পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এমন নহে—সে ভাবিত, আজিকালিকার লেখাপড়া জানা অধিকাংশ যবেকই ত ঐরপে। পরে যখন হরসন্দরবাব ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করিলেন, তখন তাহার পিত্রালয়ে ইহা লইয়া খুবই একটা গোলযৌগ উঠিয়াছিল। এমন কি তাহার পিতা, জামাতার নিকট কন্যা পঠাইবেন না বলিয়াছিলেন। তাহা শনিয়া পঙ্কজিনী কাঁদাকাটা আরম্ভ করে এবং পিরালয়ে ফিরিবার পথ চিরদিনের জন্য বন্ধ হইল জানিয়াও স্বামীর নিকট চলিয়া আসে । এখন পঙ্কজিনীর মনে দৃঢ় বিশ্বাস, যদি মা কালী মা দগণ তাহার স্বামীকে বাঁচাইয়া রাখেন, তবে চলে পাকিবীর দাঁত নড়িবার সময় তিনি অবশ্যই গোবর খাইয়া প্রায়শিচত্ত করিয়া পৈত্রিক-ধমেমরি ক্লোড়ে ফিরিয়া আসিবেন। এমন ত কতলোক আসিয়াছে। তাহালেরই গ্রামের কুমদিনীর পিতা এরাপ করিয়াছিলেন এবং ছেলেবেলা মাতার সহিত সেই প্রায়শ্চিত্ত উপলক্ষে নিমন্ত্রণ খাইতে যাওয়ার কথা আজিও পঙ্কজিনীর সপটে মনে আছে। পাশেবর একটি কক্ষ হইতে ঘড়িতে আটটা বাজিবার শব্দ আসিল। হরসন্দর এইবার পাশ ফিরিয়া জাগিয়া উঠিলেন। ক্ষীণ স্বরে বলিলেন—“পঙ্কজ, ও কটা বাজল ?”—এই কথাকয়টি বলিবার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কাসিতে আরম্ভ করিলেন। - - পংকজনী তাড়াতাড়ি উঠিয়া তাঁহার ককে হাত বলাইতে লাগিল। কিয়ৎক্ষণ পরে মসি থামিলে বলিল—“আটটা বেজেছে। তোমার ওষুধ খাবার সময় হয়েছে। ওষুধ এনে দিই!” ঔষধ পান করিবার পর হরসন্দরবাব একটু সস্থে হইলেন। একটি অধটি করি । কথা কহিতে আরম্ভ করিলেন। খোকার কথা, ঘরসংসারের কথা, নিজের রোগের কথা BBBB BBB BBuBBBBSBBBBS BB BB BBD BBBBB BB BBBB BBB পঙ্কজিনী বলিল, “কি কথ, ?” হরসন্দের বলিলেন, “দেখ, আমরা ত দুজনেই এ কবছর ব্রাহ্মধমে প্রবেশ করেছি। আমি এই ধৰ্ম্ম মানবজাতির একমাত্র সত্যধম” বলে দঢ় বিশ্ববাস করি। কিন্তু পঙ্কজ, তোমার বিশ্ববাসটিও কি সেইরকম দঢ় হয়েছে?" পঙ্কজিনী বিনা দিবধায় বলিল, “হয়েছে বইকি।”—সে জানিত. অন্যরপ উত্তর করিলে স্বামী মনে ক্লেশ পাইবেন। আজ বলিয়া নয়, অনেকদিন হইতেই সে এই প্রকার কপটতা অবলম্বন করিয়া আসিতেছে। প্রথম দই এক বৎসর সে সত্য কথা বলিত, স্বামীর সহিত যথাবধি তৰ্ক-বিতকও করিত—কিন্তু দেখিল, তাহাতে স্বামীকে আঘাত করা ছাড়া অভ্যর কোনও ফল হয় না। তাহার বিশ্বাস মিথ্যা বলাও পাপ, স্বামীর মনে ক্লেশ দেওয়াও পপি; কিন্তু স্বামীর মনে কেশ দেওয়ার পপি, মিথ্যা বলার পাপের চেয়ে শতগণ গরতর। হরসন্দর বললেন, “আচ্ছা, সে ত গেল ধৰ্ম্মসবন্ধে। সমাজনীতি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করি, সন্ত্রীলোকদের লেখাপড়া না শিখিয়ে ঘরে বন্ধ করে রাখার চেয়ে ওদের রীতিমত শিক্ষা দেওয়া আর স্বাধীনতা দেওয়া, সমাজের পক্ষে মঙ্গলকর তা তুমি বিশ্বাস কর ত " পঙ্কজিনী মুখস্থ পড়ার মত বলিল, “তা আর নয় ? পুরুষ স্মী উভয়ে মিলে ত সমাজ। পরষ লেখাপড়া শিখবে সীলোক মাখ হয়ে থাকবে—এমন হ’লে সমাজের আধখানাই যে অন্ধকারে ঢাকা রইল। সীলোককে ঘরে বন্ধ করে রাখা সেই বরষাগের প্রথা মাত্র—তাতে কখনই মঙ্গল হতে পারে না।” হরসন্দেরবাব কিয়ৎক্ষণ নীরব হইয়া রহিলেন। রামটহল এই সময় পঙ্গার বাহিরে কি পকীজনী স্বামীকে জিজ্ঞাসা করিল, "বালিটুকু এখন খাবে কি " হরসদের বলিলেন, “থাক। নটা বাজাক।” তদনরাপ আদেশ পাইয়া বামটহল চলিয়া গেল। হরসন্দরবাব সীর হাতখানি ২২৯ -