্রহ্মের স্ত্রী কালী দগণকে ডাকিতেছে, ইহাতে আশ্চৰ্য্য হুইবার কিছুই নাই। নিজের যোগ্য ত্রীলোভ কয়জনের অদটে ঘটে : হরসন্দরবাবরও ঘটে নাই। অনেক সময়েই দেখা যায় অত্যন্ত নিরীহ ব্যক্তির সন্ত্রী উগ্রচন্ডাসবর-পিণী, মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিতের ব্রাহ্মণী বর্ণজ্ঞানহীনা, কোপনস্বভাব দশচরিত্রের জীবন-সাংগনী পতিব্ৰত্যগণে সমাজের আদশস্থানীয়া। যোগের সহিত যোগার যোজনা উপন্যাসের সাহিরে প্রায়ই হয় না—বিশ্বসৃস্টির অনাসটি বিশেষ করিয়া এইখানেই। বিবাহের সময় পশুকজিনী যেরূপ গোঁড়া হিন্দ ছিল, ভিতরে ভিতরে এখনও সে তাহাই আছে। হিন্দ কন্যার পক্ষে একটু অধিক বয়সেই তাহার বিবাহ হইয়াছিল। প্রথম কয়েক বৎসর স্বামীর অনাচার ও অহিন্দয়ানী দেখিয়া সে যে বিশেষ চিন্তিত হইয়াছিল ,” - २२br - . www.bois&ffoiblogspot.com