পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দয়া বলিল—“তাই চল। কিন্তু কি উপায়ে যাবে ?” উমাপ্রসাদ বলিল—“সে সমস্ত আমি ঠিক করব, কিছু সময় যাবে।” দয়া বলিল—“কবে ? কবে ? শীগগির ঠিক কর—নইলে বেশী দিন আমি বাঁচব না। আমার প্রাণ ওষ্ঠাগ্রত হয়েছে। যদি মৃত্যুও না হয়, তবে আমি পাগল হয়ে যাব।" উমাপ্রসাদ বলিল—“না দয়া!—তুমি কিছ ভেবো না। দিন সাত তুমি খৈয ধরে থাক। আজ শনিবার। আগামী শনিবার রাত্রে তোমার কাছে আসব আবার—তোমাকে নিয়ে গছত্যাগ করব। এই সাত দিন তুমি আশায় বক বেধে কাটিয়ে দাও, ল্যাণী আমার সোণা আমার।” দয়া বলিল—“আচ্ছা।” উমাপ্রসাদ বলিল—“এখন তবে যাই, কেউ আবার এসে না পড়ে”—বলিয়। সে পত্নীকে গাঢ় আলিঙ্গন করিষা বিদায় লইল। পরদিন প্রভাতে দয়াময়ীর পজা যখন প্রায় শেষ হইয়া আসিয়াছে, তখন গ্রামের একজন অশীতিবষী-বয়স্ক বন্ধ লাঠিতে ভর করিয়া আসিয়া উপস্থিত হইলেন । তাঁহার কোটরান্তগত চক্ষ দিয়া দর দর ধারায় অশ্র প্রবাহিত হইতেছে। আসিয়াই দয়াময়ীকে দেখিয়া গলবস্ত্র হইয়া তাহার সম্মখে জান পাতিয়া যন্ত্ৰকরে বলিতে লাগিলেন--"মা ! আমি চিরকাল তোমায় পুজো করে এসেছি। আজ আমার বড় বিপদ মা ! আজি ভক্তকে রক্ষা কর।” দয়াময়ী বন্ধের পানে ফ্যাল ফ্যাল করিয়া চাহিয়া রহিল। পুরোহিত বললেন— “কেন দাদা ! তোমার কি বিপদ হয়েছে ?” বন্ধ বলিলেন—“আমার নাতিটি কয়দিন জরবিকারে ভূগছিল। আজ সকালে কবরেজ জবাব দিয়ে গেছে। সে না বাঁচলে আমার বংশলোপ হবে আমার ভিটেয় সন্ধ্যে দেবার আর কেউ থাকবে না। তাই মার কাছে তার প্রাণীভক্ষা চাইতে এসেছি।" কালীকিঙ্কর চণ্ডীপাঠ করিতেছিলেন, তিনি বন্ধের দঃখে নিরতিশয় দুঃখিত হইয়া দয়াময়ীর মুখের পানে চাহিয়া বলিলেন—“মা গো ! বড়োর নাতিটিকে বাঁচিয়ে দিতে হবে মা—বলিয়া তিনি বন্ধকে বলিলেন—“দাদা! তোমার নাতিকে এনে মার পায়ের কাছে ফেলে রাখ, যমের বাবার সাধ্য হবে না এখান থেকে নিয়ে যেতে।” এই কথা শুনিয়া বন্ধ মহা আশকত হইলেন। বটিতে ভর দিয়া গহাভিমুখে ছটিলেন । একদণ্ডকাল পরে বিধবা পত্রবধর কোলে নাতিটির সহিত বন্ধ ফিরিয়া আসিলেন। দয়াময়ীর পদতলে বিছানা করিয়া মতকল্প শিশুটিকে রাখা হইল। কেবল মাঝে মাঝে চরণামতের পাত্র হইতে কুশি করিয়া একট একট চরণামত লইয়া পরোহিত তাহার মাখে দিতে লাগিলেন । শিশুর মাতা বিধবা যাবতী, দয়াময়ীর সখী । তাহার ব্যথাকাতর মুখ দেখিয়া দয়াময়ীর হাদয় ব্যথিত হইল। শিশুটির পানে চাহিয়া দয়াময়ীর চক্ষে অশ্র ভরিল। একান্ত মনে দেবতাকে প্রাথনা করিতে লাগিল, “হে ঠাকুর, আমি দেবতা হই, কালী হই, মানন্য হই, যেই হই—এই ছেলেটিকে বাঁচয়ে দাও ঠাকুর।” দয়াময়ীর চক্ষে অশ্রা দেখিয়া সকলে বলিয়া উঠিল—“জয় মা কালী, জয় মা দয়াময়ী, মায়ের দয়া হয়েছে—মায়ের চোখে জল।” কালীকিংকর দিবগণ ভক্তির সহিত চণ্ডীপাঠ করিতে লাগিলেন। বেলা যত বাড়িতে লাগিল, শিশুটির অবস্থা উত্তরোত্তর ততই ভাল হইতে লাগিল। সন্ধ্যার পর্বে সকলে মত প্রকাশ করিলেন, আর শিশুর জীবনের কোনও আশঙ্কা নাই, স্বচ্ছন্দে বাড়ী পাঠাইয়া দেওয়া যাইতে পারে। দয়াময়ীর দেবীত্ব আবিৎকারের সংবাদ যত না শীঘ্ৰ চৌদিকে ব্যাপ্ত হইয়াছিল, তাহার কৃপায় মন্মষে শিশর প্রাণরক্ষার সংবাদ অতি সত্বর প্রচারিত হইরা পড়িল। পর দিন প্রতেই অপর একজন আসিয়া দয়াময়ীর চরণে নিবেদন জানাইল যে, তাহার কন্যাটি আজ ケ求