পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একই বাপের কাছ থেকে পাওয়—যিনি জন্মাবধি আমায় কত ভালবেসেছেন, কত স্নেহ করেছেন, নিজের খাবার থেকে কেটে আমায় খাইয়েছেন—তিনি এমন নিষ্ঠর হয়ে পড়লেন যে, আমার প্রাণনাশ করতে উদ্যত –এই ভেবেই মনে আমি বড় দুঃখ পেয়েছি। ভয়ে আমি মনুষড়ে যাইনি বঙকুদাদা !” এইরুপ কথোপকথনে রাত্রি নয়টা ব্যজিয়া গেল। ঝি আসিয়া সংবাদ দিল—আহরের সস্থান হইয়াছে। মনের এরপে অবস্থায় পাছে টনরাণী কিছু সন্দেহ করে, কি হইয়াছে জানিবার জন্য পীড়াপীড়ি করে, তাই সে রায়ে সরেন্দ্রনাথ অন্তঃপুরে শয়ন করিল না। বহিব্বাচীতে বকুবাবর জন্য যেখানে শয্যাপ্রস্তুত হইল, তাহার নিকটেই ভিন্ন শয্যাতে সেও শয়ন কুরিল । ‘ শয়ন করিয়াও অনেক রাত্রি অবধি দুইজনে কথাবাত্ত হইল,—কিন্তু কিছুই মীমাংসা হইল না। বকুবাব বলিতে লাগিলেন—“তুমি বিশ্বাস কর আর নাই কর, আমি ত বিশ্বাস করি। আমার মনের শান্তির জন্যে, উৎকন্ঠ নিবারণের জন্যে, আমার পরামশ তোমার শোনা উচিত।” সুরেন্দ্র ইহা অলীকার করিতে পারিল না। বলিল--"আচ্ছা দাদা-কাল বা হয় একটা কিছু উপায় সিথর করা যাবে।” ভোর-রাত্রে সরেন্দ্রের ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল। বিছানায় পড়িয়া পড়িয়া কেবল সে মনে মনে এই সকল বিষয় চিন্তা করতে লাগিল। অন্ধ ঘণ্টাকাল এইরপে কাটিলে, হঠাৎ শষ্যার উপর উঠিয়া বসিয়া ডাকিল, “বকুদাদা—ও বকুদাদা!” ভক্তি বৎকুবাব জাগিয়া উঠিলেন। সরেন্দ্র বলিল—“দাদা, বিন্ধ্যাচল যাওয়াই র i* শনিয়া সখী হইয়া বৎকুবাব ও উঠিয়া বসিলেন। বলিলেন—“বেশ তাই, তবে আঞ্জ সন্ধ্যার গাড়ীতেই যাত্রা করি চল—তার দেরী নয়।” সরেন্দ্র বলিল—“হাতে পায়ে ধরা নয় দাদা। আমি একটা উপায় স্থির করেছি।" “কি উপায় ?” সরেন্দ্র হাসিয়া বলিল, “সে এখন বলছিনে। বিন্ধাচলে গিয়ে শনতে পাবেন।” সপ্তম পরিচ্ছেদ । ডাকগাড়ী বিন্ধ্যাচলে দাঁড়ায় না, তাই মিজাপরেই নামিবার পরামর্শ ছিল। মিজেপির হইতে বিন্ধ্যাচল আড়াই ক্লোশ মাত্র-ঘোড়ার গাড়ীতে একঘণ্টায় পৌছান যায়। পরদিন বেলা সাড়ে দশটার সময় সকলে মিজাপারে নামিলেন। নিকটেই ধৰ্ম্মশালা আছে, সেখানে গিয়া মানাহার সারিয়া বেলা তিনটার সময় বিন্ধ্যাচল যাত্রা স্থির হইল । ধন্মশালার বিতলে দুইটি ভাল ঘর পাওয়া গেল। জিনিষপত্র ও মেয়েদের সেখানে রাখিয়া, পাকাদির বন্দোবস্ত করিয়া দিয়া, সরেন্দ্রনাথকে লইয়া বকুৰাত গঙ্গামানে বহির হইলেন। স্নান করিতে করিতে বঙ্কুবাব বললেন—“কি মৎলবটা করেছ, এইবার বল শনি।” সরেন্দ্র বলিল-“আগে কামটা হয়ে যাক, তারপর শনবেন দাদা?" “হয়ে গেলে শািনব ?—দেখতেই পাব।” “লা দাদা,—আপনার সেখানে যাওয়া হবে না।” “আমি যাব না ?--কেন ?” “যে কৌশলটি আমি উদ্ভাবন করেছি—আপনার সঙ্গে গেলে তা পন্ড হয়ে যাবে।" বকুবাব একটু ভীত হইয়া বলিলেন—“কৌশল ? তাঁর সঙ্গে কি কৌশল করবে তুমি ? ওহে, না না-কৌশল-টৌশল করতে ষেও না–তাঁরা হলেন সিদ্ধপরম, হয়ত বিপদে পড়ে যাবে।” - ९¢२.