পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিন দিন হইতে প্রসব যন্ত্রণায় অস্থির,—মেয়ে বঝি বাঁচে না। কালীকিংকর বলিলেন— "তার জন্যে আর চিন্তা কি ? মার চরণামত নিয়ে গিয়ে মেয়েকে পান করয়ে দাওগে । এখনি আরাম হবে।” সে ব্যক্তি গলদশ্রলোচনে দয়াময়ীর চরণামতের পাত্রটি মাথায় বহন করিয়া লইয়া গেল। বেলা এক প্রহর অতীত হইবার পর্বেই সংবাদ আসিল, মেয়েটি চরণামত পান করিবার করিয়াছে। আজ শনিবার। আজ উমাপ্রসাদ সন্ত্রীকে লইয়া গোপনে পলায়ন করিবে। সে সমস্ত আয়োজন করিয়াছে। অর্থ সংগ্ৰহ করিয়াছে। মশিদাবাদ কিমা রাজমহল কিমবা বন্ধমান এরুপ কোনও নিকটবত্তী প্রসিদ্ধ স্থানে সে যাইবে না;—যাইলে ধরা পড়িবার সম্ভাবনা। নৌকাপথে পশ্চিম যাইবে। অনেক দরে যাইবে;–কোথায় এখনও তাহার কিছু স্থিরতা নাই। হয় ভাগলপুর, নয় মঙ্গের। সেখানে চাকরির চেষ্টা করিবে। পথ-খরচের মত অথ তাহার নিকট আছে। তাহার সন্ত্রীর গায়ে যাহা অলঙ্কার আছে, তাহা বিক্রয় করিলে কোন না দুই বৎসর উভয়ের প্রাসাচ্ছাদন চলিতে পারবে ? দই বৎসরেও কি তাহার একটা চাকরি জটিবে না ? নিশ্চয় জটিবে। চেন্টার অসাধ্য কিছু আছে নাকি ? এইরূপ নানা চিন্তায় উমাপ্রসাদ দিবাভাগ অতিবাহিত করিল। ক্ৰমে সন্ধ্যা হইল। আজ সে দয়াময়ীর আরতি দেখিবে । একদিনও ত দেখে নাই। যখন শঙ্খ ঘণ্টা ধননিতে চণ্ডীমণ্ডপ ফাটিয়া যায়, পজো আরম্ভ হয়, তখন উমাপ্রসাদ বাড়ী ছাড়িয়া গ্রামের বাহিরে পলায়ন করে । আজ দয়াময়ীর শেষ আরতি, আজ সে দেখিবে। দেখিবে আর মনে মনে হাসিবে। কল্য প্রভাতে পরোহিত ঠাকুর যখন সৰ্ববৰ্ণগ্রে আসিয়া দেখিবেন যে দেবী অন্তধান করিয়াছেন তখন তাঁহার কিরুপ অবস্থা হইবে, তাহাই উমাপ্রসাদ কপেনা করিতে লাগল। রাত্রি বিপ্রহর সমাগত। গহস্থ সকলে নিদ্রাগত। চোরের মত উমাপ্রসাদ শয্যাতাগ করিল। অন্ধকারে ধীরপদে পাজার ঘরের দিকে অগ্রসর হইল। ধীরে ধীরে দ্বার মোচন করিয়া ভিতরে প্রবেশ করিল। কোণে সেইরাপ ঘতদীপ মিটি মিটি করিয়া জলিতেছে। দয়াময়ীর শয্যায় উমাপ্রসাদ গিয়া বসিল। দয়াময়ী নিদ্রামগন। প্রথমে উমাপ্রসাদ সস্নেহে দয়াময়ীর মুখচমবন করিল। পরে গা ঠেলিয়া তাহাকে জাগাইল। নিদ্রাভঙ্গে দয়াময়ী ধড়মড় করিয়া বিছানায় উঠিয়া বসিল। উমাপ্রসাদ বলিল—“দয়া—এত ঘমে ? ওঠ, চল।” দয়; বিসিমতের মত বলিল—“কোথায় ?” “কোথায় ?—যাবার সময় তুমি জিজ্ঞাসা করছ কোথায় –চল, আজ রাত্রে নোঁকে ফরে আমরা পশ্চিমে চলে যাই।” দয়া কিয়ৎক্ষণ নীরবে চিন্তা করিল। উমাপ্রসাদ বলিল—“ওঠ-ওঠ, পথে গিয়ে ভেবো এখন। সব ঠিকঠাক করে রেখেছি। চল চল ।” এই কথা বলি:- উমাপ্রসাদ সন্ত্রীর হস্তধারণ করিল। দয়া সহসা হাত ছাড়াইয়া লইয়া বলিল— তুমি আর সন্ত্রীভাবে আমাকে সপশ করে: না। আমি যে দেবী নই, আমি যে তোমার স্ত্রী, তা আর আমি নিশ্চয় করে বলতে পারিনে।” - কথাটা শনিয়া উমাপ্রসাদ হাসিয়া উঠিল। স্ত্রীর গলা ধরিয়া তাহাকে চন্বন করিতে মইতেছিল। কিন্তু দয়াময়ী সহসা তাহার নিকট হইতে অপসত হইয়া দরে বসিল । খলিল—“না না, হয় ত তোমার অকল্যাণ হবে।” এ কথায় উমাপ্রসাদ যেন বজাহত হইল। বলিল—“দয়া, তুমিও পাগল হলে ?” ...গ্লুবুলিল-"তবে এত লোকের রো আরম হল কেন? তা হলে কি দেশসদ্ধ লোক Eూ చి