পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্মীর গাত্র আবত করিয়া উমাপ্রসাদ তাহার গণ্ডস্থলে একখানি হাত রাখিল—দেখিল সে স্থান শীতে শীতল হইয়া গিয়াছে। অত্যন্ত ধীরে ধীরে পত্নীর মুখচখন করিল। যেরপ নিয়মিত তালে দয়াময়ীর নিঃশ্বাস বহিতেছিল, সহসা তাহার ব্যতিক্রম হইল। উমা জানিল সন্ত্রী জাগিয়াছে। মদসবরে ডাকিল—“দয়া।” দয়া বলিল—“কি”। “কিটা খুব দীঘ করিয়া বলিল। “তুমি বুঝি জেগে রয়েছ ?” দয়া ঢোক গিলিয়া বলিল—“না ঘামচ্ছিলাম।” উমাপ্রসাদ আদর করিয়া স্মীকে বকের কাছে টানিয়া আনিল। বগিল—”খািমঙ্গিলে । ত উত্তর দিলে কে ?” দয়া তখন আপনার ভুল বুঝিতে পারিয়া অপ্রতিভ হইল। বলিল—“আগে ঘামচ্ছিলাম, এখন জেগে উঠলাম।” উমাপ্রসাদ জিজ্ঞাসা করিল-“এখন কখন ? ঠিক কোন সময় ?”—উমা ভারি দটে। “কোন সময় আবার ?—সেই তখন !” "কখন ?” “যাও আমি জানিনে।”—বলিয়া দয়া স্বামীর বাহ-পাশ হইতে মুক্ত হইবার যথা চোট। করিল। * ঠিক কখন জাগিয়াছে, দয়াও কিছতে বলিবে না, তাহার স্বামীও কিছতে ছাড়িযে না। কিয়ৎক্ষণ মান অভিমানের পর দয়ার পরাজয় হইল। উত্তর দিল “সেই যখন তুমি” —বলিয়া থামিল। “আমি কি করলাম ?” দয়া খুব তাড়াতাড়ি করিয়া বলিল—“সেই যখন তুমি আমায় সম খেলে,—হল ! মাগো মা ! এত জান !” তখনও এক প্রহরের অধিক রাত্রি আছে। দুজনে কত কথা আরম্ভ হইল। অধিকাংশ কথারই না আছে মাথা না আছে মণ্ড। হায়, শত বৎসর পংেব আমাদের প্রপিতামহগণের তরণেবয়স্ক পিতামাতাগণ, আসার অপদাৰ্থ আমাদেরই মত এমনি চঞ্চল মতি গতি ছিলেন। অত বড় শাক্ত পরিবারের সন্তান হইয়াও উমাপ্রসাদ সে পৰ্যন্ত একদিনও সন্ত্রীর নিকট মাদ্রাপ্রকরণ বা মাতৃকান্যাসের কোনও প্রসঙ্গ উত্থাপন করে নাই এবং যমনিয়মাদি সম্বন্ধে তাহাকে সম্পণে অজ্ঞ রাখিয়াছিল। নানা কথার পর উমাপ্রসাদ বলিল—“দেখ, আমি পশ্চিমে চাকরি করতে বেরব।” দয়া বলিল—“তোমার আবার চাকরি করা কেন ? তোমার কিসের দুঃখ ? জমিদারের ছেলে হয়ে কেউ চাকরি করে নাকি ?” “আমার এখানে দুঃখ আছে বইকি।” কি ?” “তুমি যদি আমার দুঃখ বাকবে তা হলে আর আমার দুঃখ কিসের " শনিয়া দয়া ভারি অপ্রস্তুত হইয়া গেল। ভাবিতে লাগিল, কি দুঃখ ?—ভাবিয়া কিছই স্থির করিতে পারিল না। একট দন্টাম বন্ধি আসিল। বলিল “তোমার কি দুঃখ ? আমি বঝি মনের মত হইনি ?” দয়া জানিত এ কথা বলিলে উমাপ্রসাদকে আঘাত করা হইবে। উমাপ্রসাদ প্রিয়ামখে অজস্র চক্রবনবষণ করিয়া এই আঘাতের প্রতিশোধ লইল। পরে বলিল— ‘আমার দুঃখ তোমাকে নিয়েই বটে। সমস্ত দিন আমি তোমায় পাইনে। শধ্যে রাত্তিরটি পেয়ে সাধ মেটে না। বিদেশে চাকরি করতে যাব, সেখানে তোমায় নিয়ে যাব, কেমন দুজনে একলা থাকব, সারাদিন সারারাত!" - “চাকরি করবে ত সারাদিন আমাকে নিয়ে থাকবে কেমন করে ? আমাকে ত একল "שף