পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খলিয়া রাখিয়া, পা দটি বেষ্টির উপর তুলিয়া গান্ধবল্মখানি বেশ করিয়া ঢাকা দিয়া বসিয়া, তাম্বল চাবণ ও ধর্মপানে প্রবাহ হইলেন। চারিদিকে খোলা মাঠ হয় হল করিয়া হাওয়া আসিতেছে। কিছুক্ষণ পরেই গোবধানবাবুর শাঁতবোধ হইতে লাগিল। কোথায় বাড়ীতে এতক্ষণ চারিদিকে দয়ার জানাল বন্ধ করিয়া লেপ মাড়ি দিয়া শয়ন, কোথায় এই তেপান্তরের মাঠে এই কণ্টভোগ! যদি না মেয়ে দেখিতে আসিতেন, তাহা হইলে ভ এই কামভোগ হইত না ! মেয়ের বাপের জলযোগের অনাবশ্যক আড়ম্বর করিয়া গাড়ী ফেল করিয়া দিয়াছে বলিয়া তাহদের উপর রাগ হইল; বিধবা ভ্রাতৃজায়ার উপর রাগ হইল--ছেলের বিবাহের জন্য এত তাড়াতাড়িই কেন তাহার ? গোবদ্ধনবাব বলিয়াছিলেন, এ বছরটা যাক, আসছে বছর ভখন দেখা যাবে—সে কথা তিনি কোন মতেই শুনিলেন না ! বধ আসিয়া কি চতুৰ্ভুজ করিয়া দিবে ? বাল্য-বিবাহের উপরও তাঁহার রাগ হইতে লাগিল । শীতে কাঁপিতে কাঁপিতে প্রতিজ্ঞা করিলেন, এবার বাল্য-বিবাহকে আচ্ছা করিয়া গালি দিয়া একখানি নতন ধরণের উপন্যাস তিনি লিখিবেন। কিয়ৎক্ষণ পরে সিড়িতে জুতার শব্দ উঠিল। প্লাটফর্মের উপর খানিকটা আলোক আসিয়া পড়িল। বাতি হাতে করিয়া ছোটবাব আসিলেন: আপিস কামরা খুলিয়া প্রবেশ করিয়া দরজাটি ভেজাইয়া দিলেন। আরও কিয়ৎক্ষণ শীতভোগ করিবার পর গোবদ্ধ নবাব ধৈয্য হরাইলেন। উঠিয়া গিয়া দরজাটি ফাঁক করিয়া বললেন, “টেশন মাস্টারবাব, পৌনে দুটোর গাড়ীর ত এখনও অনেক দেরী, বাইরে বস্ত শীত, ভিতরে এসে কি বসতে পারি?”—বাবটি স্টেশন মাস্টার নহেন, ছোটবাব মাত্র তাহা গোবধানবাব জানিতেন; কিঞ্চিৎ খোসামোদ করার অভিপ্রায়েই ওরপে সম্ভাষণ করিলেন। ছোটবাব বললেন, “আসন।” প্রবেশ করিয়া গোবদ্ধ নবাব একখানি পিঠভাঙ্গা চেয়ারে বসিলেন। এইবার ভাল করিয়া দেখিলেন, ছোটবাবর বয়স ৪০ বৎসরের উপরে উঠিয়াছে। সাদা জিনের পাণ্টালনের উপর কালো মোটা গরম কোট পরিয়া রহিয়াছেন। মোটা মোটা গোল গোল বোতামগলাতে কি সব ইংরাজি অক্ষর লেখা। টেলিগ্রাফের কলের কাছে বসিয়া খটে খাট করিয়া কাজ করিতেছেন। গোবদ্ধ নবাব যেখানে বসিয়াছিলেন, তাহার কাছে ল’বা গোছের একটি টেবিল তাহার উপর ঘষা কাঁচের একটি সরু উচ্চ লণ্ঠন রক্ষিত, লাইন ক্লিয়ার বহি ও অন্যান্য খাতাপত্র যথাতথা ছড়ান, একটি টিনের গ’দ-দানি, অপর একটি টিনের আধারে তেলকালীর প্যাড এবং সেই স্টেশনের একটি মোহরছাপ, সীসার কাগজ চাপা, একগাছা রল—এই সব দ্রব্য রহিয়াছে। ছোটবাব তারের কাজ শেষ করিয়া, আগন্তুকের প্রতি চাহিয়া একটি হাই তুলিলন। দাঁড়াইয়া উঠিয়া, হাত দটি পিঠের দিকে করিয়া গা ভাঙ্গিলেন। তাহার পর একটি দেরাজ ধরিয়া খড় খড় করিয়া টানিয়া, তাহার মধ্য হইতে একখানি বহি বাহির করিয়া, আলোকের নিকট সরিয়া আসিয়া পড়িতে বসিলেন। গোবদ্ধ নবাব গলটি বাড়াইয়া দেখিলেন, বহিখানি তাঁহারই প্রণীত "ভীষণ রক্তারক্তি” নামক উপন্যাস। গোবদ্ধ নবাব নতেন লেখক নহেন যাহদের বহি বৎসরের পর বৎসর সিন্ধক বা আলমারিতে কীটভোগ্য হইয়া বিরাজ করে সে শ্রেণীর গ্রন্থকার নহেন; তথাপি এই দর পল্লীতে একজনকে নিজ পসস্তকপাঠে নিবিচটচিত্ত দেখিয়া তাঁহার মনটা উল্লসিয়া উঠিল। তাঁহার শীত কোথায় চলিয়া গেল ! ছোটবাব একমনে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উলটাইয়া পড়িয়া যাইতে লাগিলেন। গোবধানবাহু এণ্টে জহর মধ্যে পান য়ু ছিলেন। আত্মপ্রসাদে তাঁহার মন ভাঁরয়া