পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“ফলাফলও লিখে দেব ? আচ্ছা বেশ । সংস্কৃতে লিখব, না বাঙ্গলায় ?” "সংস্কৃত আমি কি বুঝব বাবা, মুখ্য-সংখ্য মানুষ ! দয়া করে বাংলাতেই লিখে দিন ।” বাবাজী তখন কাগজ লইয়া, কিছুক্ষণ ধরিয়া লিখিলেন। পরে তাহা সাবধানে একবার পাঠ করিয়া, সুরেন্দ্রনাথের হাতে দিলেন । সুরেন্দ্র মনে মনে পড়িল,— “শ্রীমান সুরেন্দ্রনাথ দত্তস্য করকোষ্ঠী বিচার ফলমেতৎ লিখতে। ধনস্থান, পত্রস্থান, পণ্যস্থান, অতীব শুভ। পরমায় চয়াত্তর বর্ষ পচি মাস বাবিংশতি দিবস। আগামী সৌরবষস্য ভদ্রে মাসি শ্রীমানের একটি গুরতর ফাণ্ড দেখা যায়। জলপথে নৌষ্যত্রায় বিপদ-সম্ভাবনা কিন্তু যথাশস্মি হোমাদি অনুষ্ঠান করিলে সে বিপদ হইতে উত্তীর্ণ হইবেক । -. লিখিতং শ্ৰীকালিকানন্দ ব্রহ্মচারী— মোং বিন্ধ্যাচল, অষ্টভূজা পাহাড়ের নিনে কালিকাশ্ৰম। তাং ১৬ই আশিবন।” কাগজ লইয়া প্রাণামান্তে সরেন্দ্রনাথ বিদায় গ্রহণ করিল। নবম পরিচ্ছেদ বধ্যবয়কে লইয়া সরেন্দ্র যখন বিন্ধ্যাচলে দাদার বাসায় পেপছিল, তখন সন্ধ্যা উত্তীণ* হইয়া গিয়াছে। বৈঠকখানায় দেখিল, বঙ্কুবাব বসিয়া আছেন। এখানে তাঁহাকে দেখিয়া সরেন্দ্র একটু বিস্মিত হইল। জিজ্ঞাসা করিল—“আপনি কতক্ষণ ই দাদা কই ?” বঙ্কুবাবু বলিলেন, “তোমার দাদা মন্দিরে আরতি দেখতে গিয়েছেন। মেয়েদের বাড়ীর মধ্যে রেখে এস।” বাড়ীর ভিতর হইতে সুরেন্দ্র ফিরিয়া আসিলে বঙ্কুবাব বললেন—“ওদিকের খবর সুরেন্দ্র হাসিতে হাসিতে বলিল, “কাজ হাঁসিল, বৎকুদাদা !—কেল্লা ফতে ” “কি রকম ייק “এগার দিন মারণ ক্লিয়ার পর আমার কঠিন রোগ হবে, একুশ দিন পরে আমি মরে যাব--এই কথা ছিল ত ?” বঙ্কুবাব ধীর হইয়া বলিলেন—“হ্যাঁ-তা কি হল, বল।” “এই দেখন বাবাজীর দস্তখতী স্বীকার-পর-সাড়ে চয়াত্তর বছর আমার পরমায়। একটা ফান্ডা’ আছে বটে, তাও বছরখানেক পরে। এই দেখুন, বাবাজীর দস্তখত, এই দেখনে আজকের-তারিখ এখনও কালি শুকোয়নি। কাগজখানি যে জাল নয়, খোদ বৌদিদি তার সাক্ষী।”—বলিয়া হাসিতে হাসিতে সুরেন্দ্র কাগজখানি বঙ্কুবাবর হাতে দিল । কাগজখানি পড়িয়া বঙ্কুবাব কয়েক মহত্ব নিস্তবধ হইয়া রহিলেন, পরে একটি বড়রকম নিঃশ্বাস ছাড়িয়া বলিলেন—“বাঁচা গেল!” সুরেন্দ্র তখন আনপোবিক সমস্ত ঘটনা তাঁহাকে বলিয়া জিজ্ঞাসা করিল—“কেমন বকুদাদা, এখন আপনার বিশ্বাস হল ত, লোকটা আসলে জয়াচোর ?” বকুবাব গভীর ভাবে মাথা নাড়িয়া বলিলেন—“না।" সরেন্দ্র আশ্চৰ্য্য হইয়া বলিল—“আী ! বলেন কি ?—এর চেয়ে কি বেশী প্রমাণ আপনি চান ?” বঙ্কুবাব বলিলেন—“এ থেকে এইমাত্র প্রমাণ হচ্ছে, তোমার দাদার মারণ-যজ্ঞটি মাঝখানেই শেষ হয়ে যাবে—আর বেশী অগ্রসর হবে না, পণাহুতি ঘটবে না।” সরেন্দ্র হঠাৎ কোনও উত্তর করিতে পারিল না। প্রায় অধিমিনিট কাল নীরব থাকিয়া বলিল—“আপনি হার মানালেন বকুদাদা , আপনার সরলতা! সেকথা যাক ।