পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রায়ু বাহাদর বলিলেন, “আচ্ছা, আর একটা কথা জিজ্ঞাসা করি, তার পর মাকে ছাঁট দিই।”—বলিয়া নন্দরাণীর সকধে হস্তাপণ করিয়া তাহার দিকে ঝকিয়া বলিলেন, “হ্যাঁ মা, আমার মাথার পাকাচল তুলে দিতে পারবে - দপুরবেলা, খেয়ে ষখন আমি শোব, বিছানায় তোমার এই বড়ো নতুন বাবটির কাছে বসে বসে, একটি একটি করে পাকাচল তুলে দিতে পারবে কি ?— এটি বোধ হয় শেখনি, কি বল মা ?—তোমার বাবার মাথায় ত পাকাচল নেই!”—বলিয়া তিনি উচ্চহাস্য করিয়া উঠিলেন। নন্দরাণীর মখেও ঈষৎ হাস্যসঞ্চার হইল। মুখটি তুলিয়া সে রায় বাহাদরের মস্তকখানির দিকে চাহিল। দেখিল, সেখানে “কলে সজেন ইব” চলের সংখ্যা খুবই কম এবং দরে দরোন্তে অবস্থিত। তাহার মৌনকেই সম্পমতিজ্ঞান করিয়া রায় বাহাদর বলিলেন, “আচ্ছা মা, সে পরীক্ষাও হবে । ষাও এখন বাড়ীর ভিতরে যাও।” বাহিরে ঝি দাঁড়াইয়া ছিল। নন্দরাণী তক্তপ্লোষ হইতে নামিবামাত্র, সে আসিয়া তাহার হস্তধারণ করিয়া অন্তঃপরে লইয়া গেল। च्चिद्धौब्र अब्रिटझन বৈঠক হইতে হকাটি তুলিয়া লইয়া প্রায় এক মিনিট কাল রায় বাহাদর নীরবে ধমপন করিলেন। পরে হকা দগাচরণবাবর হাতে দিয়া বলিলেন, “তার পর ভায়া, কবে বিয়ে দেওয়া তোমার মত বল। ঐ যা একবারে আপনি থেকে তুমি বলে ফেললাম !" দগণচরণবাব বললেন, “তুমিই বলন। আপনি বললেই বরং আমাকে লজ্জা দেওয়া হয়। আমি আপনার চেয়ে সব বিষয়েই ছোট। বয়সে—ধনে—মনে—” রায় বাহাদর বললেন--"হাঁ হে, হ্যাঁ, তুমি বয়সে আমার চেয়ে ছোট তা ত স্বীকারই করছি। তা বলে, চল পেকেছে বলেই আমি যে খব বড়ো হয়ে গেছি তা ভেব না— হা হা হা।”—বলিয়া তিনি দগণচরণবাবর পন্ঠ চাপড়াইয়া দিলেন। পারিষদগণও খুব হাসিতে লাগিল। দগাচরণবাক হাসিতে হাসিতে বলিলেন, "যবে অনুমতি করেন তবেই বিবাহ হতে পারে। এই ফাল্গুন মাসেই হোক। তবে আমি অতি সামান্য লোক—গরীব-” রায় বাহাদর বলিতে লাগিলেন, গরীব ত হয়েছে কি ? গরীব ত হয়েছে কি ? গরীবই বা কিসের ? তুমি কি কার কাছে ভিক্ষা চাইতে গিয়েছ , আর হলেই বা গরীব ? গরীবের মেয়ের কি বিয়ে হবে না ? সে আইবড়ো থাকবে ? হিন্দুশাস্ত্রের এমন বিধান নয়। তুমি বোধ হয় আজকালের বরপণ প্রথা ভেরে এ কথা বলছ ? সে প্রথার আমি বিরোধী—ভয়ঙ্কর বিরোধী।" দগাচরণবাব বললেন, “অজ্ঞে হ্যাঁ, সেই কথা শ্যনেই ত—” “শুনেই ত কি ? পড়নি? আমার সামাজিক-সমস্যা-সমাধান কেতাব পড়নি? তাতে বরপণ বলে একটা চ্যাপ্টারই যে রয়েছে। বরপণ প্রথাকেই আমি যাচ্ছেতাই করে গালা দিয়েছি—একেবারে যাচ্ছেতাই করে—পড়ান ?” দুগোচরণবাব বলিলেন, “পড়েছি বই কি। আপনার বই কে না পড়েছে? আপনি একজন বিখ্যাত গ্রন্থকার।” রায় বাহাদর বললেন, “কোথা বিখ্যাত –হাঁ—বঙ্কিম একজন বিখ্যাত গ্রন্থকার বটে। সে আমার ছেলেবেলাকার বন্ধ কিনা। প্রেসিডেন্সি কলেজে একসঙ্গে আইন পড়তাম। আজকের কথা ? বঙ্কিমের খাব নাম হয়েছে বটে। তার একখানি নতুন বই বেরিয়েছে, রাজসিংহ। পড়েছ ; হম হম করে বিক্ৰী হচ্ছে। অথচ আমার বই পোকায় কাটছে, কেউ কিনছে না। তাই གཱཧཱ་ཨཱ་ཝ་ বলছিলাম সে দিন।” ●