পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাত্তির দক্ষিণভাগে গহবরের একটা পথান হইতে এক সড়ঙ্গ চলিয়া গিয়াছে—কোথায় গিয়াছে, তাহার স্থিরতা নাই—ভিতরটা মহা অন্ধকার। পরোহিত প্রদীপ লইয়া, সড়ঙ্গের মুখে ধাঁরল—কতকটা অংশে আলোক পড়িল বটে—তাহার পর আবার অন্ধকার। দেখিয়া টনরাণীর বড় ভয় করিতে লাগিল। দশন শেষ করিয়া, সিড়ি দিয়া পাহাড় হইতে নামিতে নামিতে সুরেন্দ্র বলিল, “বউদিদি, ঐ যে নীচে আমগাছগুলির মধ্যে একখানি একতলা পাকা বাড়ী দেখছ, শনছি ওটা একটি সাধর আশ্রম। তিনি নাকি একজন সিদ্ধপরষ—আর খুব ক্ষমতা-টমতা আছে। যাবে, ওঁকে প্রণাম করবে ? বউদিদি খসী হইয়া বলিলেন, "চল না ভাই ।” আর কয়েকটি সিড়ি নামিয়া সুরেন্দ্র বলিল, “আচ্ছা, বউদিদি, প্রণাম করতে হলে, কিছ প্রণামীও দিতে হয় ত?" “দিতে হয় বইকি ! শুধু হাতে কি প্রণাম করতে আছে ?” সরেন্দ্র পকেট হইতে দশটি টাকা বাহির করিয়া বউদিদির হাতে দিয়া বলিল, “এই নাও-তোমরা দুজনে পাঁচ টাকা করে প্রণামী দিও ” সাধুবাবার আশ্রম হইতে কিয়ন্দরে সরেন্দ্রের ভাড়া গাড়ীখানিও অপেক্ষা করিতেছিল। নামিয়া, আশ্রমের দিকে কোচম্যানকে ইঙ্গিত করিয়া, সরেন্দ্রনাথ অগ্রসর হইল। দর হইতে দেখিল, আশ্রমের বারান্দায় বিপুল-কলেবর জটাজুটধারী একব্যক্তি বসিয়া আছেন, একজন ভৃত্য তাঁহাকে পাখা করিতেছে। অলপদরে তিন চারিজন হিন্দুস্থানী ভক্ত করযোড়ে উপবিট। সরেন্দ্র বলিল—“উনিই বোধ হয় সাধুবাবা, ওখানে আরও সব লোকজন রয়েছে। তোমরা দুজনে প্রণাম করে গাড়ীতে এসে বসে থেক, আমি বাবার কাছে বসে একটা কথাবাত্ত কৰ এখন।” কুমদিনী বলিলেন, “আমরা তা হলে ত কিছই শনতে পাব না।” "কেন পাবে না ? গাড়ী ঐদিকেই যাচ্ছে। কাছেই গাড়ীখানা থাকবে এখন, তোমরা খড়খড়ি তুলে বেশ দেখতে পাবে, শনতে পাবে।” - নিকটবত্তীর্ণ হইয়া বউদিদি বলিলেন, “টনীর কবে ছেলে হবে, জিজ্ঞাসা কোরো।” ইহাদের লইয়া সুরেন্দ্র অগ্রসর হইল। দেখিল, সাধুবাবা একখানি ব্যাঘ;চম বিছাইয়া বসিয়া, একটি ছবিকাটা পিতলের গেলাসে সিদ্ধিপান করিতেছেন। ইহাদিগকে আসিতে দেখিয়া সাধুবাবা একদটে চাহিয়া রহিলেন। বঝিলেন, ইহারা দরিদ্র নহে— সম্পন্ন-লোকের মত দেখিতে। বারান্দার সমীপবৰ্ত্তী হইয়া বাকিয়া কিছুক্ষণ ধরিয়া সুরেন্দ্র বটজোড়াটির ফিতা খলিল। জতা ছাড়িয়া স্ত্রী ও ভ্রাতৃজায়া সহ ধীরে ধীরে বারান্দায় উঠিল। সাধু-বাবা মোটা গলায় বলিলেন,—“এস!” হিন্দপথানী ভক্তেরা সসম্ভ্ৰমে সরিয়া দরে বসিল। এক এক পা করিয়া কাছে গিয়া প্রথমে বউদিদি পরে টানরাণী টীকা দিয়া প্রণাম করিলেন। তাহার পর সরেন্দ্র পটভক্তিভরে প্রণাম করিয়া, বাবার পদপ্রান্তে একটি চকচকে গিনি রাখিয় দিল। সাধবোল্প বলিলেন—“জয়োহস্তু ! মা অস্টভূজা তোমাদের মঙ্গল করন। বস। আরে চামবিয়া একঠো দরী-উরী কুছ লাও ত রে।” সরেন্দ্র বলিল, “বাবা, ঐ আমাদের গাড়ী রয়েছে, এদের গাড়ীতে বসিয়ে রেখে আসি।” যেন একটু ক্ষমস্বরে বাবাজী বলিলেন, “আচ্ছা।” ইহাদের গাড়ীতে বসাইয়া, সরেন্দ্র ফিরিয়া আসিল। ইহার মধ্যে ভূত্য সাধবাবার সন্মুখে একখানি শতরঞ্চ বিছাইয়া দিয়াছিল—সুরেন্দ্র তাহার উপর উপবেশন করিল ;– বকোধামিকের মত করষোড়ে ধীরে ধীরে বলিল—“ষে রকম শনেছিলাম—সেই রকম : দেখলাম। বাবার দশনলাভ কবে আজ কৃতাৰ্থ হলাম।” সাধাৰাবা সহস্যমখে একবার দরোপবিট সেই হিন্দুস্থানী ভক্তবন্দের প্রতি নেত্রপাত ૨(t8