পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই সময় তাহার শ্যালিকা সমতি প্রবেশ করিলেন। সবোধকে দেখিয়া হা হা করিয়া হসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন—“কি গো সাহেব ! চন্দ্রশেখর অভিনয়টা কেমন দেখলে ?” অবিনাশচন্দ্র সন্ত্রীকে ভৎসনা করিলেন—“আচ্ছা পাগল। পেটে এক মিনিট কথা থাকে না ? আমি ভায়াকে একট চানকে নিচ্ছিলাম।” সবোধ বলিল—“খব লোক যা হোক ! এ সব বিষয় নিয়ে ঠাট্টা তামাসা করে!” মহা হাসি পড়িয়া গেল। সমতি ও অবিনাশচন্দ্র উভয়ে মিলিয়া সনেীতির দগতির ইতিহাসটা বিবত করিলেন। সবোধ কুলীর সঙ্গে টেশন মাস্টারের সন্ধানে প্রস্থান , করিলেই গাড়োয়ান গাড়ী হাঁকাইয়া একেবারে টার থিয়েটারে হাজির। গাড়ীও ছটিল, সনীতিও কান্না আরম্ভ করিয়া দিল। থিয়েটারের সম্মখে গাড়ী দাঁড় করাইয়া গাড়োয়ান আসিয়া গাড়ীর দরজা খলিয়া দিল। গাড়োয়ানকে দেখিবামাত্র সাহসে ভর করিয়া সনীতি বলিল—“চল আবার স্টেশনে চল । আমার স্বামীকে ফেলিয়া আসিলি কেন ?" গাড়োয়ান আবার হাওড়া টেশনে যায়। অনেক খুজিয়া সবোধকে পাইল না। তখন কি ভাগ্যিস সনীতির বন্ধি যোগাইল! এখানকার ঠিকানা বলিয়া দিল। দশ টাকা বখশিশ কবলে করিল। আমরা ত মেমসাহেবকে দেখিয়া চিনিতেই পারি না। শেষকালে সমিতি উপসংহার করিলেন-“আহা মরি কিবে ছিরিই বেরিয়েছিল । সে বেশ আর সে অবস্থা দেখে হাসব কি কদিব ভেবে ঠিক করতে পারিনি। যদি থিয়েটারে বক্সে নিয়ে যাবারই সাধ, তবে অমন কিভূতকিমাকার না সাজিয়ে, পজের সময় সখ করে যে নতুন পোষাক তৈরী করিয়েছ তাই পরালেই ত হত। সেও শাড়ী হোক, কিন্তু এ কালের ছাঁদের, কত সুন্দর । যে সব মেয়েরা বাইরে বেরোন তাঁরা ত ঐ পরে বেরোন, তাঁরা ত আঁর গাউন পরতে যান না। এ বন্ধিটকু তোমার ঘটে কেন জোটেনি ?" সবোধ মহা অপ্রতিভ হইয়া ভাবিল—“তাই ত!” বত্তান্ত শেষ হইলে সন্মতি সবোধকে ডাকিল—“এখন এস সাহেব মশাই! তোমার বিবির সঙ্গে দেখা করবে এস। সে ত এসে অবধি জল-গেলাসটি অবধি খায়নি, কে’দে কে’দে মরছে। এই এতক্ষণে ঘামিয়ে পড়ল। তাকে ওঠাইগে চল । তোমার অবস্থাটা কি হয়েছিল বলবে এস।” শ্ৰাবণ, ১৩o৬ ৷ দেবী সে আজ কিঞ্চিদধিক একশত বৎসরের কথা। পৌষ মাসের দীঘরজনী আর কিছুতেই পোহাইতে চাহে না। উমাপ্রসাদের নিদ্রাভঙ্গ ছইল। লেপের ভিতর অনুসন্ধান করিল, পত্রী নাই। বিছানা হাতড়াইয়া দেখিল তাহার ষোড়শী পত্নী এক পাশে গটিসটি হইয়া পড়িয়া ঘামাইতেছে। সরিয়া গিয়া অতি "তপণে তাহার গায়ে লেপখানা চাপাইয়া দিল। পাশে পায়ের দিকে হাত দিয়া দেখিল কোথাও ফাঁক বাঁহতেছে কি না। উমাপ্রসাদ বিংশতিবষীয় যবক। সম্প্রতি সংস্কৃত ছাড়িয়া সখ করিয়া পারস্যভাষা শিক্ষা করিতে আরম্ভ করিয়াছে। মা নাই –পিতা পরম পণ্ডিত, পরম ধামিক নিষ্ঠাবান গাঁৱ-উপাসক, গ্রামের জমিদার, সম্মানের সীমা নাই। অনেকের বিশ্বাস উমাপ্রসাদের পিতা কালীকিঙ্কর রায় মহাশয় একজন প্রকৃত সিদ্ধ পর্য, আদ্যাশক্তির বিশেষ অন:আছেীত। গ্রামের আবালবৃদ্ধ তাঁহাকে দেবতার মত শ্রদ্ধা করে। উমাপ্রসাদ আপনার নবীন জীবনে সম্প্রতি নবপ্রণয়ের মাদকতা অনুভব করিতে আরম্ভ* কীয়াছে। পাঁচ ছয় বৎসর পহেব তাহার বিবাহ হইয়াছে বটে, কিন্তু পত্নীর সহিত ঘনিষ্ঠতার সত্রপাত এই নতন। দীর নাম দয়াময়ী। : ' ." १ १ . . میر १