পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এখনও জাগেন নাই !—বৎকুবাব জানিতেন, সাধ-মহাত্মার ব্রাহ্মমহত্তেই গাত্রোথনি করিয়া থাকেন। তাই তিনি একটা বিস্মিত হইলেন। --- চেলা বলিল—“কাল শনিবার ছিল কিনা—তাই হাজ উঠিতে এত দেরী হইতেছে; র পাবে উঠিবেন না ।” | কি কথা ?—কলিকাতার বড়লোকেরাই ত বাগান-বাড়ীতে গিয়া শনিবার করিরা থাকে-রবিবারে বিপ্রহরের পাবে ঘাম ভাগে না। সাধ-সন্ন্যাসীরাও কি শনিবার করেন নাকি ? তাই জিজ্ঞাসা করিলেন—“শনিবার ছিল, ত কি হইয়াছে ?" চেলা বলিল, “প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রাত্রে হোম হইতেছে কিনা। সারারার হোম হয়। যে বাবাঢ় হোম করাইতেছিলেন, এই কতক্ষণ হইল তিনি ফিরিয়া গেলেন।" বকুবাব বললেন, "হোম হইতেছে ? কিসের হোম, বাবাজী ?" কিসের হোম হইতেছে, বাবাজী আসলে কিছই জানে না; কিন্তু তাহা স্বীকার করিলে হালকা হইতে হয়। তাই গভীরভাবে বলিল—“সে অতি গোপনীয় কথা।” ”কে করাইতেছেন ?” “আপনাদেরই একজন বাংগালীবাব।” "বাংগালী ? কে ? নাম কি ?” "জানি না।” “বাড়ী কোথায় ?” “জানি না।” - ব্যাপারটা কি জানিবার জন্য বঙ্কুবাবরে বড়ই কৌতুহল হইল। জিজ্ঞাসা করিলেন, বাবটি কতদিন এ হোম করাইবেন ?” বাবাজী আন্দাজে বলিল, “তিন রাত্রি হইয়া গিয়াছে—এখনও আট রাত্রি হইবে; একাদশ রাত্রিতে পর্ণাহৎ " বঙ্কুবাবর ধারণা হইল, নিশ্চয়ই কোনও পীড়ার উপশমাথ এ হোম হইতেছে। বাবাজীকে ঘরাইয়া ফিরাইয়া নানা রকমে জিজ্ঞাসা করিলেন--কিন্তু সদনত্তর পাইলেন না। তখন বঙ্কুবাব এক নতন উপায় অবলম্বন করিলেন। বলিলেন—“বাবাজী, যদি সকল কথা ঠিক ঠিক অীমায় বল, তাহা হইলে গাঁজা খাইতে তোমায় দুইটি টাকা দিব।” টকা দুইটির লোভ সম্বরণ করা বাবাজীর পক্ষে দকের; অথচ সত্য বলিতে হইলে বলতে হয়, “আমি কিছই জানি না।”—সুতরাং বাবাজী বকুবাবর চিত্তবিনোদনাথ কল্পনার আশ্রয় গ্রহণ করিবে স্থির করিল। বলিল—“আচ্ছা বাব যদি না-শনিয়া আপনি নিতান্তই না-ছাড়েন, তবে বলিতেই হইবে—টীকা দুইটি দিন। কিন্তু খবরদার, কাহারও কাছে প্রকাশ না হয় যে, আমি এ সব কথা বলিতেছি। যদি প্রকাশ হয়, তবে গরমহারাজ আপনাকেও ভস্ম করিয়া ফেলিবেন, আমাকেও ভস্ম করিয়া ফেলিবেন।” বঙ্কুবাব মদ হাসিয়া টাকা দুইটি দিলেন। বাবাজী তখন বলিতে আরম্ভ করিল— “সে বড় আশ্চয্য কথা বাব। প্রতি রাত্রে দুইটি ক্যানেস্তারা করিয়া একমণ ঘি ’মাসে। হোম হইতে থাকে—যখন আধমণ ঘি পড়িয়া যায়, তখন আমির মধ্য হইতে একটি অতি সন্দরী সীলোক বাহির হইয়া আসে। গরে মহারাজ তাহাকে হুকুম করেন, যাও, সমদ্র হইতে ভাল ভাল মাণিক মক্কা তুলিয়া আনিয়া বাবটিকে দাও। বলিতেই সে সত্ৰীলোক চলিয়া যায়। আবার হোম হইতে থাকে-আর এক ক্যানেস্তারা ঘি যখন পড়িয়া যায়, সে সীলোক আবার ফিরিয়া আসে, মঠা মঠা করিয়া কি সব জিনিষ বাবকে দেয়, দিয়া আবার অগ্নির মধ্যে লুকাইয়া পড়ে।” এই কাহিনী শুনিয়া বকুবাব স্তম্ভিত হইয়া গেলেন। ভাবিলেন—তন্ত্রশস্ত্রে যাহাকে যোগিনী-সাধন বলে, ইহা বোধ হয় তাহাই। বড়ই আশ্চৰ্য্য ব্যাপার ত!—বালককে জিজ্ঞাসা করিলেন—“তুমি সবচক্ষে দেখিয়াছ ?” - বালক খুব দঢ়ভাবে বলিল, “স্বচক্ষে লঞ্জি*