পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পড়িয়া কুমদ আপন মনে তুলিল—“ঠিক ত!—পথ খুজিয়া পাইতেছিলাম না—এই ত পথ রহিয়াছে।” করিতে করিতে কুমদ ভাবিতে লাগিল—”কে কাঁদিবে : বাবা নাই, মা নাই ভাই নাই। বোনেরা আছে, তারা কাঁদিবে। বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে কেহ কেহ কাঁদবে। আর—না সে বোধ হয় কাঁদবে না; শাদ কখনও কালোর জন্যে কাঁদে ” হাইকিটুকু নিঃশেষ করিয়া কুমদ মনে মনে বলিতে গিল—“যদি বাঁচিয়া থাকি— তবে প্রথমটা ত জয়াচোর খেতাবটি মাথা পাতিয়া লইতে হইবে। তাহার পর জীবিকাসংগ্রহের জন্য এদেশে কত লাঞ্ছনাই যে ভোগ করতে হইবে, তাহার স্থিরতা কি? বাঁচয়া কি সুখ হইবে? তার চেয়ে সন্ধ্যার পর হাইড পাকে বসিয়া, গড়ম করিয়া একটি অ’ওয়াজ-–এবং সঙ্গে সঙ্গে সব শেষ।” ' কুমদ যেন কল্পনায় দেখিতে লাগিল, পরদিনের সংবাদপত্রগুলিতে বড় বড় হেডলাইন ছাপা রহিয়াছে— HYDE PARK TRAGEDY AN INDIAN STUDENT SHOOTS HIMSELF s WHIH A REVOLVER কিয়ৎক্ষণ পরে টেবিল ধরিয়া সে উঠিয়া দাঁড়াইল—তাহার চক্ষ তখন লাল জবাফলের মত। পরিচিত কেহ যদি সে অবস্থায় তাহাকে দেখিতে পাইত, তবে ভিতরকার কোনও কথা না জানিয়াও শঙ্কাকুল হইয়া উঠিত। পানশালা হইতে বাহির হইয়া, কুমদ অমনিবস লইল। হবণে একটি বন্দকের দোকানে গিয়া, একটি রিভলভার ও আপ ডজন টোটা খরিদ করিল। কোটের ভিতরদিককার বকপকেটে সেগলি লুকাইয়া নিজ কলেজের কমন-রমে গিয়া কতকগুলি পত্র লিখিতে বসিল। কৃতীয় পরিচ্ছেদ কুমদ বসিয়া একে একে অনেকগুলি চিঠি লিখিল। ভারতবষের জন্য দইখানি মার—বাকীগুলি এখানকার বন্ধবোন্ধবকে। যাহাদের যাহাঁদের নিকট টাকা ধার লইয়াছিল, তাহাদিগকে লিখিল—“দেশে আনি পত্র লিখিতেছি, আমার দোকানের যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে সেখান হইতে তোমাদের টাকাগুলি পরিশোধ হইবে। তাহা যদি না থাকে, তবে ভাই সে টাকা আমায় ঋণ দিয়াছিলে বলিরা আর মনে করিও না, তোমাদের হতভাগা বন্ধকে অসময়ে দান করিয়াছিলে বলিয়াই ধরিয়া লইও " ল্যান্ডলেডিকে লিখিল— “আমার বহি, জিনিষপত্র বেচিয়া তোমার প্রাপ্য টাকা লইও। যদি কিছু উবত্ত থাকে, তবে তাহা ভিখারীদের দান করিও।” আর একজনকে একখানি পত্র কুমদ লিখিবে ভাবিল। কলম হাতে করিয়া অনেকক্ষণ বসিয়া রহিল। শেষে না লেখাই স্থির করিল। পত্রগুলি পকেটে লইয়া কুমন্দ উঠিল; রাত্রি তখন আটটা, কিন্তু গ্রীষ্মকালে এ সময়ে লন্ডনে সুস্পষ্ট দিবালোক। কলেজ হইতে বাহির হইয়া, একটা পোস্ট-আপিসে দইখানি টিকিট খরিদ করিয়া, ভারতবষীয় চিঠি দুইখানিতে লাগাইল। সে দুখানি ডাকে ফেলিতে ষাইতেছিল—কিন্তু ভাবিল, না, অন্যান্য চিঠিগুলির সহিত এ দখেনিও পকেটেই থাকুক, কল্য পলিস এগুলি পোস্ট করিয়া দিবে। - পকেটে হাত দিয়া দেখিল, রিভলভার ও ডাকটিকিট কিনিয়া চারিটি পেনি অবশিষ্ট আছে। অমনিবাসে এক পেনি এবং হাইড পাকে যে চেয়ারখানিতে বসিয়া অন্ধকার રસનાe