পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উমাপ্রসাদ পিতার কথার কিছই অর্থগ্রহণ করিতে পারিল না। বলিল—“বাবা ! আপনি কি বলছেন ?” কালীকিঙ্কর বলিলেন—“বাবা। আমার বড় সৌভাগ্য। যে কুলে জন্মেছি তা পবিত্র হ’ল। বাল্যকালে কালীমন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছি, এত দিন যে সাধনা, যে আরাধনা করলাম, তা নিমফল হয়নি। মা জগন্ময়ী কৃপা করে ছোটরউমার মাত্তিতে আমার গহে স্বয়ং অবতীর্ণ হয়েছেন। গত রজনীতে স্বপনযোগে আমি এই প্রত্যাদেশ পেয়েছি। আমার জীবন ধন্য হ’ল।” দয়াময়ী ছিল মানবী—সহসা দেবীত্বে অভিষিক্ত হইল। পধেবাক্ত ঘটনার পর তিন দিন অতিবাহিত হইয়াছে; এই দিবসত্ৰয়ে এ সংবাদ বহন্দরে ব্যাপ্ত হইয়া গিয়াছে। আশে-পাশের বহ গ্রাম হইতে বহুজন আসিয়া প্রসিদ্ধ শাক্ত-জমিদার কালীকিংকর রায়ের বাটীতে দয়াময়ী-রাপিণী আদ্যশক্তিকে দশন করিয়া গিয়াছে। দয়াময়ীর রীতিমত পজা আরম্ভ হইয়াছে। ধাপ দীপ জালিয়া, শঙ্খ ঘণ্টা বাজাইয়া, যোড়শোপচারে তাঁহার পজো হয়। এ কয়দিনে দয়াময়ীর সম্মুখে বহুসংখ্যক ছাগবলি হইয়া গিয়াছে। কিন্তু এ তিন দিন দেবতার প্রজা পাইয়াও দয়াময়ী কেবল কাঁদিতেছে। আহার নিদ্রা এক প্রকার ত্যাগ করিয়াছে বলিলেই হয়। এই আকস্মিক অদ্ভুত ঘটনায় তাহাকে এমন অভিভূত বিপর্যস্ত করিয়া ফেলিয়াছে যে, সে দই দিন আগে এ বাটীর বধ ছিল, শ্বশর ও ভাসরের সাক্ষাতে বাহির হইত না, এ সমস্তই বিস্মত হইয়াছে। এখন আর তাহার মখে অবগুণ্ঠন মাই—যাহার তাহার পানে শান্য-দটিতে পাগলিনীর মত চাহিয়া থাকে। তাহার কন্ঠস্বর অত্যন্ত মন্দভাবাপন্ন হইয়াছে, রক্তবর্ণ চক্ষ দুইটি ফলিয়াছে, বেশবাস সসম্ভবত নহে। রাত্রি দ্বিপ্রহর। পাজার ঘরে একটি কোণে ঘন্তদীপ মিটি মিটি করিয়া জনলিতেছে। পর কবলের বিছানায় রেশমী বসের আবরণ, তাহার উপর দয়াময়ী শয়ন করিয়া আছে ? গায়ে একখানি মোটা শাল। দয়ার বন্ধ ছিল মাত্র, অগলিত ছিল না। অত্যন্ত ধীরে ধীরে সে দয়ার খলিতে লাগিল। চোরের মত সন্তপণে উমাপ্রসাদ প্রবেশ করিল। দয়ার বন্ধ করিয়া খিল দিল। উমাপ্রসাদ দয়াময়ীর বিছানায় আসিয়া বসিল। সে দিন উষাকালের ঘটনার পর সন্ত্রীর সহিত এই তাহার প্রথম নিভৃত সাক্ষাৎ। দয়াময়ী জাগিয়া ছিল, সবামীকে দেখিয়া উঠিয়া বসিল। উমাপ্রসাদ বলিল—“দয়া ! একি হ’ল ?” আঃ—আজ তিন দিনের পর দয়া স্বামীর মুখে একটি স্নেহমাখা কথা শুনিল। এতিন দিন কাল ভক্তগণের মা মা' শব্দে তাহার হদয়দেশ মরুভূমির মন্ত শঙ্কে হইয়া পড়িয়াছিল। স্বামীর মুখনিঃসত এই আদরের বাণী তাহার প্রাণে যেন অকস্মাৎ সন্ধাবটি করিয়া দিল। দয়া সবামীর বকে মুখ লুকাইল। উমাপ্রসাদ পত্নীর গায়ের শাল মোচন করিয়া তাহাকে বক্ষে চাপিয়া ধাঁরল। উচ্ছসিতসবরে বারংবার বলিতে লাগিল—“দয়া ! একি হ’ল—একি হ’ল ?” দয়া নিবাক । উমাপ্রসাদও কিয়ৎক্ষণ নীরব রহিল। তারপরে বলিল--"দয়া! তোমার কি মনে হয় যে এ কথা সত্যি ? তুমি আমার দয়া নও, তুমি দেবী ?” এইবার দয়া কথা কহিল,—বলিল—“না, আমি তোমার স্ত্রী ছাড়া আর কিছু নই, আমি তোমার দয়া ছাড়া আর কিছ নই—আমি দেবী নই--আমি কালী নই।” এই কথা শুনিয়া উমাপ্রসাদ সাগ্রহে স্মীর মুখচন্বন করিল। —“দয়া ! তবে চল, আমরা এখান থেকে পালিয়ে যাই। এমন কোনও দরদেশে গিয়ে থাকব, যেখানে কেউ আর আমাদেব সন্ধান পাবে না।” lケ> - بین معته (S