পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গোলমাল না হয়, এই আর কি।” নিতাই বলিল, “দাদ ও কথা আমায় কেন বলছেন ? আপনি ত জানেন, বিষয়বন্ধি আমার কম –আমি ও সব কিছ জানিও না, বুঝিও না। ও সব সম্বন্ধে আপনি যা ভাল বোঝেন, তাই করুন।” অদ্বৈত কিয়ৎক্ষণ ভাবিল। শেষে বলিল, “তা বেশ। যেমন আমরা আছি, সেই রকমই থাকি। ভেন্ন হওয়া ত ভাল নয়, লোকতঃ ধৰ্ম্মতঃ দই হিসেবেই খারাপ। তবে বুঝলে কিনা ভাই, একে কলিকাল, তার উপর তুমি ইংরাজি পড়েছ। গোড়া বোধে কাজ করা ভাল। আমার উপরেই তুমি যখন ভার দিচ্ছ, আমার যা মৎলব তা তোমায় বলি শেন ৷” নিতাই নির্যপায় ভাবে দাদার পানে চাহিয়া রহিল। তাহার ভাবটা যেন, “এই সব বাজে কথা আমায় না শনাইয়া যখন ছড়িবেই না, তখন বল, শনিতেই হইবে।” অদ্বৈত বলিল, “আমি বলি ষে, ব্যবসা যেমন চলছে তেমনি চলকে। বাবা যেমন গদীর কাজকম সব নিজে দেখতেন, আমাকেও সেইরকম দেখতে হবে। আমার খাটনী খুব বড়বে—তা আর কি করবো ?—তারপর দোকানের খরচ আর ন্যায্য সংসার খরচ বাদে যেটা মনেফা হবে, সেইটে আধাআধি বখরা করে, আমার হিসা আমার নামে তোমার হিস্যা তোমার নামে খাতায় জমা করা থাকবে। কি বল ?” “যে আজ্ঞে"—বলিয়া পলায়ন চেষ্টায় নিতাই উঠিয়া দাঁড়াইল। অদ্বৈত বলিল, “বস বস। আরও কথা আছে. শোন ;* নিতাই নিতান্ত নিরপোয় ভাবে আবার বসিয়া পড়িল। অদ্বৈত বলিল, “মনেফার টাকা, ধর, তোমার হিসা আমার হিসা খাতায় জমা হল। তার পর সে টাকাটা"—বলিয়। অদ্বৈত ভ্ৰকুঞ্চিত করিয়া, টাকাটার গতি কি হবে, তাহাই বোধ হয় ভাবিতে লাগিল। ক্ষণপরে বলিল, “সে টাকাটার সমস্তই কি আমরা তুলে নেব? ন-তার কিছু অংশ ব্যবসতেই আবার ফেলব ? তোমার মত কি ?” “যেটা ভাল হয়—” “আমার মত, কিছু টাকা, শতকরা পঞ্চাশ টাকা অন্ততঃ বছর কতক এখন ব্যবসাতেই ফেলা যাক। বাবা যখন আরম্ভ করেছিলেন, তখন কখনোই বা দোকান ছিল –এখন দেখ, গঙ্গার ধারটা কাঠের আড়াতে আড়তে ছেয়ে গেছে। কারবারটা একটু ফলাও না করলে শেষে আমরা দাঁড়াতেই পাব না-মালপত্তর কিছ বেশী রাখা দরকার।” “যে অজ্ঞে”—বলিয়া নিতাই উঠিল। ধীরে ধীরে দাদার ঘর হইতে বাহির হইয়া, বাকী পথ দ্রতপদে অতিক্ৰম করিয়া তেতলায় সে নিজের পড়িবার ঘরে উপনীত হইল। বার একবারে বন্ধ করিয়া দিয়া, জানালার কাছে একখানা চৌকিতে বসিয়া পড়িয়া হাঁফাইতে লাগিল। একে ব্যবসার প্রসঙ্গ, তাও আবার শাকং কাঠং ! বখরা আর হিসা আর মনফা –দাদার যেমন কাণ্ড !—নিতাইয়ের শবাস বন্ধ হইয়া আসিয়াছিল আর কি ! খোলা জানালা দিয়া রবিকরোক্তজবল নীল আকাশের দিকে অনেকক্ষণ চাহিয়া থাকিয়া, নিতাই ক্ৰমে প্রকৃতিস্থ হইয়া উঠিল। তাহার পর উঠিয়া, টেবিলের উপর হইতে একখানি । বাঁহ আনিয়া মদম্বেরে পড়িতে লাগিল— আজ বসন্তে বিশ্বখাতায় হিসেব নেইক পক্ষেপ পাতায় झेऊार्गान् । দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ উঠিয়া পড়িয়া লাগিল। প্রথমে অদ্বৈত দোকানের গদীকে “আপিসে পরিণত করিল। দইখানা ভাঙ্গা নড়বড়ে USసి